
সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা এবং বাইশ গজে নামা নিয়ে গত দেড় বছর ধরেই চলছে আলোচনা। আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও ফারুক আহমেদের সময় আলোচনা হলেও সেটি কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের সামনে উঠল একই প্রশ্ন।
তামিম মনে করিয়ে দিলেন, পরিস্থিতিটা কেবল সাকিবের একার নয়। আরও দুজন সাবেক অধিনায়ক— মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও একই রকমের পরিস্থিতির মধ্যে আছেন। সাকিবের পাশাপাশি তাঁদের নামও উল্লেখ করার অনুরোধ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে বিসিবি সভাপতি হিসেবে নিজের প্রথম উন্মুক্ত সংবাদ সম্মেলনে এসে তামিম ইকবাল এসব কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ক্রিকেটারদের আইনি জটিলতা নিরসনে বোর্ডের কিছু করার নেই।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক তিন অধিনায়কই রাজনৈতিক জটিলতায় পড়েছেন। মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয় বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। নড়াইল-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার সরকার পতনের পর থেকে লোকচক্ষুর অন্তরালে।
এই দুজনের চেয়ে সাকিবের পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা ভিন্ন। নাঈমুর রহমান অবসর নিয়েছেন অনেক আগেই। মাশরাফীরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শেষ হয়েছে। সাকিব এখনও খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার নামে একাধিক মামলা থাকায় বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন সাকিব।
তামিম ইকবাল বলেন, ‘গত এক-দেড়-দুই বছর ধরে একজন নির্দিষ্ট ক্রিকেটারকে নিয়েই আমরা কথা বলছি। আমার অনুরোধ, যখন এই প্রশ্নটা করেন আমাদের তিনজন ক্রিকেটার, তিনজন সাবেক অধিনায়ক, সাকিবের সঙ্গে মাশরাফী বিন মুর্তজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ও একই ধরনের পরিস্থিতিতে আছে। আপনারা যখন প্রশ্ন করবেন, দয়া করে নিশ্চিত করবেন যে, অন্য দুজন অধিনায়কের নামও উল্লেখ করছেন।’
সাকিবের ইচ্ছা ছিল দেশের মাঠ থেকে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তার দেশেও আসার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর আইনি জটিলতার কারণে দেশে আসা হয়নি তার। আমিনুল ইসলামের কমিটি সাকিবকে শর্তসাপেক্ষে ফেরানোর কথা বললেও তামিম দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে।
বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটীয় কোনো সুযোগ-সুবিধা বা যে কোন কিছু করার, আমরা তাদেরকে দু হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাব। আইনগত যে জিনিসগুলো আছে, আমাদের মন্ত্রী সাহেবও বলেছেন যে, এটার প্রতি আমরা নমনীয় হব, উনার তরফ থেকে বলেছেন। ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে আমাদের তরফ থেকে ক্রিকেটীয় যেসব জিনিসে আমরা সহায়তা করতে পারি, আমরা সবসময়ই তাদেরকে খোলা মনে স্বাগত জানাতে তৈরি, যদি উনাদের ওই সমস্যাগুলো উনারা সমাধান করে আসেন।’