
গুজব, অপতথ্য ও ডিপফেইকের এই সময়ে সাংবাদিকদের এআই ও ফ্যাক্ট-চেকিং সম্পর্কে দক্ষ হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, শুধু সংবাদ সংগ্রহ নয়, তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতাও এখন সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমেই সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি আয়োজিত সাত দিনব্যাপী “AI-Powered Journalism: Opportunities, Risks and Digital Security” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআরইউ’র শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় গত সাত দিনে বিভিন্ন ব্যাচে মোট ৬০০ সদস্য অংশ নেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে ডিআরইউ, সহযোগিতায় ছিল এক্সওয়াইজেড ক্লাউড বাংলাদেশ ও গেমপ্লিফাই।
সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিল্টন বলেন, তিনি সবসময় ডিআরইউর পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। বিভিন্ন সময়ে সাংবাদিকরা সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে তাকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তথ্য বিকৃতি ও অপতথ্য প্রতিরোধে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আবু সালেহ আকন বলেন, এআই-এর ব্যবহার ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুইভাবেই হতে পারে। তাই সাংবাদিকদের দায়িত্ব হবে এই প্রযুক্তির সঠিক ও কল্যাণমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা। সমাজ ও মানুষের কল্যাণে এআইকে কাজে লাগাতে পারলেই সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হয়ে উঠবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ডিআরইউ সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, বর্তমান সাংবাদিকতায় এআই শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি কাজের গতি, নির্ভুলতা ও বিশ্লেষণক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তাই সাংবাদিকদের সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতেই হবে।
ডিআরইউ’র তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল বলেন, ডিআরইউর ইতিহাসে এই প্রশিক্ষণটি অন্যতম সেরা আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাও স্বীকৃতি দিয়েছেন। অংশগ্রহণকারী সদস্যদের আগ্রহ ও সম্পৃক্ততার কারণেই সাত দিনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সদস্যদের জন্য সময়োপযোগী ও আধুনিক প্রশিক্ষণের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
গেমপ্লিফাইয়ের চেয়ারম্যান মশিউর রহমান ভিডিও বার্তায় বলেন, সাংবাদিকরা শুধু পেশাজীবী নন, তারা সমাজের বিশ্বাসযোগ্য তথ্যনেতা। ফেক নিউজ ও ভুয়া ভিডিওর এই সময়ে বিশ্বস্ত সাংবাদিকতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। তাই সাংবাদিকদের প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং এআই ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।
গেমপ্লিফাইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, এআই যুগে অপতথ্য ও ডিপফেইকের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাংবাদিকদের এআই জানা অপরিহার্য। বিগডাটা বিশ্লেষণ, গবেষণা ও তথ্য উপস্থাপনায় এআই এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউ’র সহ-সভাপতি মাসুম, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এৃ এম জসিম, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান, সংস্কৃতি সম্পাদক মনোয়ার হোসেন, নারী বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, কার্যনির্বাহী সদস্য আক্তার হোসেন, আল আমিন আজাদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও প্রশিক্ষক ও অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
সাত দিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে শেখানো হয় চ্যাটজিপিটি, জেমিনি, গুগল এআই স্টুডিও এবং নোটবুকএলএমসহ বিভিন্ন আধুনিক এআই টুলের ব্যবহার। প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব পায় কার্যকর প্রম্পটিং, ডেটা সাংবাদিকতা, তথ্য বিশ্লেষণ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় এআই-এর ব্যবহার, ডিজিটাল স্টোরিটেলিং, ফ্যাক্ট-চেকিং এবং ডিপফেইক শনাক্তকরণ।
প্রশিক্ষকরা দেখান, কীভাবে দীর্ঘ অডিও, ভিডিও কিংবা পিডিএফ ফাইল থেকে দ্রুত তথ্য ও ইনসাইট বের করে সংবাদ প্রস্তুত করা যায়। অংশগ্রহণকারীরা গবেষণা, স্ক্রিপ্ট লেখা, অনুবাদ, শিরোনাম তৈরি ও তথ্য যাচাইয়ের মতো কাজে এআই ব্যবহারের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গেমপ্লিফাইয়ের কর্মকর্তা ইমাম হাসান সোহেল।