Monday , January 20 2020
Home / বাংলা বিভাগ / খবর / ইভিএম হবে ভোট ডাকাতির ডিজিটাল পদ্ধতি -মুসলিম লীগ
ad
ইভিএম হবে ভোট ডাকাতির ডিজিটাল পদ্ধতি -মুসলিম লীগ
Bangladesh Muslim League Working Committee meeting March 9

ইভিএম হবে ভোট ডাকাতির ডিজিটাল পদ্ধতি -মুসলিম লীগ

একাদশ সংসদ নির্বাচনটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংসদ নির্বাচনের কার্বন কপি উল্লেখ করে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভায় বলা হয়: ক্ষমতায় থাকা দলগুলো বার বার প্রমাণ করেছে যে, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে এদেশে সুষ্ঠু, অবাধ ও ভোট ডাকাতি মুক্ত সংসদ নির্বাচন কখনো সম্ভব হবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মধ্যরাতের ভোট ডাকাতির কথা স¦ীকার করে তা প্রতিহত করতে বিতর্কিত ইভিএম ব্যবহারের যে প্রস্তাব করেছেন তার তীব্র সমালোচনা করে নেতৃবৃন্দ বলেছেন সিইসির প্রস্তাবিত ইভিএম ব্যবস্থা চালু হলে তা হবে ভোট ডাকাতির ডিজিটাল পদ্ধতি।
আজ সকাল ১০.০০ টায় পল্টনস্থ ফেনী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভায় দলীয় নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত মন্তব্য করেন। দলীয় সভাপতি এ্যাড. বদরুদ্দোজা সুজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আজিজ হাওলাদার, স্থায়ী কমিটির সদস্য আতিকুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন আবুড়ী, ওয়াজির আলী মোড়ল, ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ময়মনসিংহের আকবর হোসেন পাঠান ও হাসমত উল্ল্যাহ শেখ, ফেনীর কাজী এ এ কাফী, নোয়াখালীর এ্যাড জসীমউদ্দিন, বাগেরহাটের শেখ এ সবুর, খুলনার এস.এম ইসলাম আলী, বাক্ষ্রনবাড়ীয়ার ইঞ্জিনিয়ার ওসমান গনী, ঢাকার শহুদুল হক ভূঁইয়া, ঝালকাঠির এ্যাড. আবু সাঈদ মোল্লা, ঢাকার মানিক ও মামুনুর রশীদ, ঠাকুরগাঁয়ের আবদুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান, কুড়িগ্রামের খাইরুল আলম, মাদারীপুরের আবুল কাশেম হাওলাদার, চাঁদপুরের মোঃ ফারুক আহমেদ, দিনাজপুরের সৈয়দ মাহমুদ-উল করিম, বরগুনার মিঞা মোঃ আল আমিন, সিরাজগঞ্জের আবদুল আলিম, বরিশালের সাইফুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলীয় প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন যার অন্যতম হচ্ছেন, ময়মনসিংহের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ঢাকার এ্যাড. আফতাব হোসেন মোল্লা, শরীফ মোঃ মিরাজ হোসাইন, লালমনিরহাটের বাদশা মিয়া, চাঁদপুরের মাহবুবুর রহমান ভুঁইয়া, কুমিল্লার খোন্দকার জিল্লুর রহমান, এ্যাড এম.এ আউয়াল, সিলেটের শহীদ চৌধুরী, বাগেরহাটের এস.এইচ খান আসাদ, নাটোরের শান্তি রিবারু, গাজীপুরের আঃ হান্নান নূর, মানিকগঞ্জের ফারুক হোসেন আসাদ প্রমুখ।
ওয়ার্কিং কমিটির বর্ধিত সভায় গৃহীত প্রস্তাবাবলী
১. কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে অতি সম্প্রতি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয় যে, পারমানবিক শক্তির অধিকারী রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলো ভয়াবহ বিপর্যয়ে পড়বে। এমতাবস্থায় কূটনৈতিক ও আলোচনার মাধ্যমে এই দুইটি দেশকে সম্ভাব্য যুদ্ধ থেকে বিরত করাসহ ১৯৪৮ সালের ১৩ই আগস্ট জাতিসংঘের জম্মু-কাশ্মীর বিষয়ে গণভোটের প্রস্তাব কার্যকরী করে বিরোধের আপেলটি অপসারণ করা না হলে দুই দেশের মধ্যে পারমানবিক যুদ্ধের সম্ভাবনা থেকেই যাবে।
২. বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করার সরকারের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে সভায় বলা হয়: রাস্তায় পরিবহন খাতে চাঁদাবাজীর কারণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে যা নিয়ন্ত্রনহীন । এমতাবস্থায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে তা হবে সাধারণ মানুষের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা।
৩. সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে বলা হয়: বিতাড়িত হওয়া বিপুল সংখ্যার রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট সমস্যা ও বোঝা। রোহিঙ্গাদের তাদের জন্মভূমিতে নিরাপদে প্রত্যর্পণের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক মহলের তৎপরতা আন্তরিক ও নিরপেক্ষ নয়। এমন কি আরাকানে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত গণহত্যা, ধর্ষণ ইত্যাদির মতো পাশবিকতা থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষী বাহিনী আরাকানে প্রেরণ করেনি। অনুরূপভাবে গত প্রায় ৭০বছরেও জাতিসংঘ ফিলিস্তিন ও জম্মু-কাশ্মীরে শান্তি রক্ষী মোতায়েন করেনি। যা একপক্ষের প্রতি জাতিসংঘের অন্ধ পক্ষপাতিত্ব বলে এই সভা মনে করে।
৪. আইন শৃঙ্খলার অবনতিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, রাহাজানী, হত্যাকা- ইত্যাদি অপরাধগুলো বৃদ্ধি পাওয়ার পেছনে থাকা মদদ দাতাদের চিহ্নিত করতে এই সভা বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবী করছে।
৫. চকবাজারের চুড়িহাট্টায় বেআইনিভাবে রাখা রাসায়নিক গুদামের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে সভায় বলা হয়েছে যে, ইতিপূর্বে একই কারণে নিমতলীতে ঘটে যাওয়া অনুরূপ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি হওয়ার পরও আবাসিক এলাকা থেকে রাসায়নিক গুদাম অপসারণে সরকারের দায়িত্বহীনতা ও উদাসীনতার কারণেই চুড়িহাট্টার মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সভায় নিহত ও আহত প্রত্যেক পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবী করা হয়।
৬. সভায় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য অধ্যাপক আব্দুল মোতালিব আখন্দ, ও কালের কলস, মায়াবী পর্দা দুলে উঠো, সোনালী কাবিন ইত্যাদির মত কালজয়ী কব্যগ্রন্থের রচয়িতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি আল মাহমুদ এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।
শেখ এ সবুর, প্রচার সম্পাদক

adadad