
সৌদি আরবে এক সপ্তাহে আকামা (বাসস্থান), সীমান্ত নিরাপত্তা ও শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৫ হাজার ২৩১ জন প্রবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৭ জুন) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৮ থেকে ২৪ জুনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ৭ হাজার ৫৮৯ জন বাসস্থান আইন, ৪ হাজার ৪৪৩ জন সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ৩ হাজার ১৯৯ জন শ্রম আইন লঙ্ঘনকারী রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যেই ১১ হাজার ২৯৭ জন অবৈধ বাসিন্দাকে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৫ হাজার ১০৯ জন আইন লঙ্ঘনকারীকে ভ্রমণের নথিপত্র (আউটপাস) সংগ্রহের জন্য তাদের নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে এবং ৩ হাজার ৬১৮ জনকে ভ্রমণের টিকিট বুকিং সম্পন্ন করার জন্য পাঠানো হয়েছে।
অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ১ হাজার ৭৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ ইয়েমেনি, ৫৫ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক।
অন্যদিকে, অবৈধ উপায়ে সৌদি আরব ত্যাগের চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও ৫৩ জন। অবৈধ অভিবাসীদের পরিবহন, আশ্রয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে আরও ২২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বর্তমানে ২৪ হাজার ৩৩৪ জন পুরুষ এবং ২ হাজার ৭৩ জন নারীসহ মোট ২৬ হাজার ৪০৭ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ক বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে কাউকে সৌদি আরবে প্রবেশে সুবিধা দেয়, যাতায়াতের ব্যবস্থা করে কিংবা আশ্রয়সহ অন্য কোনো সহায়তা বা পরিষেবা প্রদান করে, তবে তাকে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন ও আশ্রয় দেওয়া বাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করা হবে। সূত্র: গালফ নিউজ