সীমা লঙ্ঘনের ফল ভাল হয় না:

সীমা লঙ্ঘনের ফল ভাল হয় না

0

মোতাহার হোসেন,
কে সাধু (Saint) , কে শয়তান এ নিয়ে আজকের নিবন্ধ। আপনি সাধু হবেন; হতেই হবে এমন কোন কথা নেই। আবার আপনি শয়তান হবেন এটা কারো কাম্য নয়। আপনি শুধু মানুষ হবেন। এটাই প্রত্যাশিত; এটাই যথেষ্ট। মাঝে মাঝে মানুষ যে মনুসত্ব হারিয়ে ফেলে, সেরকম একটি সত্য ঘটনা নিয়ে আজকের উপাখ্যান।ঘটনাটি পাকিস্তান আমলের, আমাদের সহপাঠী মনিষ দেবনাথ এবং তার বাবা মোহন দেবনাথ কে নিয়ে। অনিবার্য কারণে ছদ্ম নাম ব্যবহার করা হচ্ছে।
মনিষের বাবা মোহন দেবনাথ জেলা সদরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। অসুধের কারখানা আছে। অর্থে, বৈভবে পরিপূর্ণ। একমাত্র পুত্র মনিষ আর দুই মেয়ে। মেয়েরা স্বামীগৃহে। সুন্দরী স্ত্রী। সুখি পরিবার।
ছাত্রলীগের সম্মেলন, চাঁদা দিবেন কে, মোহন বাবু। ছাত্র ইউনিয়নের রবীন্দ্র জয়ন্তী, চাঁদা দেবেন মোহন বাবু। দুর্গাপূজার চাঁদা, তাও। অতি সজ্জন ব্যাক্তি, বেশ জনপ্রিয়। সুখেই দিন কাটছিল।কিন্তু এ সুখে ছেদ পড়ল যখন মোহন বাবুর স্ত্রী হঠাৎ মারা গেলেন। মনিষ মা হারা হলেন।
মায়ের আদর পাওয়া সুদর্শন মনিষ তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। অকাল মাতৃবিয়োগ তাকে বিপন্ন করে, বিমর্ষ করে। মাতৃশোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই মনিষকে বসতে হয় বিয়ের পিঁড়িতে। না হলে যে মোহন বাবুর সংসার চলেনা!!
শিক্ষিতা সুন্দরী বউ এল। ঘর আলো করে রাখল চলনে বলনে। লক্ষি প্রতিমা। বিপত্নীক মোহন বাবুরও দেকভাল করেন। রাঁধুনি ঝি চাকররা রান্না বান্না ও গৃহস্থালির কাজ করে।
মনিষ ভার্সিটির হলে। এক ঝড়ের রাত। ডুপ্লেক্স বাড়ির নীচতলায় রাঁধুনি ঝি গভীর নিদ্রায়। উপর তলায় মোহন বাবু আর মনিষের স্ত্রী প্রিয়াংকা। হ্যা সেই কাল রাত্রিতে মোহন বাবু সীমা লঙ্ঘন করলেন। বড় নিলজ্জের মতই সীমা লঙ্ঘন করলেন। পরদিন সকালে প্রিয়াংকা কেঁদেই কাটাল অনেকক্ষণ। অনেকক্ষণ পড়ে উঠে স্নান করলো। একবার নয়, বার বার গা ধুয়েও যেন তাড়াতে পারছেনা সেই কুৎসিত অসভ্যতা। সাধুবেশী শয়তানের নিলজ্জতা সে কিছুতেই ভুলতে পারছিলো না। ততক্ষণে দুপুর গড়িয়েছে। তখন মোবাইল ফোন ছিলনা। ভরসা ল্যান্ডফোন। ট্রাঙ্ককল বুকিং করতে হতো। অবশেষে পাওয়া গেল মনিষকে। জরুরী খবর এখুনি বাড়ি এসো।
রাত্রিতে স্বামীকে সবই খুলে বলল প্রিয়াংকা। পরদিন কাউকে কিছু না বলে মনিষ চলে গেল ইউনিভার্সিটি হলে। তারপরদিন সকালে হলের প্রকস্টে মনিষের লাশ। অত্যাধিক ঘুমের বড়ি খেয়ে মনিষ আত্বহত্যা করেছে। সুইসাইড নোটে মনিষ এসব কিছুই লেখেনি। ছোট দুই লাইনের সুইসাইড নোট। “আমার সামনে মাত্র দুটি পথ খোলা ছিল; একটি আমার পিতাকে হত্যা করা; দ্বিতীয়টি নিজেকে হত্যা করা। আমি দ্বিতীয়টি বেছে নিলাম। ”
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এ বিয়োগান্তক মর্মান্তিক ঘটনাটা কি পরিহার করা যেত না? অবশ্যই যেত। মোহন বাবুর উচিৎ ছিল দ্বিতীয় বিয়ে করা। তিনি তা করেননি। করেছেন যা তার পরিনতি হয়েছে ভয়াবহ। হারিয়েছেন সবই। তাই বলছিলাম, “সাধু নাই বা হলেন, মানুষ হতে অসুবিধা কি?”
মোহন বাবু একদম চুপ হয়ে যান। কারখানা, বাড়ি, সম্পত্তি জলের দামে বিক্রি করে কোলকাতা চলে যান। বেঁচে ছিলে আরও অনেক দিন, অনেক বছর। না মোহন বাবু পাগলও হন নি। পাগল হলে তো কষ্ট বুঝতেই পারতেন না। পরকালে কি হবে জানিনা। জীবদ্দশায় ভোগ করেছেন নরক যন্ত্রণা।
(মোতাহার হোসেন, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক, সাবেক পরিচালক , বি আই ডাব্লিও টি এ)

Share.
Loading...

Comments are closed.