News update
  • NCP Demands Impeachment, Arrest of President     |     
  • PM Pledges to Modernise, Strengthen Border Force     |     
  • Dhaka Tops Global Pollution List with Hazardous Air     |     
  • Country Observes Martyred Army Day Today     |     
  • 100 CSOs rally against Trump’s trade tactics, urge access to drugs     |     

গঙ্গার পানি চুক্তি: শহীদ জিয়া প্রদর্শিত পথ এবং আমাদের কারণীয়

পানি 2026-02-25, 5:38pm

img-20260105-wa0049-1d987de9dd8bf1bc0bee7e984da1ca3f1772019854.jpg

Zainal Abedin



মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরকারকে বর্তমান নবীন বলেই মনে করি। বিশেষতঃ তিনি ক্ষমতা প্রাপ্তির প্রায় সাথে সাথে আমাদের অস্তিত্ব ও উন্নতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত পদ্মার পানি চুক্তির নবায়ন কিংবা পুনর্লিখিত হবার সময় আসায় এই নদীর পানির নায্য হিৎসা নিশ্চিত করতে তার সরকার কতোখানি দৃঢ় তথা সফল হবে তা দেখার জন্য পুরো জাতি এখন উদ্বেগ-উৎকন্ঠার নিয়ে অপেক্ষা করছে।

এমন পরিস্থিতিতে ৬০/৬৫ বছর আগে পড়া কবি কাজী আব্দুল কাদের নেয়াজ রচিত একটি কবিতার দুটি পঙ্ক্তি মনে পড়ে: ‘যাত্রা তব শুরু হোক হে নবীন কর হানি  দ্বারে নবযুগ ডাকিছে তোমারে।’

তারেক রহমানের নতুন সরকারের যাত্রার শুরুতে ২০২৬ সনের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি চুক্তি শেখ হাসিনার সাথে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। সুতরাং এই সময়ের আগেই এই চুক্তি নবায়িত অথবা পুনর্লিখিত কিংবা বাতিল হতে হবে।

এই ক্ষেত্রে তারেক রহমানের সামনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সনে পদ্মার ন্যায্য পানি আদায়ে যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেই উদাহরণ তথা রাস্তা তারেক রহমানের সামনে রয়েছে। সেই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত তিনি বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজে লাগাতে পারেন।

উল্লেখ্য ১৯৭৪ সনে মুজিব ইন্দিরা পানি চুক্তি ছিল ৫ বছর মেয়াদী অন্তবর্তীকালীন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজসহ (সুনিশ্চিতকরণ শর্ত) বাংলাদেশে ফারাক্কা পয়েন্টের পানির ৪৪ হাজার কিউসেক পানি প্রদানের ব্যবস্থা ছিল । ১৯৭৫ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর  ভারত শুকনো মওসুমে তার সাথে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী পানি প্রদানের ওয়াদা হতে সরে যায়।  এমন জনশ্রুতিও ছিল যে, ভারত বেসরকারীভাবে এমন বক্তব্য ছড়িয়েছিল যে চুক্তিটি হয়েছিল শেখ মুজিবের সাথে, জিয়াউর রহমানের সাথে নয়। সুতরাং ওই চুক্তি অব্যাহত রাখতে ভারত বাধ্য নয়।

শহীদ প্রেসিন্টে জিয়াউর রহমান ধীশক্তিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। গঙ্গার পানি আদায়ের জন্য তিনি ভারতের কাছে মাথা নত না করে পানি আদায়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিতক পর্যায়ে জনমত তৈরির পদক্ষেপ নেন। তিনি তৎকালীন বাংলাদেশের  বাংলা-ইংরেজি পত্রিকায় ফারাক্ষা বাঁধের বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাবেগুলো তুলে ধরতে কূটনীতিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদেরকে উদ্বুদ্ধ করেন।

ভারত যে একতরফাভাবে আন্তুর্জাতিক নদীর পানিপ্রবাহ থেকে ভাটির দেশকে বঞ্চিত করতে পারে না সেই কথা ভারতকে মনে করিয়ে দেন। যেহেতু গঙ্গা আন্তজাতিক নদী, তাই এই নদীর সমসা সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তথা জাতিসংঘে  উত্থাপনই যথাযথ পদক্ষেপ বলে মনে করেন। এমন পদক্ষেপের আগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত তৈরির গুরুত্বও তিনি সঠিকভাবেই উপলব্ধি করেন।

তিনি মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ রাখতেন এবং তার সহযোদিতায় ‘মার্চ টু ফারাক্কা’ শীর্ষক ঐতিহাসিক গণমিছিল তথা পদযাত্রার ব্যবস্থা করেন। ফারাক্কাগামী মিছিলকে সফল করার জন্য শহীদ জিয়া তার প্রশাসনকে নির্দেশ দেন। প্রেসিডেন্ট জিয়াই মূলত ফারাক্কা মিছিলকে সফলতার দিকে নিয়ে যান। এই মিছিল ভারতকে বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে যে ফারাক্কার পানি আদায়ে শহীদ জিয়া সরকার ভারতকে অমূলক ছাড়  দিবে না। বৈষয়িক স্বার্থ-সুবিধাবিমুখ ভাসানী শহীদ-জিয়াকে একজন নির্লোভ আদর্শবাদী দেশপ্রেমিক হিসেবে সম্মান করতেন ও ভালোবাসতেন। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি তার অনুসারীদেরকে শহীদ জিয়াকে সমর্থন করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

জাতীয় জনমতকে তার অনুকুলে আনার পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক সমর্থনকে জরুরী বলে মনে করতেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিশ্চিত ছিলেন ভারত দ্বিপাক্ষিক এই সমস্যার ন্যায্য সমাধানে কখনোই আন্তরিক হবে না। যেহেতু পদ্মা আন্তজাতিক নদী, সুতরাং আর্ন্তাতিক পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করা ছাড়া বাংলাদেশের সামনে অন্যকোন বিকল্প নেই। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে তিনি বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করার জন্য তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উদ্বুদ্ধ করেন। এভাবেই ফারাক্কা সমস্যা সমাধানের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উঠার রাস্তা তৈরি হয়, যা কোনভাবেই ভারতের প্রত্যাশিত ছিল না।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট জিয়া জাতিসংঘে বিষয়টি  উত্থাপনের আগে ‘ও আই সি’ (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক অর্গানাইজেশন)’এর ১৯৬৬ সনের মে  মাসে ইস্তামবুলে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দেন। ওই সময় তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন। ওই সম্মেলনে তিনি যে দুঃসাহসী অগ্নিঝরা  বক্তব্য দেন তা সম্মেলেেন উপস্থিত তৎকালীন রাষ্ট্রনায়ক, কূটনীতিক, সরকারী কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকদের বিমোহিত করে। এই সম্মেলনে তার উপস্থিতি তাকে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মানিত ও প্রতিষ্ঠিত করে।

এই সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন: সৌদি আরবের যুবরাজ ফাহাদ ইবনে বিন আব্দুল আজিজ (ওই সময়ে তিনি সৌদি আরবের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন), ফিলিস্তিন মুক্তি আন্দোলনের প্রধান ইয়াসির আরাফাত, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইহসান সাবির ক্যাগদলায়ান্জিল, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা বিষয়ক পতিমন্ত্রী আজিজ আহমেদ, সুদানের জামাল মোহাম্মদ আহমাদ, ইরাকের পররাষ্ট্র বিষয়ক পতিমন্ত্রী হাশেম আল-সা’ওয়াহ্, উগান্ডার সমবায় মন্ত্রী মুস্তাফা রমাদান, ইন্দ্রোনেশিয়ার সমবায় বিষয়ক মন্ত্রী মালিক আদম, ওইসময়ে ওআইস’র  বিদায়ী সেক্রেটারী জেনারেল  ডঃ আমাদু করিম গ্যািই প্রমুখ । এছাড়াও এই সম্মেলনে আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, মিশর, লিবিয়া,  জর্ডন,   তিউনিসিয়া, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এই সম্মেলনে তুর্কি সাইপ্রাসকে প্রথমবারের  মতো ওআইসি’র পূর্নাঙ্গ নিয়মিত সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। সব বিবেচনায় ওই সম্মেলন ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ।  

ওআইসি’র পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের ওই সম্মেলনে গঙ্গার পানির প্রাকৃতিক   প্রবাহ অব্যাহত রাখা তথা বাংলাদেশের পানিপ্রাপ্তি নিশ্চিত করার দাবির প্রতি পরিপূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে। এছাড়া শহীদ জিয়া ন্যাম (জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন), কমন ওয়েলথ (অব নেশনস)’ও পদ্মার পানি সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের ন্যায্য হিৎসার প্রতি সমর্থন জানায়। এভাবে শহীদ জিয়া তথাকথিক দ্বিপাক্ষিকতার খোলস থেকে  ফারাক্কাকে আন্তর্জাতিক সমস্যা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাদেশের জন্য অনন্য অবদান রেখে যান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাপে ভারত বাংলাদেশের সাথে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।

জাতিসংঘের কাছে ভারত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সে বাংলাদেশের সাথে পানি সমস্যা সমাধান করবে। এবং সে প্রতিশ্রিুতি দিয়েই ভারত বাংলাদেশের সাথে গ্যারান্ট্রি ক্লজসহ ৫ বছর মেয়াদী চুক্তি করে। এই চুক্তি ছিল বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক বিজয় বিশেষ। মুরার্জি দেশাই সরকারের সাথে স্বাক্ষরিত ৫ বছর মেয়াদি (১৯৭৭-১৯৮২) ওই চুক্তিতে চরম শুষ্ক মওসুমে (এপ্রিল-মে’ এর মধ্যকার ১০ দিন) ভারত ফারাক্কায় প্রাপ্ত পানির ৩৪,৫০০ কিউসেক (মোট প্রবাহের ৫৮.৫%) বাংলাদেশকে অঙ্গীকার করে। আর ভারত পেয়েছে ২০,৫০০ কিউসেক।

১৯৭৭ সনে স্বাক্ষরিত জিয়া-দেশাই পানিচুক্তির মেয়াদ শেষ হবার পর ধুরন্দর ভারতীয় নীতি নির্ধারকরা বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার বিচারপতি আব্দুস ছাত্তারের সাথে কোন চুক্তি করে নি।

ভারতীয় চর এরশাদ নির্বাচিত রাষ্ট্র বিচারপতি আবদুস ছাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ভারত তার সাথে পরপর ৫ বছর মেয়াদী দুটি (১৯৮৩ ও ১৯৮৮ সনে) স্বল্পমেয়াদী সমঝোতা (মেমোরাম অব অন্ডারস্ট্রাডিং)  চুক্তি করে। তথাকথিত সমঝোতামূলক চুক্তিতে  জিয়ার সাখে স্বাক্ষরিত চুক্তির গ্যারান্ট্রি ক্লজ (শুষ্ক মওসুমে ন্যুনতম পানি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা) দিয়ে গঙ্ঘার পানি পুরোপুরি ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়। এই হচ্ছে ভারতীয় বন্ধুত্বের স্বরূপ এবং এরশাদের দেশেেদ্রাহিতার সামান্যতম নমুনা।  এর ফলে ভারত এককভাবে তার ইচ্ছে মতো  গঙ্গার পানি তুলে নেয়ার এবং বাংলাদেশকে পানি থেকে পুরোপুরি বঞ্চিত করার একচ্ছত্র অধিকার ভোগ করে।

বেগম জিয়া (১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬) সনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন ভারত তার সরকারের  সাথে গঙ্গার পানি চুক্তি করতে রাজি হয় নি। তিনি বিষয়টি পুনরায় জাতিসংঘে উত্থাপনের উদ্যোগ নিলে ভারত অভিযোগ করে যে, বেগম জিয়া সরকার গঙ্গার পানি নিয়ে রাজনীতি করছেন। এমনকি ভারত অভিযোগ করে বাংলাদেশ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে গোলযোগ সৃষ্টি করছে। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অমূলক। কারণ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে, বিশেষতঃ নাগাল্যান্ড, মনিপুর, মিজোরাম (লুসাই হিলস) ইত্যাদিতে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগষ্ট থেকেই স্বাধীনতাযুদ্ধ চলমান রয়েছে ।

মূলকথা হলো জিয়া-দেশাই চুক্তির পর কোন দেশপ্রেমিক সরকারের সাথে ভারত পদ্মার পানি বন্টনের কোন চুক্তি করেনি। এরশাদ (১৯৮৩ ও ১৯৮৮ সনে ৫বছর মেয়াদে দুই দফায় ১০ বছর) এবং শেখ হাসিনার সাথে (১৯৯৬ সনে ৩০ বছর মেয়াদী) বশ্যতামূলক চুক্তি করে ভারত আন্তর্জাতিক নদীর পানি নিজের ইচ্ছে মতো ব্যবহার করছে।  এই দীর্ঘসময় ৪০ বছর বাস্তব অর্থে ভারত পদ্মা/গঙ্গার পানি হতে বাংলােেদশকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করেছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব কতো ট্রিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ বহন করে আসছে সেই পরিসংখ্যান  বিশ্বের কোন দেশ কিংবা সংস্থার কাছে আেেছ কী না তা আমার জানা নেই। এর দায় কে বহন করবে?

পত্র-পত্রিকায় টিভি চ্যানেলে সামাজিক মাধ্যমে অনেক কিছু দেখি। তারেক রহমানের নতুন সরকারের দোষ-ত্রুটি ধরিয়ে দেয়ার কিংবা তার সরকারকে নাস্তা-নাবুদ করার পন্ডিতের অভাব নেই। কিন্তু বাংলাদেশকে রসাতল থেকে বের করে আনার কোন ফতোয়া দেয়োর কেউ নেই। ভাবনা খানা এমন যে বিপুল ভোটে নির্বাচিত তারেক রহমান সরে গেলেই যেন দেশ সোনা-দানায় ভর্তি হয়ে যাবে।

বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এই অতি জটিল ও কঠিন পরিস্থিতি যথাযথভাবে সাহস এবং দৃঢ়তার সাথে মোকাবেলা করতে হবে । এই ক্ষেত্রে দলমত নির্বিশেষে দেশপ্রেমিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে তার পেছনে দাঁড়াতে হবে। এটা তারেক রহমানের একক দায়িত্ব নয়। পানি সমস্যাসহ ভারতের সাথে বিদ্যমান সব সমস্যাই জাতীয় সমস্যা। এই সব সমস্যার মুখোমুখি হলে সবদলকেই এক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। সব দলকে এক টেবিলে বসতে হবে। এসব দলীয় সমস্যা নয়,  জাতীয়  সমস্যা।  আমরা ঐক্যবদ্ধ হলে ঐক্যবদ্ধ থাকলে আল্লাহ ছাড়া আর কোন শক্তির কাছেই আমাদেরকে মাথা নত করতে হবে না।