রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুবিধাবাদীদের কাছে মানবতা মার খেয়েছে | Greenwatch Dhaka | The leading online daily of Bangladesh

রোহিঙ্গা ইস্যুতে সুবিধাবাদীদের কাছে মানবতা মার খেয়েছে

0

ঢাকা – ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন, রাশিয়া ও ভারতের অর্থ্‌নৈতিক সুবিধাবাদী নীতির কাছে মানবতা মার খেয়েছে। তাই রাখাইনে (আরাকান) মিয়ানমার বর্বর সেনাবাহিনীর নির্মম অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার মজলুম রোহিঙ্গাদের আর্ত চিৎকার, উৎপীড়িত রোহিঙ্গাদের আহাজারী ও ক্রন্দনরোল এবং ধর্ষিতা রোহিঙ্গা নারীদের আকুল ক্রন্দনে আকাশ-বাতাস মূখরিত হওয়া স্বত্ত্বেও অর্থ্‌নৈতিক লাভালাভের ক্ষেত্রে স্বার্থান্ধ কুম্ভকর্ণ্‌ বিশ্ব মোড়ল বিশেষ করে চীন, রাশিয়া ও ভারতের নিদ্রা ভঙ্গ হচ্ছে না। চীন ও রাশিয়ার বিরুধিতার কারণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারছেনা। চীন ও রাশিয়া তাদের বলায়াবৃত মিয়ানমারে নিজেদের আধিপত্য, রাজনৈতিক ও অর্থ্‌নৈতিক স্বার্থ্‌ চরিতার্থ্‌ করার কাজে নিয়োজিত। তাঁদের দ্বৈত নীতি, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নিস্ক্রিয়। তাই রোহিঙ্গা জনগণ আজ দর্বিষহ জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে ।তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের এখন করুন অবস্থা। কারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করে ও আরাকানের মুসলমানরা আজো পরদেশী। তাই আরাকানে মুসলমানদের এখন খুবই দুর্দিন। আরাকানের মুসলমান, যারা রোহিঙ্গা অথবা কামান্স নামে পরিচিত তারা নাজুক পরিস্থিতির সম্মুক্ষীন।
জাতিগত শুদ্ধি অভিযান এখন মিয়ানমার স্বৈর সামরিক জান্তার নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরাকানের ২০ লাখের ও বেশি মুসলমানদের বিতাড়িত করার মিয়ানমার সামরিক স্বৈরশাসকদের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়।
মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী রাখাইনে রোহিঙ্গা নারী ধর্ষণের ঘটণা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রাখাইনের বিভিন্ন স্থানে আশংকাজনকহারে নারী ধর্ষণের মতো হৃদয়বিদারক ঘটণা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে । ফলে মর্যাদা এবং সম্ভ্রমহানিকর কর্মকান্ডের ভয়ে রোহিঙ্গা নারীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় তারা শংকিত ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে । এধরনের শ্লীলতাহানীর ঘটণা সংঘটিত হওয়ায় বিশ্ববাসি বিস্ময়ে হতাশ, হতবাক ও ক্ষুব্ধ।
তিনি বলেন, এসব ঘটণায় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বীভৎস্য চেহারা যে লুক্কায়িত রয়েছে, তা সাম্প্রতিক ঘটণায় প্রমানিত হয়েছে। পৈশাচিক মনোবৃত্তি চরিতার্থকারী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এধরনের জঘন্য কাজের বিরুদ্ধে উৎপীড়িত রোহিঙ্গা নরনারীদের নিঃশংক অকুন্ঠ প্রতিবাদেরও সম্ভাবনা শুধু তিরোহিত হচ্ছেনা, বরং তাদের পক্ষে সুস্থভাবে নিঃশ্বাস গ্রহণও অসম্ভব হয়ে পড়েছে ।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা নারীদের মান-ইজ্জত ক্ষুন্ন করা বা বাধাগ্রস্থ করা চলতে দেয়া যায়না। পাশব শক্তির বলে রোহিঙ্গা নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার হীন প্রয়াসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করে বলেন, রোহিঙ্গা নরনারীদের বেঁচে থাকার অধিকার আছে। ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পাশব শক্তির বলে রোহিঙ্গা নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার হীন প্রয়াসের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। এর বিরুদ্ধে বিশ্ববাসির সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। মিয়ানমার সেনাবহিনীর হাত থেকে রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের বাঁচাতে স্বক্রিয় হওয়া বিশ্ববাসির কর্তব্য। বিশ্বের শান্তিকামী জনগণের এমন কিছু করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গা নারীর লজ্জাশীলতা, সতীত্ব, পবিত্রতা ও নারীর সম্ভ্রম-সন্মান রক্ষা পায়। ধর্ষকদের মোকাবেলায় ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার বিকল্প নেই । – প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Share.
Loading...

Comments are closed.