News update
  • Bangladesh Targets 8.5-Fold Rise in Cotton Output by 2050     |     
  • India Jails Two 'Cockroach' Movement Leaders for Five Days     |     
  • Iran Says Cargo Ship Sank After Hitting Mine in Hormuz     |     
  • No Plan for Operation Clean Heart-Style Drive Now: Home Minister     |     
  • Bangladesh Eyes $10b in UK Exports Through Diversification     |     

ফেনীতে ভয়াবহ ‘মেঘ বিস্ফোরণ’, কেন?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক আবহাওয়া 2026-04-28, 10:42pm

5t34534534534-2fea986ec9cad46d5e11725050f01cdc1777394534.jpg




ফেনীতে ভয়াবহ ‘মেঘ বিস্ফোরণ’ বা ক্লাউডবার্স্টের ঘটনা ঘটেছে। স্মরণকালের ভয়াবহ মেঘ বিস্ফোরণে এক ঘণ্টায় রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফেনীর জনজীবন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এক ঘণ্টায় ১২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চলতি বছরের সর্বোচ্চ ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান আরও জানান, স্বাভাবিক লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড়ের আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে টানা বর্ষণের ফলে ফেনী শহরের ডাক্তারপাড়া, শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস, শাহীন একাডেমি এলাকা, পাঠানবাড়ি, নাজির রোড, মিজান রোড, সদর হাসপাতাল মোড় ও পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার নিচু সড়কগুলো। দোকানপাটে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিভিন্ন পণ্য। 

মেঘের বিস্ফোরণ কী?

মেঘের বিস্ফোরণ হলো এমন এক ধরনের বৃষ্টিপাত, যেখানে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিকভাবে প্রবল বৃষ্টি নামে। সাধারণত ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত হলে তাকে মেঘ বিস্ফোরণ ধরা হয়। এর সময়সীমা কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা হতে পারে, তবে এর প্রভাব হয় ভয়াবহ।

কেন বা কীভাবে হয়?

পাহাড়ি এলাকায় আর্দ্র বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে ঠাণ্ডা হয়ে ঘনীভূত হয়। এতে স্বল্প জায়গায় প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প জমা হয়। হঠাৎ করে বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য নষ্ট হলে এই বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্প একসঙ্গে প্রচণ্ড বৃষ্টি হিসেবে নেমে আসে, যা দেখে মনে হয় যেন আকাশ ফেটে গেছে। অনেক সময় হিমবাহ বা গ্লেসিয়ার ভেঙে পড়ার কারণেও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

মেঘ বিস্ফোরণ ও অতি বৃষ্টির পার্থক্য

অতিবৃষ্টি হলো, দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত এলাকায় প্রবল বৃষ্টিপাত। যেমন—বাংলাদেশের মৌসুমি বন্যা। আর মেঘ বিস্ফোরণ হলো, অল্প এলাকায় অল্প সময়ে অত্যধিক বৃষ্টিপাত। এটি সাধারণ বন্যার চেয়ে অনেক দ্রুত ও ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনে।

পূর্বাভাসের ব্যবস্থা আছে কি?

বর্তমানে মেঘ বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়। আবহাওয়া অধিদফতর সাধারণত অতিবৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস দিতে পারে। কিন্তু এত স্বল্প এলাকায়, এত অল্প সময়ের ঘটনার জন্য আলাদা সতর্কবার্তা দেয়া এখনও প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তবে আধুনিক রাডার, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এবং স্থানীয় মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকি কিছুটা আগে শনাক্ত করা সম্ভব।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব 

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বায়ুমণ্ডলে বেশি জলীয়বাষ্প জমা হয়। এর ফলে স্বল্প এলাকায় হঠাৎ করে অতিবৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মেঘ বিস্ফোরণের ঘটনাও আরও বাড়তে পারে। মেঘের বিস্ফোরণ কোনো সাধারণ বর্ষণ নয়—এটি মুহূর্তের মধ্যে পাহাড়ি বা সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে। দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক প্রাণহানির ঘটনা আমাদের সতর্ক করে দিচ্ছে। বাংলাদেশে এখনো বড় আকারে এমন ঘটনা না ঘটলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ঝুঁকি ভবিষ্যতে বাড়তে পারে। তাই এই বিষয়ে সচেতনতা, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া জরুরি।