News update
  • Fresh rain spell triggers waterlogging in Dhaka, hampers Eid prep     |     
  • Over 1.5 million pilgrims perform Hajj amid regional tensions     |     
  • After the blaze, Kalshi slum dwellers see what little remains     |     
  • Dhaka, 5 other divisions to see heavy rainfall in 24 hours     |     
  • Over 1.6 Million Pilgrims Gather at Sacred Arafat     |     

নিশাত-ওয়াসফিয়ার পর এভারেস্ট শিখরে আরেক বাংলাদেশি নারী

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিবিধ 2026-05-27, 2:49pm

retgerytrytr-12f3258a99edeedea641c9a476d37f341779871781.jpg




দুর্গম পার্বতে রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনন্দের বার্তা দিলেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নি। 

বুধবার (২৭ মে) ভোরে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ালেন তিনি। খবরটি নিশ্চিত করেছে বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)।

প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে ২০১২ সালের ১৯ মে এভারেস্টের চূড়ায় আরোহণ করেন নিশাত মজুমদার। একই বছরের ২৬ মে শিখর জয় করেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। এরপর দীর্ঘ ১৪ বছর পর বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্টের চূড়ায় উঠলেন নুরুন্নাহার নিম্নি।

গত ১১ এপ্রিল ঢাকা থেকে নেপালে যান নিম্নি। কাঠমান্ডু থেকে লুকলা হয়ে পৌঁছান এভারেস্ট বেজক্যাম্পে। এরপর ধাপে ধাপে অতিউচ্চতার পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেন। সাধারণত মে মাসের ১৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যেই এভারেস্ট সামিটের উপযুক্ত সময় ধরা হয়। ১৭ মে চূড়ান্ত আরোহণের জন্য বেজক্যাম্প ছাড়েন তিনি। ধাপে ধাপে ২৩ মে পৌঁছান ক্যাম্প–৪-এ। সেদিন শিখরের উদ্দেশে যাত্রা করেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নিচে নেমে আসতে হয় তাকে।

এরপর অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় কয়েক দিন ক্যাম্প–২-এ অবস্থান করেন নিম্নি। ২৫ মে আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুকূলে এলে আবার যাত্রা শুরু করেন। গতকাল পৌঁছান ক্যাম্প–৪-এ। সেখান থেকেই সন্ধ্যায় চূড়ান্ত আরোহণ শুরু করে আজ নেপাল সময় সকাল ৫টা ২৪ মিনিটে এভারেস্টের শিখরে ওঠেন তিনি। নেপালের এইটকে এক্সপেডিশনের এক শেরপা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন।

বর্তমানে পূবালী ব্যাংক পিএলসির জেনারেল ব্যাংকিং বিভাগে প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত নুরুন্নাহার নিম্নি। তার এই অভিযানের স্পনসরও ছিল প্রতিষ্ঠানটি। রংপুরে বেড়ে ওঠা নিম্নি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে।

২০০৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ফিল্ডওয়ার্কে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে গিয়ে পাহাড়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ তৈরি হয় তার। পরে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বড় একটি সময় কেটেছে বান্দরবানের পাহাড়ে ঘুরে। চাকরিজীবনে প্রবেশের পরও সেই টান কমেনি। ভুটান, ভারতের সিকিম এবং নেপালের বিভিন্ন পাহাড়ে ট্রেকিং করেছেন তিনি।

২০১৯ সালে নেপালের অস্ট্রেলিয়ান ক্যাম্পে ঘুরে এসে আরও উঁচুতে ওঠার স্বপ্ন দেখেন নিম্নি। এরপর ২০২০ সালে করেন এভারেস্ট বেজক্যাম্প ট্রেক। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে পেশাদার পর্বতারোহণের পথে নিয়ে যায়। ২০২২ সালে ভারতের দার্জিলিংয়ে অবস্থিত হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট–এ প্রশিক্ষণ নেন তিনি। একই বছর যুক্ত হন বাংলা মাউন্টেইনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাবের সঙ্গে। এই সংগঠনের ব্যানারেই এবার এভারেস্ট অভিযানে অংশ নেন নুরুন্নাহার নিম্নি।

পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখর মাউন্ট এভারেস্টে প্রথম সফল অভিযান পরিচালিত হয় ১৯৫৩ সালে। ওই বছরের ২৯ মে নেপালের শেরপা তেনজিং নোরগেকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমবার বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গের চূড়ায় ওঠেন নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী এডমন্ড হিলারি।

বাংলাদেশের হয়ে প্রথম এভারেস্টজয়ী হলেন মুসা ইব্রাহীম, যিনি ২০১০ সালের ২৩ মে শিখরে ওঠেন। এরপর ২০১১ ও ২০১২ সালে দুবার এভারেস্ট জয় করেন এম এ মুহিত। ২০১২ সালে এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন। ২০১৩ সালের ২০ মে এভারেস্টজয়ী পঞ্চম বাংলাদেশি সজল খালেদ শিখর থেকে নামার পথে মারা যান।

এরপর দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০২৪ সালে এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ান বাবর আলী। ২০২৫ সালে কক্সবা জার সমুদ্রসৈকত থেকে হেঁটে এভারেস্ট চূড়ায় ওঠেন ইকরামুল হাসান শাকিল। এবার বাংলাদেশ থেকে একমাত্র অভিযাত্রী হিসেবে এভারেস্ট জয় করলেন নুরুন্নাহার নিম্নি।