
কুমিল্লায় মাত্র এক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন জলাবদ্ধতা। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালের ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকার অলিগলি এখন হাঁটুসমান পানির নিচে। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন, আর সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা।
বৃষ্টির কারণে সকাল থেকেই শহরের কান্দিরপাড়, চকবাজার, শাসনগাছা ও ধর্মপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। ঈশ্বর পাঠশালা স্কুলসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় মোমবাতি ও চার্জার লাইটের আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে শিক্ষার্থীদের। অনেক কেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষার্থীদের দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দেওয়ার মতো অমানবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরীক্ষা শেষে অনেক শিক্ষার্থীকে কোমর সমান পানি মাড়িয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণেই এই দশা। সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ কিলোমিটার বক্স ড্রেন নির্মাণ করা হলেও তা পানি নিষ্কাশনে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। নগরবাসীর দাবি, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং নির্মাণসামগ্রী যত্রতত্র ফেলে রাখায় এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু এই পরিস্থিতির জন্য বিগত দীর্ঘ সময়ের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মকে দায়ী করেছেন। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতোমধ্যে রেইসকোর্স ও কান্দিরপাড় খাল খনন করা হয়েছে। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে নতুন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত আরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নগরবাসীর উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।