রোহিঙ্গা সম্পর্কে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বক্তব্য সত্যের অপলাপ

রোহিঙ্গা সম্পর্কে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের বক্তব্য সত্যের অপলাপ

0

ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী রোহিঙ্গা মুসলিমরা মিয়ানমারের জনগোষ্ঠী নয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রদত্ত মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াং-এর বক্তব্য সত্যের অপলাপ বৈ আর কিছু নয়। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, আরাকানে রাখাইনদের পরেই মুসলমানদের অবস্থান। মুসলিমরা ৪টি গ্রুপে বিভক্ত। যেমন তাম্মুকিয়াস, তুর্কি-পাঠান, কামানচিস এবং রোহিঙ্গা। তাম্বুকিয়াসরা অষ্টম শতাব্দি থেকে রাজা মাহা তায়েঙ্গ চন্দ্রের আমলে (৭৮৮-৮১০) আরাকানে বসবাস করে আসছে । তুর্কি-পাঠান জনগোষ্টিকে আরাকানের শহরতলীতে দেখতে পাওয়া যায়। আরাকানের রাজা মং-স মওন ওয়ার নরমেখলা (১৪০৩-৩৩) তাম্বুকিয়াসদের আরাকানে বসবাসের অনুমতি দেয়।
কামানচিষরা (১৬৩৯-৫৯) আরাকানে বসবাস করে আসছে। রোহিঙ্গাদের পূর্ব পুরুষরা ধর্মে মুসলমান । তিনি বলনে, সপ্তম শতাব্দিতে রোহান অথবা রোহাঙ্গ নামক মুসলিম রাজধানী আকিয়াবসহ আরাকান প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। আকিয়াবের বর্তমান নাম হচ্ছে “ছিটউই” আরাকান প্রদেশের রোহিঙ্গারা প্রাচীন কালের রোহানদের সাথে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। মিয়ানমারে শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে বসবাস করে আসছে। মিয়ানমার সামরিক সরকার মুসলমানদের বিদেশী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদেরকে সেখানে অবস্থান করতে দিতে অস্বীকার করছে । মিয়ানমারের সামরিক সরকার ও সাধারণ নাগরিকরা গড়ে সবাই মুসলমানদের “কালাহ” বা বিদেশী বলে আখ্যায়িত করে। প্রকৃতপক্ষে আরাকানী মুসলমানরা বিগত ১৪০০বছর এই অঞ্চলের সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত। রোহান বা রোহাঙ্গ নামে পৃথিবীতে অন্য কোন স্থান বা এলাকা নেই।
তিনি বলনে, ইদানিং আরাকানের মুসলমান অধিবাসীরা নিজেদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি সমস্যায় ভুগছে। মিয়ানমার অধিবাসীদের নাগরিকত্ব নির্ধারণকল্পে ১৯৭৭ সনে নাগামিন সরকারী অভিযান চলাকালে মুসলিম জনতা দেশ ত্যাগের চাপের সম্মুখীন হয়। আরাকান প্রদেশে এই অভিযান চলাকালে সামরিক ও বেসামরিক উভয় দিক থেকে রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমন শুরু হয়। ১৯৮২ সনের নাগরিকত্ব আইনে মিয়ানমারে বসবাসকারী বহু মুসলমান নাগরিকত্বের প্রশ্নে হুমকির সম্মুখীন হয়। কারণ আইনে বৃটিশ দখল দারিত্বের আগের পূর্ব পুরষদের সাথে সম্পর্কের যোগসূত্রের প্রমাণ দেয়ার কথা বলা হয় পূর্ণ নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে। এই আইন কেবল মুসলমানদের জন্যে বলবৎ করা হয়। অন্যদিকে স্যান, চিন, কারেন, রাখাইন এবং বারমনদের ক্ষেত্রে এই আইন প্রয়োগ করা হয়নি।
তিনি বলনে, মিয়ানমারে নৃতাত্ত্বিকতার অজুহাতে আদমশুমারিতে মুসলমানদের রোহিঙ্গা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছেনা। মিয়ানমার সরকারের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নাগরিকত্ব আইনের মারাত্মক লঙ্গন। নৃতাত্ত্বিকতার ধুয়া তুলে আদমশুমারিতে মুসলমানদের রোহিঙ্গা হিসেবে তালিকাভুক্ত না করার যুক্তি ধোপে টিকে না। কেননা নাগরিকত্বের শর্ত শুধু একই নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়া নয়। বিশ্বের কোন দেশের লোকজন সবাই একই নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর অন্তভর্’ক্ত নয়। মুসলমানরা মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার এক ষষ্টমাংশ। ৬ষ্ঠ শতাব্দি থেকে মুসলিম জনগণ মিয়ানমারের শহর-বন্দর- গ্রামে বসবাস করে আসছেন। মুসলমানসহ মিয়ানমারে ১৪০টি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বসবাস। তারা সবাই একই নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভ্‌ুক্ত নন। তাই নিৃতাত্ত্বিকতার অজুহাতে রোহিঙ্গা হিসেবে মুসলমানদের আদমশুরারিতে তালিকাভুক্ত না করার উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় মেনে নেবেনা। – — — -মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী – প্রেস রিলিজ।

Share.
Loading...

Comments are closed.