News update
  • Triple Climate Threats Endanger Half of Children     |     
  • Returned from India as an instant protest: Adviser Zahed     |     
  • ECNEC clears five development projects worth Tk 7,003 crore     |     
  • As world awaits Iran-US accord details, UN wants Hormuz aid corridor     |     
  • World Cup Preparation Scores a Goal against the Environment     |     

রামিসা হত্যাকাণ্ড: পরকীয়ার সম্পর্ক থেকেই বিয়ে হয় স্বপ্না ও সোহেলের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিবিধ 2026-05-25, 10:40am

img_20260525_104038-ce344d621fed025e6967f643381c912e1779684056.jpg




রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে প্রধান আসামি সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক মো. ওহিদুজ্জামান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য স্থানান্তর করা হয়। 

চার্জশিট সূত্রে জানা গেছে, স্বপ্না খাতুন আসামি সোহেলের দ্বিতীয় স্ত্রী। পরকীয়ার সম্পর্ক থেকেই তাদের বিয়ে হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সোহেলের প্রথম সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

চার্জশিটে আরও বলা হয়, প্রায় আড়াই মাস আগে অটোরিকশা মেকানিক সোহেল পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের ২ নম্বর লেনের একটি বাসা ভাড়া নেন। ওই ফ্ল্যাটে তিনটি কক্ষ ছিল। একটি কক্ষে সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্না থাকতেন এবং তাদের কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত একটি বাথরুম ছিল। পাশের দুই কক্ষে মাসুদ পারভেজ ও জেসমিন আক্তার নামের এক দম্পতি থাকতেন। আলাদা কক্ষে থাকলেও উভয় পরিবারের রান্নাঘর ছিল একই।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, মাসুদ পারভেজ ও জেসমিন আক্তার প্রতিদিন সকাল ৬টার মধ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতেন। ঘটনার দিনও (১৯ মে) তারা বাসা থেকে বের হন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল তাকে তার রুমের সামনে আসতে বলে। রুমের সামনে গেলে তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে বাথরুমে ধর্ষণ করে সোহেল।

এসময় রামিসা চিৎকার করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করার জন্য রুম থেকে ছুরি এনে তার মাথা কেটে গলা থেকে আলাদা করা হয়। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শোবার ঘরে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। রুমের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে বিচ্ছিন্ন মাথা রাখে।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, রামিসাকে খুঁজে পাচ্ছিল না পরিবার। সোহেলের বাসার সামনে রামিসার একটি জুতা দেখতে পেয়ে তার মা দরজার সামনে জোরে ডাকাডাকি ও চিৎকার শুরু করেন। অন্যান্য ফ্ল্যাটের লোকজন জড়ো করে দরজা ভাঙার চেষ্টা করেন। এসময় সোহেল বাথরুম থেকে রামিসার দেহ রুমে নিয়ে যায়। স্বপ্না লাশ দেখে এবং দরজা ভাঙার শব্দ শুনে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। পরে লোকজন রুমে ঢুকে রামিসার লাশ দেখতে পেয়ে সোহেলের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্না জানায়, গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে সোহেল।

এর আগে শনিবার (২৩ মে) রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। 

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, ওই দিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে রামিসার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়। নৃশংসতার পর ফ্ল্যাটের গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিল।

ঘটনার পরপরই পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় দুজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আজ আদালতে এই স্পর্শকাতর মামলার চার্জশিট জমা দিলো পুলিশ।