News update
  • Bus Fares Rise by 17 Paisa Per Kilometre     |     
  • PM arrives in New York to attend 81st UNGA session     |     
  • Jatri Kalyan Samity urges withdrawal of increased fuel prices     |     
  • Global Diesel Shortage Likely to Persist Into 2027     |     

যমুনা সেতু এলাকায় নির্মাণ হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বিদ্যুৎ 2026-08-04, 9:40am

saurbidyu_chbi-6c9c54fb8b3b2c5b2463b7b1c2500daf1785814844.jpg




নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে যমুনা সেতু এলাকায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ১২০ একর জমি দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ১১৭তম বোর্ড সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বোর্ড চেয়ারম্যান শেখ রবিউল আলম। বোর্ড সদস্যরা সশরীরে এবং ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রস্তাবের ওপর মতামত দেন।

বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যমুনা সেতু সাইটে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডকে (এনডব্লিউপিজিসিএল) ১২০ একর জমি ইজারা দেওয়া হবে। সেখানে ৫৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়বে এবং কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভার শুরুতে, সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে বোর্ডের আলোচ্যসূচি এবং পূর্ববর্তী সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরেন। পরে বোর্ড সদস্যরা বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বিভিন্ন স্থাপনায় পর্যায়ক্রমে সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অবকাঠামোয় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ ছাড়া, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন আরও কার্যকর করতে পুনর্বাসন ভিলেজে ফ্ল্যাট বরাদ্দের বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল পরিচালনা-সংক্রান্ত চুক্তি পুনর্বহাল এবং সেতু নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও গবেষণায় দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে সেন্টার ফর ব্রিজ রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (সিবিআরটি) প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক সুবিধা আরও যুগোপযোগী করতে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তা ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট বিধিমালা, ২০১০’-এ ‘বার্ষিক বৃত্তি প্রদান’-এর পরিবর্তে ‘বার্ষিক শিক্ষা অনুদান সহায়তা’ শব্দটি প্রতিস্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন, সবুজ জ্বালানির প্রসার এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি সময়ের দাবি এবং এ ধরনের প্রকল্প সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী বোর্ডের গৃহীত সব সিদ্ধান্ত দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, যমুনা সেতু এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে অব্যবহৃত সরকারি জমির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।