সামাজিক সচেতনতার অভাবে মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে

সামাজিক সচেতনতার অভাবে মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে

0

ঢাকা – মূলত সামাজিক সচেতনতার অভাবে তরুণদের মানসিক অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। এজন্য সর্বস্তরে জনসচেতনতা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন আলোচকরা।আজ মঙ্গলবার ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘Mental health in the workplace’ অর্থাৎ “কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য”। এ নিয়ে রাজধানীর লালমাটিয়ায় সিডিএসবি মিলনায়তনে ‘মানসিক স্বাস্থ্য ও তারুণ্যের ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা হয়। সামাজিক সংগঠন স্বপ্নপূরী কল্যাণ সংস্থা এই আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন স্বপ্নপূরী কল্যাণ সংস্থার প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ হাসান।
আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মিডিয়া মিক্স কমিউনিকেশন্স, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন ও ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ।
আলোচনায় অংশ নেন মিডিয়া মিক্স কমিউনিকেশন্সের চেয়ারম্যান আশরাফী রিক্তা, সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাফিজ, থিয়েটার এন্ড মিডিয়া ফাউন্ডেশনের পরিচালক জিনিয়া ফেরদৌস রুনা, ইয়াং জার্নালিষ্ট ফোরামের অফিস সম্পাদক মানজুর হোছাইন, দ্যা একটিভ সার্ভিসেসের সিইও মুহাম্মদ তুহিন ভূইয়া, ফিউচার ফোর্স বাংলাদেশের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ নাঈম, ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশের যোগাযোগ সম্পাদক সাঈদা আফরিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলামসহ অনেকে।
সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল্লাহ হাসান বলেন, সুস্থ জাতি গঠনে অবিলম্বে ‘মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন এবং এর দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। তিনি বলেন, পারিবারিক কলহ, হত্যা, আত্মহত্যা, বিষণ্নতাসহ সকল সামাজিক অপকর্মের কারণ হলো মানসিক অসুস্থতা। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণ প্রজন্মকে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকেই মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কোর্স চালু করতে হবে। সঠিক শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে নিজেদের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন ঘটানো দরকার।
আশরাফী রিক্তা বলেন, কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার সাথে একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন নির্ভরশীল। তাই কর্পোরেটদেরও খেয়াল রাখতে হবে যেন তার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা মানসিক দিক থেকে সন্তুষ্ঠ থাকে।
কাজী মুস্তাফিজ বলেন, আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। প্রযুক্তি ব্যবহারের সহজলভ্যতা এবং এই ব্যবহারের গতিবিধি নির্ধারণের যথাযথ কোনো ব্যবস্থা না থাকায় যেকেউ ইন্টারনেটের বিশাল জগতে যেখানে ইচ্ছে সেখানে বিচরণ করতে পারে। যে বয়সে তরুণ বা শিশুদের মানসিক বিকাশ ঘটে, সেই বয়সে তাদের অনেকেই যেমন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিত্যনতুন বিষয় জানতে ও শিখতে পারছে, একইভাবে হয়তো ভুলবশত কিংবা কৌতূহলবশত নিজের অজান্তেই পরিচিত হয়ে যাচ্ছে অন্ধকার জগতের সঙ্গে, যা তাদের মানসিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যার ফলে বাড়ছে বিকৃত মানসিকতা। এজন্য অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ব্যাপকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
জিনিয়া ফেরদৌস রুনা বলেন, যারা জঙ্গী হচ্ছে তারা প্রত্যেকেই মানসিক রোগী।আমরা বাবা মায়েরা আমাদের ছেলেমেয়েদের নিজেদের মতো করে চালাতে চাই।শিক্ষকরাও সব ছাত্রছাত্রীদের সমান চোখে দেখেনা। এ জন্য তারা মানসিক ধাক্কা খায়। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে নিয়ে আমাদের এখন আরো বেশী ভাবতে হবে। এখনকার শিশুরা বেশীর ভাগ সময় ব্যস্ত থাকে মোবাইল বা ইন্টারনেটএ কার্টুন দেখা নিয়ে।
মানজুর হোসাইন বলেন, সচেতন থাকলে নিজের মন ও শরীরের যত্ন নিয়ে আমরা এ সব সমস্যা কমিয়ে আনতে পারি। যেমন- ইতিবাচক চিন্তা করা, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, শরীরচর্চা করা, মানসিক চাপের কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবেলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো, বেড়াতে যাওয়া, নেতিবাচক কাজ বাদ দেওয়া, প্রার্থনা করা, ক্ষমা প্রদর্শন করা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা ইত্যাদি। এরপরও মানসিক চাপ যদি আমাদের জীবন-যাপনে খুব বেশি প্রভাব ফেলে, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
তিনি বলেন, কর্মীর মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানকেও ভূমিকা রাখতে হবে। আমিরুল ইসলাম বলেন, মানসিক সমস্যা যে অসুস্থতা এটা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সাঈদা আফরিন বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ব্যাপারে কিছু কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে।
মনে করা হয়, মানসিক সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তি বা যিনি মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিচ্ছেন, তারা কাজে-কর্মে অক্ষম। অথচ বাস্তবতা হলো, সুচিকিৎসার মাধ্যমে যে কোন সমস্যাগ্রস্থ ব্যক্তি কর্মক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। কোন কোন ক্ষেত্রে সুস্থ ব্যক্তির চাইতেও বেশি কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেন তিনি। মানসিক সমস্যায় পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মী, স্বাস্থ্য সেবাদানকারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বেগজনিত সমস্যা ও আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। তাই তাদের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
বার্তা প্রেরক-
রুবেল আহমেদ, প্রচার সম্পাদক, স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থা, প্রয়োজনেঃ 01911197978 (আব্দুল্লাহ হাসান)

Share.
Loading...

Comments are closed.