
বর্তমান সময়টা ভার্চুয়াল। আড্ডা হোক কিংবা জরুরি কাজ, বাস্তবতার পাশপাশি এখন নিত্যনতুন বাস্তবতা হচ্ছে ভার্চুয়াল জগত। এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। ভার্চুয়াল এই দুনিয়ায় একটি মাধ্যম হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
আর বাংলাদেশে এই মাধ্যমে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফেসবুক। তাইতো এই মাধ্যমকে কেন্দ্র করে এখন সবাই আপডেট থাকতে চান। একজন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সেলিব্রিটি সবাই কম-বেশি অ্যাকটিভ। পছন্দের তারকাদের বাস্তব জীবনে ভক্ত আছে। তারা নিয়মিত আপডেট থাকতে চান।
অন্যদিকে এই মাধ্যমে এখন সবচেয়ে পরিচিত শব্দ কিংবা বলা যায় কাজের ধরনের নাম হচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। মূলত ভিডিও বানিয়ে তা এডিটিং করে ভার্চুয়ালে প্রকাশ করাই হলো তাদের কাজ। প্রথমে ফেসবুক অর্থ উপার্জনের মাধ্যম না থাকলেও বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য এটি একটি ভালো জায়গা। আর এতেই ঘটেছে বিপত্তি।
বাস্তবে যেমন ভালো-মন্দের সমারহে মানুষ। ঠিক তেমনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এর অবস্থান আরও ভয়াবহ। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি যে প্রবণতা বেড়েছে সেটি হচ্ছে জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের পেজ হ্যাক করে তা দিয়ে চাঁদা দাবি করা এখন নিত্যনতুন পন্থা হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, চাঁদা না দিলে পেজ থেকে অশ্লীল ও হুমকিস্বরূপ পোস্ট ও মেসেঞ্জারে বার্তা দেওয়া হয় থাকে ফ্যান-ফলোয়ারদের।
ইতোমধ্যেই জানা গেছে বিগত এক মাসে অন্তত ১০ জন জনপ্রিয় কন্টেন্ট নির্মাতার পেজ হ্যাক হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া পেজ ফিরে পেতে দাবিকৃত চাঁদা দেওয়া হয়েছে। এমনকি অনেকেই বিব্রতকর পরিস্থিতে পড়ছেন।
সেই জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের মধ্যে ‘ডানা ভাই জোস’ নামের একটি পেজের মালিক হচ্ছেন কামরুন নাহার ডানা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজস্ব কন্টেন্ট ক্রিয়েট করে হয়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু এখানে বাধে বিপত্তি। কিছুদিন আগেই নাকি তার একইসঙ্গে ফেসবুক পেজ ও প্রোফাইল দুটোই চলে যায় হ্যাকারদের কবলে। যেখানে তার ফ্যান-ফলোয়ার ছিল ১০ লাখেরও বেশি।
সম্প্রতি এ বিষয়ে তিনি একটি গণমাধ্যমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো একটি হ্যাকারদের দল পেজে থাকা কন্টেন্টগুলোকে নিজেদের দাবি করে ফেসবুকের কাছে রিপোর্ট করতে থাকে। এরফলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ডানার পেজটি হ্যাকারদের দখলে দিয়ে দেয়। এরপর সেই চক্রের মাধ্যমেই ইমেইল করে ২ হাজার ডলার দাবি করে। নয়তো পেজটি আর ফেরত দেবে না বলে থ্রেট দেয়। সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় স্ট্যাটাস দিয়ে চলছে সাইবার বুলিং।
এ প্রসঙ্গে ডানা বলেন, আমার পেজ হ্যাক করার পর আমাকে মেইল করে বলা হলো- ২০০০ ডলার দিতে হবে। যদি টাকা না দেই আমাকে আর পেজ ফেরত দেবে না। এখন আমি এই ধরনের সমস্যায় যদি সরকারের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতাই না পাই, তাহলে আমি ট্যাক্সটা কেন দেব?
অন্যদিকে আরও এক জনপ্রিয় কন্টেন্ট নির্মাতা অনলাইনে হ্যাকারদের কারণে ফেসবুক পেজ নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েছেন। তার মতে, সরকারের বেঁধে দেওয়া ১০ শতাংশ ট্যাক্স দিতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু সে তুলনায় সাইবার সুরক্ষা দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।
এই কন্টেন্ট নির্মাতারা জানান, ফ্রিল্যান্সারদের যেভাবে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়, তাদের ক্ষেত্রে সেটি হচ্ছে না। অথচ, তাদের কাছ থেকেই কর নিচ্ছে সরকার। বেসিসের সভাপতি বলছেন যেহেতু কন্টেন্ট নির্মাতারা দেশে ডলার আনছে তাই তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। যদিও একাধিক মাধ্যম থেকে জানা গেছে ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে খুব শিঘ্রই বসতে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সাইবার নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা জানান, অনলানেই ব্যক্তিগতভাবেই আরও সতর্ক হতে হবে সবাইকে। পেজ কিংবা প্রোফাইল যাইহোক না কেন, অপরিচত অথবা পরিচিত যে কেউ কোন লিংক যদি যদি পাঠায় কিংবা ইন্টারেস্টিং মনে হলেই সেখানে ক্লিক করা যাবে না। তাছাড়া যাদের বুস্ট করতে দেওয়া হচ্ছে, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে রাখা উচিত।
এমনকি ফেসবুক পেজের সুরক্ষার জন্য ব্যক্তিগত জায়গা থেকে সচেতন থাকতে হবে। প্রয়োজনে নিরাপত্তার স্বার্থে একাধিক এডমিন না রাখা এবং এডিটিং প্যানেল বা বুস্টিংয়ের দায়িত্ব অপরিচিত কাউকে না দেওয়াই হচ্ছে সবচেয়ে উত্তম পন্থা। এতে করে সাইবার অ্যাটাক অনেকাংশেই কমে আসবে বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, দিনকে দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। যদিও হ্যাকারদের কারণে অনেক সময় বেশ খারাপ প্রভাব পড়ে। তবে এর যথাযথ ব্যবহার করাটাই হচ্ছে আসল দিক। তথ্য সূত্র আরটিভি নিউজ।