
জাতীয় নির্বাচনের পর এবার স্থানীয় সরকারের তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে রয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। আগামী সপ্তাহে কমিশন সভায় ঠিক হবে নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনাও।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই জাতীয় নির্বাচনের আগেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি তোলে জামায়াতসহ তাদের মিত্ররা। পরে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার মুখে আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন থেকে সরে আসে ড. ইউনূস সরকার।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে নিরঙ্কুশ জয় লাভের মধ্য দিয়ে নতুন সরকার গঠন করে বিএনপি। সরকার গঠনের তিন দিনের মাথায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আয়োজন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে ইসি।
আইন অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যেই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর প্রথম সভা হয় ২০২০ সালের দোসরা জুন। সে হিসেবে দক্ষিণ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ১ জুনে। আর ঢাকা উত্তর সিটির প্রথম সভা একই বছরের ৩ জুন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এই সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ২ জুন। আর চট্টগ্রাম সিটির ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের বিষয়ে চিঠি পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের পস্তুতিও এরইমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আমরা হয়তোবা আাগমী সপ্তাহের মধ্যে কমিশনে বৈঠক করে বিস্তারিত পরিকল্পনা নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এবং দক্ষদেরই এই নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেমন আমরা প্রভাবমুক্ত নির্বাচন করতে পেরেছি, ভবিষ্যতেও আরও নিরপেক্ষতার প্রমাণ আমরা রাখবো।’
২০২৪ সালে সরকার পতনের পর স্থানীয় সরকারের মেয়র, কাউন্সিল, চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের ফলে অন্তবর্তী সরকার ১২সিটি, ৩৩০ পৌরসভা, ৩৯৭ উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের অপসারণ করে। ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।