Tuesday , February 18 2020
Home / বাংলা বিভাগ / শিল্প-সংস্কৃতি / রানীর চড়ে আছে জোর
ad
রানীর চড়ে আছে জোর
Rani Mukherjee

রানীর চড়ে আছে জোর

‘মারদানি’ রানী মুখার্জি জানিয়েছেন, ছোটবেলায় তিনিও আর দশটা ভারতীয় কিশোরীর মতো উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন। তবে এর পরবর্তী দৃশ্যপট ভিন্ন। কেউ রানী মুখার্জিকে দেখে শিস বাজিয়ে কিংবা ‘টোন’ করে রানীর হাতের চড় না খেয়ে বাড়ি ফেরেননি। আর যাঁরা চড় খেয়েছেন, তাঁদের মন্তব্য, ‘রানীর হাত ছোট হলে কী হবে, তাঁর চড়ে আছে জোর।’

১৩ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে রানী মুখার্জির ‘মারদানি টু’। ২৫ কোটি রুপি খরচ করে তৈরি ছবিটি মাত্র ২ দিনেই তুলেছে ১০ কোটি রুপি। ধর্ষণ আর নারী নির্যাতনসহ নানা সামাজিক সমস্যায় রুখে দাঁড়ানো পুলিশ কর্মকর্তা শিবানী শিবাজি রায় এই সিনেমার মূল চরিত্র। আর বড় পর্দার সেই মারদাঙ্গা আইপিএস কর্মকর্তা রানী মুখার্জি।

গ্ল্যামারাস চরিত্র ছেড়ে গায়ে কেন পুলিশের পোশাক? বার্তা সংস্থা পিটিআইকে রানী মুখার্জি বলেছেন, ‘আপনি যদি মানুষের ভালোবাসা, সম্মান আর মনোযোগ পান, তাহলে আপনি তাদের প্রতি, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করবেন। আর সেই দায়বদ্ধতাকে আপনি যখন শৈল্পিক উপায়ে উপস্থাপন করবেন, তার তৃপ্তি অন্য কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়।’

অবশ্য তিনি স্বীকার করেছেন, এ ধরনের চরিত্র যেকোনো অভিনয়শিল্পীর ক্যারিয়ারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অভিনয়শিল্পীদের এ ধরনের চরিত্র বেছে নেওয়ার আগে অনেক রাত ভাববেন। বড় পর্দায় সামাজিক বার্তা দিয়ে বলিউডে স্থান করে নেওয়া সহজ নয়। ব্যতিক্রম আয়ুষ্মান খুরানা। অবশ্য ২৩ বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রির রানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, ৭টি ফিল্মফেয়ারজয়ী রানী মুখার্জির নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই।

তিনি বলেন, ‘মাঝে মাঝে আপনি নেতিবাচক চরিত্র করতে চাইবেন। তাতে নিজের ধূসর দিকটাও দেখতে পারবেন, বুঝতে পারবেন। অভিনয়শিল্পীর সব ধরনের চরিত্রে নিজেকে পরীক্ষা করা উচিত। অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁর সক্ষমতা যাচাই করার এর চেয়ে ভালো উপায় নেই। আমি ভাগ্যবান, আমার ক্যারিয়ারে আমি তেমন সুযোগ পেয়েছি, আর লুফে নিয়েছি। আমি বৈচিত্র্যময় সব রকম চরিত্র করেছি।’

‘মারদানি টু’ ছবিতে রানী মুখার্জি ছাড়া আর কোনো বড় তারকা নেই। রানী মুখার্জির নেই কোনো ‘নায়িকা লুক’। নেই আইটেম সং বা চমৎকার বিদেশি লোকেশন। উল্টো রানী মুখার্জি রাজস্থানের জয়পুরে ৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রায় গায়ে পুলিশের পোশাক চেপে ছুটেছেন অপরাধীর পেছনে। অপরাধীও নাকি কম যান না, সমান তালে টেক্কা দিয়েছেন এই আইপিএস কর্মকর্তাকে। দিন শেষে দর্শক আর সমালোচক, উভয় পক্ষের প্রশংসা কুড়াচ্ছে এই ছবি, যা বলিউডের সংস্কৃতিতে ব্যতিক্রম।

দর্শক এই ছবিটি দেখে রায় দিয়েছেন, এটা একটা ‘মাস্ট ওয়াচ’ সিনেমা। বলেছেন, এ ধরনের সিনেমা বানিয়ে বদলে ফেলা যাবে ভারতকে।

source: Prothom Alo

adadad