সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের ইন্তেকালে পীর সাহেব চরমোনাই’র শোক

সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাসের ইন্তেকালে পীর সাহেব চরমোনাই’র শোক

0

ঢাকা – সাবেক রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিশ্বাসের ইন্তেকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী গভীর শোক প্রকাশ করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, মরহুম আব্দুর রহমান বিশ্বাস একজন বরেণ্য রাজনীতিবিদ ও ইসলামপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে দেশবাসী একজন সফল রাষ্ট্রপতিকে হারালো। পীর সাহেব চরমোনাই মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। – প্রেস বিজ্ঞপ্তি।
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক রিসার্চ ইনস্টিটিউট
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস এর আকাস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্র’র প্রতিষ্ঠিতা চেয়ারম্যান, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক রিসার্চ ইনস্টিটিউট’র প্রতিষ্ঠিতা ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম I
বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ইন্তেকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)। শুক্রবার রাত ৯টার কিছু আগে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
শুক্রবার সন্ধ্যার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে বনানীর গ্র্যান্ড প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পর তিনি মারা যান।
আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ১৪তম রাষ্ট্রপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন।
ঢাকার গুলশান-এর বাসায় কোরআন শরিফ তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও মর্নিং ওয়াক করে দিন কাটতো আবদুর রহমান বিশ্বাসের। বরিশাল শহরে তার পৈতৃক বাড়িতে কেয়ারটেকার ছাড়া আর কেউ থাকে না।
বর্ণাঢ্য জীবন
সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর স্কুল ও কলেজ জীবন বরিশালে কাটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) ও ইতিহাস এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। প্রথমে তিনি স্থানীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষাবিস্তারেরে উদ্দেশ্যে তিনি কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজের জন্য সরকার ১৯৫৮ সালে তাঁকে স্বেচ্ছাসেবী সমাজ কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দান করে। ষাটের দশকে কিছু দিন বাবুগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বরিশালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন।
১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি জাতিসংঘের ২২তম সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার আসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাটমন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৮১-৮২ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস্‌ সাত্তারের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন।
বাংলাদেশে সংসদীয় শাসনব্যবস্থা চালু হওয়ার পর ১৯৯১ এর ৮ অক্টোবর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতি থাকাকালেই ১৯৯৬ সালের এক অপ্রত্যাশিত সেনা ক্যু ঠেকিয়ে দেশবাসীর কাছে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়ান।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার মেয়াদের শেষ দিকে ১৯৯৬ সালের মে মাসে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ তখনকার সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল নাসিমসহ তার অনুগত ১৫ সেনা কর্মকর্তার শাস্তির বিষয়টি ছিল দেশের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।
রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর আবদুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার আগেই তার নির্বাচনী আসনে বড় ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এক বিয়ের দাওয়াতে খাবারের বিষক্রিয়ায় মারা যান নাসিম। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আবদুর রহমান বিশ্বাস। ব্যক্তিগত জীবনে আবদুর রহমান বিশ্বাস আট ছেলে- মেয়ের বাবা। আবদুর রহমান বিশ্বাসের আট ছেলেমেয়ের বাকিরা হলেন- শামসুদ্দোজা কালাম বিশ্বাস, এহসানুল কবির জামাল বিশ্বাস, মিজানুর রহমান এ হাসান মনু বিশ্বাস, আঁখি বিশ্বাস, জামিরুল রহমান শিবলী বিশ্বাস, রাখি বিশ্বাস ও রোমেন বিশ্বাস রুবেল।
আব্দুর রহমান বিশ্বাসের স্ত্রী হোসনে আরা রহমান চলতি বছর ২৩ জুন মারা যান। তিনি ছিলেন বর্তমান পর্যটনমন্ত্রী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের ফুফাতো বোন।
শোকবার্তায় ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস এর আকাস্মিক মৃত্যুতেযে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশীসহ দেশবাসী তার মৃত্যুতে শোকবিহব্বল। তার শুন্যতা সহজে পূরণ হবার নয়। পরম করুনাময় আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।
ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী ও শুভানুধায়ীদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান। – প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

Share.
Loading...

Comments are closed.