আন্দোলনের সুযোগে 'জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা' গড়ে তুলুন

আন্দোলনের সুযোগে ‘জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা’ গড়ে তুলুন

0

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ শরীফ, ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, অধ্যাপক হাসিনা বেগম এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের স্বত:স্ফুর্ত অহিংস আন্দোলনে বিভিন্ন মহলের উসকানি ও হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভূতপূর্ব এই আন্দোলনকে বিভ্রান্ত ও বিতর্কিত না করে ‘জনবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটাকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে সরকারসহ সকল রাজনৈতিক দল ও সংগঠনসমূহের প্রতি আহবান জানান।নেতৃবৃন্দ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় সহপাঠী নিহতের কারণে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় বিরাজমান নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। ফলে গোটা দেশবাসী সমর্থন করেছে। অথচ ন্যায়সঙ্গত এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা পুরানো কৌশলে গণপরিবহন বন্ধ রেখে আবারও প্রমাণ করলো তারা নৈরাজ্য বহাল রাখতে চা্য়। সরকারও এক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। অন্যায়ের কাছে এটি সরকারের নতিস্বীকার, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একটি নিরাপদ জনবান্ধব সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা আমাদের জাতীয় স্বর্থেই প্রয়োজন, যা পরিবহনের মালিক-শ্রমিক এবং সর্বসাধারণের জন্য কল্যাণকর। অথচ চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে সম্ভব হচ্ছে না।
বাস্তবতা হলো দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় পরিবহন কৌশল, আইন-কানুন ও নীতি-নৈতিকতার তেমন কোনো গুরুত্ব ও প্রয়োগ নেই। ফলে সড়কে অসহনীয় যানজট এবং মানুষের মৃত্যুর মিছিল ক্রমাগত দীর্ঘ হচ্ছে। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য একটি যুগোপযোগী সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন যাবৎ সভা-সমাবেশ সেমিনার গোলটেবিল বৈঠক করে আসছে। কিন্তু কোনো সরকারই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি, বরং তারা পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের নৈরাজ্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। যার পরিণতিতে এই জনপ্রশংসিত আন্দোলন। তাই, জনআকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করে সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং জনসাধারণ সকল পক্ষের স্বার্থ সুরক্ষামূলক একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। উল্লেখ্য, আইনে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালকদের সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি তাদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা, সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়গুলোও থাকতে হবে। তা না হলে শুধু শাস্তির বিধান দিয়ে পরিবহন চালকদের কাছ থেকে ভালো সেবা পাওয়া সম্ভব নয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত সংযত কথাবার্তা এবং সংবেদনশীল আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ঘটানো। নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার উসকানি না দিতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহবান জানান।
(বার্তা প্রেরক, মোঃ ছানোয়ার হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।)

Share.
Loading...

Comments are closed.