জয়নাল আবেদীন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক রানার সম্পাদক

জয়নাল আবেদীন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক রানার সম্পাদক

0

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দ্বিভাষিক সাপ্তাহিকী রানার’এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাংবাদিক ও গবেষক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন । ২০ মে থেকে তিনি এ দায়িত্ব নেন।সাংবাদিক ও গবেষক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতোকোত্তর এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রী লাভ করেন। স্কুল ও কলেজ ম্যাগাজিন এবং দেয়াল পত্রিকায় গল্প-কবিতা লিখে যাত্রা শুরু করলেও সার্থক লেখক হিসেবে তার আতœপ্রকাশ ঘটে ২০ বছর বয়সে ১৯৭১ সনে। আসামের হাফলং-এ মুজিব বাহিনীর প্রশিক্ষণ শিবিরে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ মঞ্চ নাটক “এক নদী রক্ত” লিখে এবং ওখানেই মঞ্চস্থ করে সবাইকে অবাক করেন। মুজিব বাহিনীর ভারতীয় সংগঠক মেজর জেনারেল সুজান সিং উবান এবং সিরাজুল আলম খান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। বিস্ময়ের ব্যাপার হলো ঐ নাটকে যেভাবে দেখানো হয়েছে, ঠিক সেভাবেই বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের অনুপস্থিতিতেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। এই সফল নাটকটির পান্ডুলিপি প্রশিক্ষণকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ মুজিব বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিনায়ক মরহুম শেখ ফজলুল হক মনির কাছে দেয়ার কথা থাকলেও দেশ স্বাধীন হবার পর তার কাছ থেকে তা পাওয়া যায়নি। হাফলং-এ চিঠি মারফত যোগাযোগ করা হলে প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রশিক্ষক এবং ঐ নাটকের পরিচালক বি এম (বিমল মুখার্জী) পান্ডুলিপিটি তাদের কাছে নেই বলে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে নাটকে অভিনয়কারী কলাকুশলী এবং জীবিত মুক্তিযোদ্ধা-দর্শকরা নাটকটির মুদ্রিত কপি পাওয়ার জন্য চিঠির পর চিঠি লিখতে থাকে। ঐসব চিঠির ক’টি হাফলং-এ পাঠালে বিমল মুখার্জী আবেদীনকে নাটকটি পুনর্লিখনের পরামর্শ দেন। কিন্তু যে পরিবেশ পরিস্থিতিতে যে ভাবাবেগ ও উচ্ছ্বাস নিয়ে হাফলং-এ ঐ নাটকটি লেখা হয় স্বাধীন বাংলাদেশে সেগুলো বদলে যায়। এভাবে স্বাধীনতা যুদ্ধের সম্ভবতঃ প্রথম পূর্ণাঙ্গ মঞ্চ নাটকটিও হারিয়ে যায়।
ঐ নাটকে আবেদীন সাংবাদিকের ভূমিকায় অভিনয় করেন। আজকে তিনি কেবল প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিকই নন, স্বীকৃত সফল গবেষকও। ১৯৭২ সনের একেবারে শুরুতে প্রখ্যাত সাংবাদিক মরহুম নাজিম উদ্দিন মানিক সম্পাদিত নোয়াখালী থেকে প্রকাশিত “দৈনিক বাংলাদেশ” এর মাধ্যমে তিনি সাংবাদিক হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। তৎকালীন গণকণ্ঠ ও সাপ্তাহিক ইত্তেহাদ-এর নোয়াখালী প্রতিনিধি মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনের অনুসিন্ধুৎসু দুঃসাহসী ক্ষুরধার কলম পরবর্তীতে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক বিশেষতঃ বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের সাথে সম্পৃর্ক্ত এমন কোন বিষয় নেই যেখানে প্রবেশ করেনি।
২০০০ সালের শুরু আগে ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রায় সবগুলো দৈনিক ও সাপ্তাহিকে এবং অধুনা ওয়েব সাইটে তিনি মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব- বিরোধী সম্প্রসারণবাদী অপশক্তির মুখোশ উম্মোচন করে ইংরেজি-বাংলায় অসংখ্য গবেষণাধর্মী নিবন্ধ লিখেছেন। এছাড়া সৌদি আরব, ব্রিটেন, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশের সংবাদপত্রেও তার নিবন্ধ স্থান পেয়েছে।
তিনি ১৯৯৫ সনে পাকিস্তানের সরকারী সংবাদ সংস্থা এ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি)’র ঢাকা প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেন। ২০০৭ সনের ১১ নভেম্বর অভিবাসী হিসেবে আমেরিকায় যাবার কারণে ২০০৮ সনের ফেব্রুয়ারী মাসে তিনি এপিপি হতে পদত্যাগ করেন। ঢাকা থেকে প্রকাশিত ও তার সম্পাদিত পাঠকপ্রিয় সাপ্তাহিকী “একালের কথা” তার আমেরিকায় যাবার কারণেই বন্ধ হয়ে যায়।
আমেরিকায় গিয়েও তিনি সাংবাদিকতা ও শিক্ষকতার পেশায় যোগ দেন। তিনি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দ্বি-ভাষিক (বাংলা-ইংরেজি) মাসিক সাময়িকী “আমেরিকায় মদিনার আলো”- “লাইট অব দ্যা আর্থ ইউএসএ”-র সহকারী সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক “বাংলা পত্রিকা” এবং “প্রথম আলো”র বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি নিউ ইয়র্ক সিটি বোর্ড অব এডুকেশন-এর অনিয়মিত শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।
আবেদীনের প্রতিটি রচনাই তার স্পষ্টভাষিতা, দুঃসাহসিকতা, যুক্তিনির্ভরতা, সর্বোপরি দালিলিক তথ্য-প্রমাণে সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের খুব কম সংখ্যক সাংবাদিকই দেশের জন্য এমন অনন্য অবদান রেখেছেন। মৃত্যুভয় কিংবা বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় প্রস্তাব তাকে তার পথ থেকে নড়াতে পারেনি। তার প্রকাশিত “রাজনীতিতে শ্রেণী সংকট” (১৯৭২), “জিয়া হত্যার নেপথ্য” (১৯৮৭), “India Needs Veto Power” (1993), “RAW And Bangladesh” (1995), “পার্বত্য চট্রগাম স্বরূপ সন্ধান”, (১৯৯৭) “The Chittagong Hill Tracts: A Victim of Indian Intervention” (2003), “Human Rights Violation in CHT: Myth & Reality” (2005), “NAGA – A Cry for Freedom” (2007), “BDR Massacre : Target Bangladesh” (2009) “পিলখানায় হত্যাকান্ড: টার্গেট বাংলাদেশ ” (২০১০), “ধর্মনিরপেক্ষ ভারতের আসল চেহারা” (২০১১) প্রভৃতি কালজয়ী গবেষণাধর্মী গ্রন্থ বাংলাদেশের জন্য অনন্য সম্পদ, যেগুলো যুগ যুগ ধরে দেশী-বিদেশী সাংবাদিক, লেখক-গবেষকদের অনুপ্রেরণা ও তথ্য যোগাবে। তার অনন্য কর্মের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ২০০৭ সনে । লন্ডন-ভিত্তিক গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান “London Institute of South Asia (LISA)” ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা’র ওপর তার লেখা গ্রন্থ ‘RAW And Bangladesh’কে আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করে। বিভিন্ন কারণে তার রচিত ’এক নদী রক্ত,’ ‘ একটি নক্ষতের পতন,’ ‘Indian Friendship : An Unbearable Burden’ ‘ঘোমটা খুলে দাও পরাশক্তি ভারত’সহ বেশ ক’টি গ্রন্থ এখনো মুদ্রণের মুখ দেখেনি । উল্লেখ্য মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীনই একমাত্র বাংলাদেশী সাংবাদিক যার তিনটি গ্রন্থ আমাজন বিক্রি করছে।
মোহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন সাংবাদিক হিসেবে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ভ্রমণ করেন। আমেরিকায় মদিনার আলো’র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক এবং তিনি আমেরিকার ৫০টি স্টেটের মধ্যে ৪৮টি স্টেট ভ্রমণ করে এবং সে ভ্রমণকাহিনী লিপিবদ্ধ করে আমেরিকার ইতিহাসে অনন্য নজির স্থাপন করার গৌবর অর্জন করেন।
১৯৬৪ সন থেকে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ সংগঠক আবেদীন সাবেক নোয়াখালী, চট্রগ্রামের উত্তরাঞ্চল এবং কুমিল্ল¬ার দক্ষিণাংশে ছয় দফা ও ১১-দফা আন্দোলন জোরদারকরণে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। এ কারণে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা আইন (ডিপিআর) ও সামরিক আইনে যথাক্রমে ১৯৬৮ ও ১৯৬৯ সনে তাকে দীর্ঘদিন আটক রাখা হয়। তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ নোয়াখালী জেলা শাখার সাংস্কৃতিক সম্পাদক (১৯৬৭), নোয়াখালী কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক (১৯৬৮), নোয়াখালী জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক (১৯৬৯) এবং নোয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক (১৯৭২-জাসদপন্থী) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাসদের বিভিন্ন কর্মকান্ড এবং এর মূল শেকড় কোথায় তা অনুধাবন করতে সক্ষম হয়ে ১৯৭৩ সনে তিনি রাজনীতি হতে সরে দাঁড়ান। তিনি ১৯৭০ সনে নোয়াখালী সরকারী কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে তিন বছর (১৯৭০-৭২) সততা ও সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
বিবিধ বিষয়ে গভীর জ্ঞানের অধিকারী যুক্তি-নির্ভর তার্কিক ও বক্তা হিসেবে আবেদীন নোয়াখালী সরকারী কলেজ বার্ষিক সাহিত্য ও বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দুই দুইবার (১৯৬৯ ও ১৯৭২) চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করেন।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Share.
Loading...

Comments are closed.