
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে শ্রেষ্ঠত্বের শেষ লড়াই। গৌরব, ঐতিহ্য আর স্বপ্নের ভার কাঁধে নিয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। একদিকে টিকিটাকার নান্দনিকতা ও ছন্দময় ফুটবলের প্রতীক স্পেন।
অন্যদিকে, আবেগ, লড়াই আর অদম্য মানসিকতার প্রতিচ্ছবি আর্জেন্টিনা। দুই দলের এই মহারণে শুধু একটি ট্রফিই নির্ধারিত হবে না। লেখা হবে ফুটবল ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়। অতীতের দ্বৈরথ, বর্তমানের সামর্থ্য আর শিরোপার আকাঙ্ক্ষা সবমিলিয়ে ফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত এক স্মরণীয় রাতের জন্য।
ফাইনালের আগে দুই দলের অতীত মুখোমুখি লড়াইও বাড়িয়ে দিচ্ছে উত্তেজনা। এখন পর্যন্ত স্পেন ও আর্জেন্টিনা ১৪ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে দুই দলই জিতেছে ছয়টি করে ম্যাচ। আর দুটি ম্যাচ শেষ হয়েছে ড্রয়ে। অর্থাৎ পরিসংখ্যানের পাতায় কেউ কারও চেয়ে এগিয়ে নেই।
দুই দলের ১৪টি সাক্ষাতের মধ্যে ১৩টিই ছিল প্রীতি ম্যাচ। বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে এর আগে মাত্র একবার দেখা হয়েছিল তাদের। ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপে সেই লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে স্পেনকে হারিয়েছিল। লুইস আরতিমের দ্বিতীয়ার্ধের দ্রুত দুটি গোলে জয় নিশ্চিত করেছিল আলবিসেলেস্তেরা।
শুরুতে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। প্রথম পাঁচ সাক্ষাতে চারবার জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। ১৯৫২, ১৯৫৩ ও ১৯৬০ সালের ম্যাচে তারা স্পেনকে হারিয়েছিল কোনো গোল না খেয়েই। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে চিত্র। গত কয়েক দশকে স্পেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বেশ সফলতা পেয়েছে।
সর্বশেষ নয় দেখায় স্পেন হেরেছে মাত্র দুটিতে, আর জয় পেয়েছে পাঁচটিতে। একবিংশ শতাব্দীতে দুই দলের চার সাক্ষাতে স্পেন জিতেছে তিনবার। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় জয়টি আসে ২০১৮ সালের এক প্রীতি ম্যাচে। সেবার স্পেন ৬-১ গোলে আর্জেন্টিনাকে বিধ্বস্ত করে, যেখানে ইসকো করেছিলেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক।
এর আগে ২০১০ সালে আর্জেন্টিনা ৪-১ গোলে হারিয়েছিল তৎকালীন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। সেই ম্যাচে লিওনেল মেসি, গঞ্জালো হিগুয়েইন, কার্লোস তেভেজ ও সার্জিও আগুয়েরো গোল করেছিলেন। তবে ২০০৬ ও ২০০৯ সালের দুই প্রীতি ম্যাচে জয় পেয়েছিল স্পেন। সব মিলিয়ে ইতিহাসে দুই দলই সমান শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তাই ফাইনালের মঞ্চে স্পেন ও আর্জেন্টিনার লড়াই যে হবে রোমাঞ্চে ভরা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।