
অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা বা শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থায় নতুন একগুচ্ছ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ভিসার অপব্যবহার ও ‘ভিসা হপিং’ বন্ধ করা, আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতের মান ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল করাই এসব সংস্কারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
নতুন নিয়মে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বেশিরভাগ অস্থায়ী ভিসাধারী আর দেশটির ভেতর থেকে শিক্ষার্থী ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এর মধ্যে ওয়ার্কিং হলিডে মেকার ও স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসাধারীরাও রয়েছেন। খবর অস্ট্রেলিয়ার মিনিস্টার অব মিডিয়া সেন্টারের।
বর্তমান শিক্ষার্থী ভিসাধারীরা অস্ট্রেলিয়ায় থেকেই নতুন শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করলে তাদের প্রকৃত শিক্ষাগত অগ্রগতি দেখাতে হবে। তবে স্কুল ও পিএইচডি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কোর্স বাতিল বা স্থগিত হওয়ার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে সীমিত কিছু ছাড় থাকবে।
নতুন নিয়মে শিক্ষার্থী ভিসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নেওয়ার সুযোগও সীমিত করা হয়েছে। পিএইচডি শিক্ষার্থী, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও আসিয়ানভুক্ত দেশের নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়া বা বিদেশি সরকারের স্পনসর করা শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় পাবেন।
যদিও অস্ট্রেলিয়ায় ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান করা শিক্ষার্থীদের পরিবার থেকে আলাদা করা হবে না। নতুন অনশোর ভিসার আবেদন করার সময় তারা অস্ট্রেলিয়ায় থাকা যোগ্য পরিবারের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। তবে শিক্ষার্থীরা পরে আলাদাভাবে ‘সাবসিকোয়েন্ট এন্ট্র্যান্ট’ হিসেবে পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করতে পারবেন না।
একই ধরনের বিধিনিষেধ টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে অস্ট্রেলিয়ায় ইতোমধ্যে থাকা এবং শিক্ষার্থী বা টেম্পোরারি গ্র্যাজুয়েট ভিসায় সেকেন্ডারি আবেদনকারী হিসেবে থাকা পরিবারের সদস্যদের আলাদা করা হবে না।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আনা হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল ছাড়া অন্যান্য শিক্ষার্থীদের তাদের মূল কোর্সে কমপক্ষে ১২ মাস থাকতে হবে। আগে এই সময়সীমা ছিল ছয় মাস।
তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা কোর্সের নিবন্ধন বাতিল হলে নির্ধারিত সময়ের আগেও প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে। স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রথম নিবন্ধিত স্কুল কোর্সের জন্য আগের ছয় মাসের বিধিনিষেধই থাকবে।
২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন ‘স্টুডেন্ট ভিসা ট্রান্সফার স্ট্রিম’ চালু হবে। তখন অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের এই নতুন ধারায় আবেদন করতে হবে। নতুন ভিসা হাতে পাওয়ার আগে তারা নতুন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা শুরু করতে পারবেন না।
নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা একই স্তরের বা অস্ট্রেলিয়ান কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী উচ্চতর স্তরের কোর্সে স্থানান্তর হতে পারবেন। উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় এসে পরে দেশটির ভেতর থেকে ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (ভিইটি) কোর্সে স্থানান্তরের সুযোগও বন্ধ করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড মাল্টিকালচারাল অ্যাফেয়ার্সের সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিল বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাত দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই খাতের সাফল্য ধরে রাখতে মান, স্বচ্ছতা ও শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
জুলিয়ান হিল বলেন, নতুন সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করার পাশাপাশি প্রকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার উচ্চমানের শিক্ষা ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখা হবে।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের ভাষ্য, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষা খাতকে শক্তিশালী ও টেকসই রাখার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ভিসাকে মূলত পড়াশোনার উদ্দেশ্যেই ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।