চাল নিয়ে চালবাজি!

চাল নিয়ে চালবাজি!

0

মোতাহার হোসেন
চালের (চাউল) দাম এমনিতেই বেশি তার উপর এখন বাজারে ভাল,নির্ভেজাল চাল পাওয়াই যায়না। বাজার ভরা ভেজাল চালে। আপনি বাজার থেকে চিকন চাল কিনে আনবেন পাক করার পর দেখবেন মোটা চালের ভাত রান্না হয়েছে। এর উপর প্লাটিকের চালের বিড়ম্বনাতো রয়েছেই।
চাল উতপাদনকারি অথ্যার্ৎ চাষীরা কখনও এ তেলেসমাতির সাথে সংপৃক্ত নয়।তারা মোটা চালকে মোটা চাল বলে এবং চিকন চালকে চিকন চাল বলেই বিক্রি করে। কারসাজি যা হয় তা চালকলে; চালের মিলে।মিলে আসার পর সব মোটা চাল সরু চিকন চাল হয়ে যায়।যে দিন থেকে চালের বাজারজাত করন মিল মালিকের হাতে চলে যায় সে দিন থেকে চালের উপর চালবাজি শুরু হয়ে যায়।
একসময় খাদ্য সরবরাহ সরকারের নিয়ন্ত্রনে ছিল। এর জন্য খাদ্য গুদাম ছিল,আলাদা খাদ্য ঘাট ছিল,আলাদা সরবরাহ ব্যবস্থা ছিল।এখন এসব কিছুই নাই।চালের মান/বাজার সবই এখন মিল মালিকদের নিয়ন্ত্রনে।
ফলস্রুতিতে, এখন বাজারে নাজির সাইল নামের চিকন সরু চাল পাওয়াই যায়না।নাজির সাইল সিল মেরে বাজাতে যে চাল বিক্রি হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা নাজির সাইল নয়।মোটা চালকে বিশেষ এক ধরনের মেশিনে কেটে নাজির সাইল বানানো হয়।তারপর নাজির সাইল সিল মেরে প্রকাশ্যে বিক্রি করাহয়।
অন্যদিকে এত হাজারো হাজার হ্যাক্টর জমিতে যে মোটা ইরি চাষাবাদ হচ্ছে সে অনুপাতে বাজারে মোটা চাল নেই কারন মোটা চাল গুলো মিলে ঢুকে চিকন চাল হয়ে বেরুচ্ছে।
এসব যারা করছে তারা কোন কিচ্ছু গোপনে করছেনা প্রকাশ্যেই করছে , কতৃপক্ষের নাকের ডগার উপর দিয়ে। বস্তার উপর নাম ঠিকানা সিল মেরে।নকল চালে বাজার সয়লাব কেউ দেখছেনা অথবা দেখেও অজ্ঞাত কারনে না দেখার বান করছে।
এমনিতেই সড়কপথে নৈরাজ্যের, চাদাবাজির কারনে গ্রাম শহরে নগরে আসা পন্যের দাম দ্বিগুণ চারগুন হয়ে যাচ্ছে তার উপর মরার উপর খাড়ার ঘা এর মত চাল নিয়ে তেলেসমাতি।
চাষীরা এখন আর আগের মত নাজির সাইল চাষ করেনা কারন উপযুক্ত দাম পায়না। মিল মালিকরা মোটা চাল দিয়েই নাজিরের কাজ সেরে ফেলে;অন্য দিকে বাজারে মোটা চাল পর্যাপ্ত না থাকায় মোটা চালেরও দাম কমছেনা।ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই প্রতারিত হচ্ছে।
খদ্যে ভেজালের পাহাড় সম সমস্যার সাথে যুক্ত হল চালে ভেজাল; যা প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অপরিহার্য। এক কথায় প্রধান খাদ্য। হ্যাঁ চালই প্রধান খাদ্য,সে চাল নিয়ে চালবাজি অবিলম্বে বন্দ করা দরকার। এর জন্য বেশি কিছু করতে হয়না।বস্তায় সিল দেখে সসংশ্লিষ্ট মিলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। বিশেষ করে মোটা চাল চিকন করার মেসিন জব্দ করা, আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া। তা না হলে এ তেলেসমাতি বন্দ হবেনা।
(মোতাহার হোসেন ফ্রিলান্স সাংবাদিক এবং সাবেক পরিচালক, বিআইডব্লুটিএ।)

Share.
Loading...

Comments are closed.