চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ​কর ব্যবস্থাপনাকে ​জনবান্ধব ক​রার দাবি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ​কর ব্যবস্থাপনাকে ​জনবান্ধব ক​রার দাবি

0

নতুন করে গৃহ কর পুনমুল্যায়নের নামে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গৃহ কর এর পরিমান এক লাফে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ আশি হাজার টাকায় উন্নীত করা, গৃহ কর নির্ধারনে ভাড়া আদায়ের ভিত্তিতে গৃহ কর নির্ধারনের প্রক্রিয়ার কারনে সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স এখন বাড়ীর মালিকের কাছে আতংকের কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। গৃহ কৃর নির্ধারনে এক লাফে এতো কর বৃদ্ধি যেভাবে গ্রহন যোগ্য নয়, তেমনি গৃহ কর মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় বাড়ীর মালিকের উপস্থিতি নিশ্চিত ও সঠিক তথ্য নির্ভর না হওয়ায় প্রক্রিয়াটি ও সঠিক ছিল না। অন্যদিকে এভাবে গৃহ কর বৃদ্ধি করা হলে তার পুরো দায় ভার গিয়ে পড়বে ভাটাটিয়াদের উপর। সাধারন মানুষ এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্য, সেবা সার্ভিসের মূল্যবৃদ্ধি, ভ্যাট, ট্যাক্সসহ নানা ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের ভারে জর্জরিত। সেখানে সিটিকর্পোরেশনের গৃহ করের এক ধাপে ১০গুনের বেশী বৃদ্ধি মানুষের ভোগান্তির মাত্রা আরো বৃদ্ধি করবে। যা পুরো নগরবাসীর জীবন যাত্রার উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং বর্তমান সরকারের জনপ্রিয়তাকে হুমকির মুখে ফেলবে। তাই অনতিবিলম্বে বর্ধিত গৃহ কর আদায় প্রক্রিয়া বন্ধ করে ধাপে ধাপে কর বৃদ্ধি ও কর মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে আরো স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে কর আদায়কে জনবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি।কর পূনঃ মুল্যায়নের নামে গৃহ কর বাড়ানোর সংবাদে একবিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এক লাফে বিপুল পরিমান কর আদায় যেভাবে গ্রহনযোগ্য নয়, তেমনি সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান নাগরিক সেবার মানও কর প্রদানের সাথে জড়িত। বিশেষ করে নগর জুড়ে ভাঙ্গা রাস্তা নগরবাসীর জন্য যেমনি যন্ত্রণার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে তেমনি যত্রতত্র ময়লার স্তুপ পুরো নগরী যেন আবর্জনার ডিপোতে পরিনত হয়েছে। ধুলাবালির যন্ত্রণায় সর্দি, কাশি, হাপানী ও শ্বাস কষ্ঠের প্রার্দুভাব অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। নাগরিক সেবা প্রদানে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলি সমন্বয়ের অভাবে যে যেভাবে পারে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করায় উন্নয়ন প্রকল্পগুলি নরবাসীর জন্য আর্শীবাদ না হয়ে অভিশাপে পরিনত হয়েছে। অন্যদিকে বিকল্প ব্যবস্থা তৈরী না করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করা, সিংহভাগ জনগোষ্ঠির কথা চিন্তানা করেগুটি কয়েক লোকের কথা চিন্তা করে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহন করায় সাধারন জনগন এ সমস্ত উন্নয়ন প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করতে পারছে না। যার দায় ভার সিটি কর্পোরেশনের উপর পড়ছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন ক্যাব মাননীয় মেয়রে সাথে বেশ কয়েকবার মতবিনিময়ের সময় কর সিটিকর্পোরেশনের কর ব্যবস্থাপনায় ​ত্রু​টির কথা উত্থাপন করলেও তার কোন সুরাহা হয়নি। হোল্ডিং ট্যাক্স মূল্যায়নের সময় বাড়ীর মালিকের উপস্থিতিতে তথ্য যাচাই দরকার ছিলো। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জানা গেছে প্রতিবছর সিটিকর্পোরেশন এর রাজস্ব বিভাগের লোকজন বিভিন্ন বাড়ীর মালিককে বিশাল বিশাল অংকের হোল্ডিং ট্যাক্স এর নোটিশ দিয়ে থাকে এবং কর্পোরেশনে গিয়ে আপিল করার জন্য পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সেখানে আপোষ ফর্মুলায় নোটিশের ১/৩ ভাগ বা যে যেভাবে পারে রাজস্ব বিভাগের সং¯িøষ্ঠ সকলকে খুসি করতে পারলেই এখান থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে নীতিমালা না মেনে চলার কারনে ১০ গুনের বেশী হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানের নোটিশ দেয়া হচ্ছে এবং পরবর্তীতে আপোষরফার মাধ্যমে তা নিস্পত্তি করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বাড়ী ভাড়া নিয়ে ভাড়াটিয়ারা প্রতিনিয়ত হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছে। যে সমস্ত সমস্যা গুলি আছে তার মধ্যে প্রতি বছর বছর বিনা কারনে বাড়ী ভাড়া বৃদ্ধি, চুক্তিপত্র ছাড়া বাড়ী ভাড়া প্রদান, রশিদ ছাড়া ভাড়া গ্রহণ, সিটি কর্পোরেশনের গৃহকর, গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য চার্জ আদায়, বিল না দিয়ে বিলের অর্থ দাবী, বিনা নোটিশে বাড়ী ছাড়তে বলা, রাতে বেলায় বাসা ঢুকতে দারোয়ান কর্তৃক অসযোগিতার কারনে চট্টগ্রাম মহানগরীতে লক্ষ লক্ষ ভাড়াটিয়া বাড়ীওয়ালাদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। ভাড়টিয়াদের হয়রানি লাগবে সরকারী কোন কর্তৃপক্ষ নেই যেখানে এ বিষয়ে অভিযোগ নিস্পত্তি করা যায়। অন্যদিকে সিটিকর্পোরেশন ও কর বিভাগের একশ্রেণীর অসৎ কর্মচারীর দৌরাত্ত্য, এসেসমেন্ট, হোল্ডিং নাম্বার নাই ও মিথ্যা তথ্য প্রদান, হোল্ডিং ট্যাক্স এর জন্য বিশাল অংকের নোটিশ প্রদান, যেটি পরবর্তীতে অংকের ফিগার কমলেও দায়ভার সবকিছুই ভাড়াটিয়াদের ঘাড়েই পড়ে। সিটিকর্পোরেশন হোল্ডিং ট্যাক্স এর জন্য আপিল আবেদন কর্পোরেশনের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরা বসে বিষয়গুলি নিস্পত্তি করলেও সেখানে ভোক্তাদের কোন প্রতিনিধি থাকে না আর বিষয়টি অনেকটাই দেনদরবারের মতোই। ক্যাব সং¯​স্লিষ্ঠ সকল পক্ষের উপস্থিতিতে গণশুনানির ব্যবস্থার দাবি করলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি। এছাড়াও বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রন খাতে সরকারের পৃথক কর্তৃপক্ষ গঠন ও ক্রেতা-ভোক্তা হিসাবে প্রতারিত হলে যথাযথ আইনী ক্ষতিপুরন পাবার জন্য আইনী আশ্রয় লাভের জন্য বাড়ী ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৯১ এর আশু সংশোধণী দরকার। নগরীতে বাড়ীর মালিক ও ভাড়াটিয়াদের ডাটাবেস থাকা না থাকায় হোল্ডিং ট্যাক্স সহ অন্যান্য ট্যাক্স আদায়ে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির মাত্রা বাড়ছে। তাই সিটিকর্পোরেশন গৃহ কর আদায়ে নোটিশ প্রদান প্রক্রিয়া, হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারন, আদায় ইত্যাদি সব প্রক্রিয়া ডিটিজাইজড করা হলে এখাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে যাবে।
বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন – ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, সহ-সভাপতি এম নাসিরুল হক, মহানগর সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সহ-সভাপতি হাজী ইকবাল আলী আকবর, সাধারন সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক এএম তৌহিদুল ইসলাম, দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আলী মির্জা প্রমুখ।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম
CONSUMERS ASSOCIATION OF BANGLADESH(CAB) CHITTAGONG
House # 68 Road # 04 Block-B, Chandgaon R/A, Chittagong-4212, Bangladesh
Tel : 01554329254, 017111353431, 01713110054
Email: cab.chittagong@yahoo.com, cabchittgaong09@gmail.com, Web: www.consumerbd.org
“Consumers Right is Human Rights”

Share.
Loading...

Comments are closed.