
হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে দ্রুত ভেজা পোশাক বদলে শরীর ও চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ছবি : সংগৃহীত
বর্ষাকাল অনেকেরই প্রিয়। ঝুম বৃষ্টি, মাটির গন্ধ আর বৃষ্টিভেজা প্রকৃতি মন ভালো করে দেয়। তবে এই সময়ে আবহাওয়ার আচরণও থাকে বেশ অনিয়মিত। কখনো তুমুল বৃষ্টি, আবার কিছুক্ষণ পরই তীব্র রোদ।
অফিস, স্কুল কিংবা জরুরি কাজে বাইরে বের হলে তাই হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ছাতা বা বৃষ্টির পোশাক সঙ্গে না থাকলে অনেক সময় পুরোপুরি ভিজেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়।
বৃষ্টিতে ভেজার পর অনেকের সর্দি, কাশি, জ্বর বা গলা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে শুধু বৃষ্টির পানিই এসব সমস্যার কারণ নয়। শরীরের তাপমাত্রার হঠাৎ পরিবর্তন এবং বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণও এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভিজে গেলে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
ভেজা পোশাক দ্রুত বদলে ফেলুন
বৃষ্টিতে ভিজে গেলে প্রথমেই ভেজা পোশাক পরিবর্তন করুন। অনেকেই ভেজা কাপড় পরেই দীর্ঘ সময় অফিসে, বাসায় কিংবা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে থাকেন। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যেতে পারে এবং অস্বস্তি বাড়তে পারে।
তাই বর্ষাকালে বাইরে বের হলে ব্যাগে অতিরিক্ত একটি শুকনো পোশাক রাখার অভ্যাস করতে পারেন। এতে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলেও দ্রুত পোশাক পরিবর্তন করা সম্ভব হবে।
হালকা গরম পানিতে গোসল করুন
বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার পর হালকা গরম পানিতে গোসল করতে পারেন। এতে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ত্বক ও চুলে লেগে থাকা ধুলাবালি, দূষণ ও ময়লাও পরিষ্কার হয়ে যায়।
তবে খুব গরম পানি ব্যবহার না করে হালকা গরম পানি ব্যবহার করাই ভালো।
চুল ভেজা রাখবেন না
বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফেরার পর মাথার চুলও ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। দীর্ঘ সময় চুল ভেজা থাকলে অস্বস্তি, মাথাব্যথা কিংবা সাইনাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে চুল ভালোভাবে মুছে নিন। প্রয়োজন হলে হালকা বাতাসে বা চুল শুকানোর যন্ত্রের সাহায্যেও শুকিয়ে নিতে পারেন।
পায়ের যত্ন নিন
বর্ষায় রাস্তার পানি ও কাদার সংস্পর্শে সবচেয়ে বেশি আসে পা। এই পানিতে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু থাকতে পারে, যা ত্বকে সংক্রমণ বা ছত্রাকজনিত সমস্যা তৈরি করতে পারে।
তাই বাড়ি ফিরে সাবান দিয়ে পা ভালোভাবে ধুয়ে নিন। বিশেষ করে পায়ের আঙুলের ফাঁক ও নখের কোণ পরিষ্কার করা জরুরি।
বর্ষাকালে দ্রুত শুকিয়ে যায় এমন জুতা ব্যবহার করতে পারেন। কর্মস্থলে অতিরিক্ত মোজা ও জুতা রাখলে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার পরও সেগুলো বদলে নেওয়া সহজ হবে।
পান করুন গরম পানীয়
বৃষ্টিতে ভিজে শরীর ঠান্ডা হয়ে গেলে হালকা গরম পানীয় আরাম দিতে পারে। আদা, তুলসি, লবঙ্গ বা দারচিনি দিয়ে তৈরি চা শরীরকে উষ্ণ রাখার পাশাপাশি স্বস্তি দিতে পারে।
চা বা কফি হাতের কাছে না থাকলে এক গ্লাস হালকা গরম পানিও পান করতে পারেন। এতে শরীরের ভেতরটা উষ্ণ রাখতে সাহায্য করবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে নজর দিন খাবারে
বর্ষায় সুস্থ থাকতে খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। প্রতিদিনের খাবারে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল রাখতে পারেন। যেমন—পাতিলেবু, কমলা, মাল্টা, আমলকি, পেয়ারা ও আনারস।
ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমও শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
বৃষ্টিতে ভিজলেই অসুস্থ হবেন, এমন নয়
বৃষ্টিতে ভিজলেই যে সর্দি-কাশি বা জ্বর হবে, এমন নয়। তবে ভিজে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় ভেজা পোশাকে থাকা, শরীরের যত্ন না নেওয়া কিংবা অপরিষ্কার পানি ও কাদার সংস্পর্শে থাকার কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্রুত ভেজা পোশাক বদলে ফেলুন, শরীর ও চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিন, পা পরিষ্কার করুন এবং প্রয়োজনমতো হালকা গরম পানীয় পান করুন। সামান্য কিছু সতর্কতাই বর্ষার অনিয়মিত আবহাওয়ায় সুস্থ থাকতে সাহায্য করতে পারে।