News update
  • Croatia beat Japan on penalties to reach World Cup quarter-finals     |     
  • Arrest warrants issued against BNP's Rizvi, Ishraque     |     
  • More than 1 in 5 worldwide suffering from violence at work: ILO     |     
  • China's face-saving exit from his signature policy     |     
  • About 44,000 TB-affected people died in Bangladesh last year     |     

কোরবানি ও এর বর্জ্য ব্যবস্হপনা

error 2022-07-02, 12:30pm

cattle-market-b-8e1bce7f2367669f77286d482c27aac51656145945-1a72fd41b0f2188b47abe656ebbf648c1656743567.jpg

Sacrificial cattle



আদনান মোরশেদ

আগামী ১০ জুলাই  পালিত হতে যাচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। করোনা সংক্রমণ আবারও বাড়ছে। সংক্রমন নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতিমধ্যে জনসাধারনকে মাস্ক ব্যবহারসহ অন্যান্য বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দিয়েছে। 

ঈদ কেন্দ্রিক যাতায়াত, কোরবানির পশুর হাটে লোকসমাগম বাড়লে এবং স্বাস্হ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঈদুল আজহার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করা। 

প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী কোরবানির জন্য এ বছর দেশে গবাদিপশুর সরবরাহের সংখ্যা দুই লাখের বেশি বাড়ানো হয়েছে। এ বছর কোরবানির জন্য গরু, ছাগল, ভেড়া ও উট মিলিয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। 

এ সকল কোরবানির একটা বড়ো অংশ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সম্পূর্ন হবে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে  কোরবানির হাটে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়েছে । 

এছাড়াও রোগগ্রস্ত পশু হাটে বিক্রি করতে দেওয়া হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সদস্য নিয়োগ করার সিদ্ধন্ত নেওয়া হয়েছে।

গতবারের ন্যায় এবারও দেশের নাগরিকদের পশুর হাটে যেয়ে পশু কেনাকে নিরুৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কম-বেশি ০৮ শতটির মত পশু ক্রয়ের অনলাইন প্লাটফর্ম ইতিমধ্যে তাদের কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে সরকারি উদ্যোগে কম-বেশি ০৫ শ টি এবং বাকি গুলো বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে।  

ইতিমধ্যে এ সকল অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিদিন কোরবানির পশু বিক্রি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের কাছে এটি জনপ্রিয় হচ্ছে। বেঙ্গল মিট,কিউকম ডটকম, ডিজিটাল হাট,প্রিয় শপ,দেশি গরু,ই-বাজার, আজকের ডিল,বিক্রয় ডটকম ইতিমধ্যে জনগণের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় অনলাইনে কোরবানির পশু ক্রয়ের একমাত্র ডিজিটাল প্লাটফর্ম ডিজিটাল হাট ডেট নেট। 

বেঙ্গল মিট ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে কোরবানির পশু ক্রয় করে তাদেরকে  কোরবানি করার দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় সকল বিধি বিধান পালন পূর্বক কোরবানি সম্পন্ন করে মাংস তাদের নিজ দায়িত্ব চব্বিশ ঘন্টার ও কম সময়ে পৌঁছে দিয়ে থাকে। ঢাকা শহরে এ সকল মাংস কোরবানির দিন সন্ধ্যার আগেই পৌঁছে দিয়ে থাকে। এসকল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোরবানি দেওয়া হলে সময়, ও অর্থের সাশ্রয় হবে এবং  করোনাকালে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। 

এছাড়াও এ সকল প্রতিষ্ঠান নিজ দায়িত্বে বর্জ্য ব্যবস্হাপনা করে থেকে বিধায় পরিবেশের জন্য এটা সহায়ক। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সম্মানীত মেয়র ইতিমধ্যে ডিজিটাল হাট থেকে পশু ক্রয় করার জন্য সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের অনুরোধ করেছেন।

আমাদের দেশে সকলে মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে কোরবানির পশু হাট থেকে ক্রয় করে বাসায় নিয়ে আসার কালচার রয়েছে। কিন্তু আমাদের সকলকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। দলবেঁধে পশুর হাটে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। লোকসমাগম যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।যত্রতত্র কোরবানি না দিয়ে কর্তৃপক্ষের নির্বাচিত  নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানি দেওয়া হলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। 

এ সব জায়গায় কর্তৃপক্ষ পূর্ব থেকেই সকল প্রকার সহায়তার ব্যবস্হা করে থাকে, ফলে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই কোরবানি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এর মোট ৭৫ টি ওয়ার্ড রয়েছে। এগুলোকে ১০ টি জোনে ভাগ করা আছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মোট এলাকা প্রায় একশ দশ কিলোমিটার। জনসংখ্যা প্রায় ০১ কোটি ২০ লাখ। এখানে অনুমোদিত ডাস্টবিন আছে ৪ হাজার ১৫৫ টি। 

পরিচ্ছন্নতা কর্মী আছে ৫ হাজার ৪ শত। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের জন্য ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করে সম্মানীত নাগরিকদের করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার শুরু করেছে। যদিও তিন দিনের মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের কথা বলা হয় তবে কোরবানির দিনই অধিকাংশ বর্জ্য অপসারণের জন্য সকল প্রকার ব্যবস্হা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে মোট ৫৪ টি ওয়ার্ড রয়েছে। এগুলোকে ১০ টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনে মোট জনসংখ্যা কমবেশি ০১ কোটি। মোট আয়তন ১শত ৯৬ বর্গ কিলোমিটারের ও বেশি। সবমিলিয়ে কম-বেশি ১১পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবার কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের কাজে সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। কন্টেইনার কেরিয়ার ৪৪ টি,আর্ম রোল ০৮ টি,কম্পপ্যাকটর ৪৬ টি,খোলা ট্রাক ১৬২টি,ড্রাম ট্রাক ৩৪ টি। 

এ সকল সরঞ্জাম ও জনবলের মাধ্যমে কোরবানি পশুর বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সম্মানীত মেয়র মহোদয় ইতিমধ্যে নগরবাসীকে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের বিষয়ে সহায়তা চেয়েছেন। অবৈধ পশুর হাট যেন না বসে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা করা হয়েছে।পশু কোরবানির ক্ষেত্রে কোনোরকম সমস্যা যাতে না হয় সে জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ।

এ জন্য নগরবাসীকে সচেতন করতে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। লিফলেট মুদ্রণসহ সম্মানিত কাউন্সিলরগণের সাথে সমন্বয়পূর্বক পশু জবেহ করার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫৪ টি ওয়ার্ডের মাংস ব্যবসায়ী নির্বাচন করে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং নগরবাসীর মধ্যে লিফলেট বিতরণ শুরু হয়েছে। অঞ্চল ভিত্তিক সম্মানিত কাউন্সিলর, সহঃপ্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এবং পিডাব্লিউসিএসপি এর সাথে সমন্বয়সভা করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। জনসচেতনতামূলক র‍্যালি, টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকা এবং গাড়ির সাহায্যে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক কার্যক্রমসহ মসজিদে ইমামগণের মাধ্যমে খুতবায় আলোচনার জন্য অনুরোধ করে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। 

০৩ জুলাই থেকে ওয়ার্ড ভিত্তিক বর্জ্য অপসারণ লক্ষ্যে পরিবহণ চালক ইউনিয়ন ও স্ক্যাভেঞ্জার্স এন্ড ওয়াকার্স ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের সাথে সভাকরে তাদের মতামতের ভিত্তিতে পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে। বাসা বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহকারী পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব ও লক্ষ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ০৫ জুলাই এর মধ্যে ওয়ার্ড ভিত্তিক বর্জ্য অপসারণ লক্ষ্যে তদারকির জন্য মনিটরিং টিম গঠন ও কন্ট্রোল রুম স্থাপন বর্জ্য রাখার ব্যাগ, ব্লিচিংপাউডার এবং স্যাভলন বিতরণ সম্পন্ন করা হবে। 

ঈদুল আজহার আগের দিন প্রত্যেক অঞ্চলে অতিরিক্ত যানবাহন বরাদ্দকরণ ও পশু জবেহ করার স্থানসহ ল্যান্ড ফিল  প্রস্তুতকরা হবে। ঈদের দিনের কার্যক্রম  হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহোদয়  দুপুর ২:০০ টায় প্রেস ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পশু বর্জ্য অপসারণের  উদ্বোধন করবেন।

  তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গণযোগাযোগ অধিদপ্তর  ও তথ্য অধিদফতর এ প্রচার কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। উত্তর সিটি কর্পোরেশনে  সবার ঢাকা নামে একটি অ্যাপস চালু আছে। এটি ডিএনসিসির সিটিজেন এনগেজমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্লাটফর্ম। এ অ্যাপসটি ব্যবহার করে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সন্মানিত নাগরিকরা তাদের এলাকার সমস্যা বা মতামত  মেয়র মহোদয়কে জানাতে পারেন। উত্তর সিটি কর্পোরেশন তিন দিনের মধ্যে বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও কোরবানির দিনই অধিকাংশ বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। 

কোরবানির যে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য তৈরি হবে তা অপসারণের দায়িত্ব শুধু দুই সিটি কর্পোরেশনকে দিলে হবে না,এজন্য ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক কিছু করণীয় আছে। পশুর মাংস কাটার সময় উচ্ছিষ্টগুলো সিটি কর্পোরেশন থেকে সরবরাহকৃত ব্যাগে ভরে সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্হানে রাখতে হবে। এছাড়াও কোরবানি দেওয়ার স্হান গুলোতে সিটি কর্পোরেশনের দেওয়া ব্লিচিং পাউডার দিয়ে নিজ দায়িত্বে পরিষ্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।

কোরবানি দাতার অবহেলা ও অসচেতনতা কোরবানির পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। মনে রাখা দরকার বর্জ্য অপসারণের প্রথম দায়িত্ব কোরবানি দাতার।যত্রতত্র কোরবানির বর্জ্য ফেলে পরিবেশ নষ্ট করে প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে অগ্রহণযোগ্য। ইসলাম পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ধর্ম। সিটি করপোরেশন থেকে এ করোনা মহামারি, চিকনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হওয়ায় নগরবাসীকে সচেতন করতে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা,মাস্ক পরা, বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের জন্য পশুর জন্য কেনা খড়কুটো নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে হবে। পশু রাখার জায়গা ব্লিচিং পাউডার দিয়ে পরিস্কার করতে হবে। পশু জবাইয়ের পর রক্ত ও ময়লা ব্লিচিং পাউডার ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। অযথা পানির অপচয় করা যাবে না। যে পোশাক পরে পশু জবাই করা হয়েছে বা মাংস কাটা হয়েছে সেগুলো ভালো করে পরিস্কার করতে হবে। সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত জায়গায় বর্জ্য  রাখতে হবে। চারপাশ যেন দুর্গন্ধ ও জীবানু মুক্ত থাকে সে ব্যপারে সতর্ক থাকতে হবে।

হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে। কোরবানি ও পশুর মাংস কাটার সময় অযথা ভিড় করা যাবে না। সমাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। পশুর চামড়া দ্রুত বিক্রি অথবা দান করে দিতে হবে। সন্মানীত নগরবাসীদের  সহায়তায় গতবারের ন্যয় এবারও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন দ্রুততম সময়ের মাধ্যমে পশুর বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হবে এটাই জন প্রত্যাশা।

- পিআইডি ফিচার