জার্মানিতে ঘাতক শুঁয়োপোকা: বন্ধ স্কুল ও পার্ক

জার্মানিতে ঘাতক শুঁয়োপোকা: বন্ধ স্কুল ও পার্ক

0

ওক গাছে বাস করা ঘাতক শুঁয়োপোকায় ছেয়ে গেছে জার্মানি৷ এদের লোমগুলো শরীরে .ব্যাশ ও শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে৷ জলবায়ু পরিবর্তনে কারণেই এই উপদ্রব বলে ধারণা করা হচ্ছে৷ওক গাছ থেকে শুঁয়োপোকাগুলো ছড়িয়ে পড়ার কারণে গেল কয়েক সপ্তাহে জার্মানি জুড়ে অনেকগুলো প্রি-স্কুল, সাঁতারের লেক ও পুল বন্ধ করে দেয়া হয়৷ রাইনিশে পোস্ট পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোলন শহরের ২৫০টি ওক গাছের সত্তর ভাগই এই শুঁয়োপোকাগুলোর উৎস৷
নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার অন্য শহরগুলো ও পশ্চিম ব্যাভারিয়াতেও তা ছড়িয়ে পড়েছে৷ এ সব অঞ্চলে গাছগুলোকে বেড়া দিয়ে রাখা হয়েছে৷ এছাড়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে পার্ক এবং স্কুলের মাঠগুলো৷
‘‘এত খারাপ অবস্থা কখনো হয়নি৷” রাইনিশে পোস্টকে বলেন একটি ওলফগাঙ আউলেয়ার নামে পেস্ট কন্ট্রোল কোম্পানির এক কর্মী৷
এই লার্ভাগুলোর লোমের কাঁটায় থাউমেটোপোয়েইন নামক এক ধরনের প্রোটিন থাকে, যা চামড়ায় .ব্যাশ তৈরি করে৷ আক্রান্ত স্থান ফুলে যেতে পারে, এবং শ্বাসকষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে৷ যাদেরঅ্যালার্জিও অ্যাজমার সমস্যা আছে তাদের জন্য এর আক্রমণ খুবই বিপজ্জনক৷ এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে৷
‘‘বৃদ্ধ, শিশু ও যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি অনেক বেশি৷” বলেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পেটার শ্যুৎস৷
গত এপ্রিলের শেষে ব্রিটেনেও শুঁয়োপোকার উপদ্রব বেড়ে যায়৷ তখন ব্রিটিশ বন কমিশন একটি সতর্কতা জারি করে৷
শ্যুৎস বলেন, ‘‘ঠান্ডা পাহাড়ি এলাকার চাইতে তুলনামূলক উষ্ণ সমতলভূমি এলাকায় শুঁয়োপোকার উপদ্রব বেশি৷”
‘‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই লার্ভাগুলো লোয়ার ফ্রাংকোনিয়া অঞ্চল থেকে দক্ষিণ ব্যাভারিয়া অঞ্চলে ছড়িয়েছে৷” বলেছেন ব্যাভারিয়ার বন বিভাগের প্রধান হুবার্ট মেসমেয়ার৷
ওক গাছে শুঁয়োপোকাদের বাসাগুলো মাটি থেকে ২০ থেকে ৩০ মিটার ওপরে থাকে৷ দূরবীনের সাহায্যে এ সব বাসাগুলো খুঁজে তাদের বিশেষ পদ্ধতিতে ধ্বংস করা হচ্ছে৷
শুধু ওক গাছেই এই শুঁয়োপোকাদের দেখা যায়৷ মে মাস নাগাদ এদের দেখা মেলে এবং জুলাই ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে এরা মথে রূপান্তরিত হয়৷ খবর – ডিডাব্লিউ

Share.
Loading...

Comments are closed.