
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়, যার ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-কিশোরগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এই ঘটনায় ৭টি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়লে যাত্রীরা চরম আতঙ্ক ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন।
খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দিনগত রাত দেড়টার দিকে সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে রাত ১টা ৫০ মিনিটের দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমানে স্টেশন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে শহরের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর মধ্যপাড়ার দুই দল কিশোরের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে রাত ৯টার দিকে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এলাকায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এসময় প্ল্যাটফর্মে থাকা উভয় গ্রামের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। একই সঙ্গে ভাঙচুর করা হয় স্টেশনের বিভিন্ন সরকারি অফিস ও স্থাপনা।
সংঘর্ষের কারণে স্টেশন মাস্টারসহ বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ফলে ট্রেন চলাচলসহ স্টেশনের সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হামলার শিকার হন রেলওয়ে পুলিশসহ স্টেশনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার পুলিশ সদস্যরা।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে সংঘর্ষকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় ইটপাটকেল ও পাথরের আঘাতে ৮ পুলিশ সদস্য আহত হন।
আহতরা হলেন– এসআই সাইফুল, এসআই জহুরুল ইসলাম, কনস্টেবল মেহেদী হাসান, সুলতান মাহমুদ, মিন্টু মিয়া, মাহমুদুল হাসান, দাউদ নবী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্য মো. মুছা। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সংঘর্ষের কারণে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস, সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্ধুর গোধূলি, ভৈরবগামী নরসিংদী কমিউটার ও একটি মালবাহী ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি ট্রেন ভৈরবের আশপাশের বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও সিলেট রুটের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রেললাইনের দুই পাশের দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা পুরো স্টেশন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেন যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. ইউছুফ বলেন, হামলা ও ভাঙচুরে স্টেশনের কয়েকটি কক্ষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থেকে চরম আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন আটকে থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, প্রথমে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর, সর্বশেষ সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।