News update
  • Woman killed, 4 of her family missing in Meghna boat capsize     |     
  • State can never be strong keeping citizens powerless: PM at UNGA     |     
  • Trump welcomes Xi in Washington as US-China trade truce extended     |     
  • Prevention at heart of govt’s healthcare reform: PM     |     
  • Death toll rises to 11 following typhoon-induced downpours in Japan     |     

জলবায়ু পরিবর্তনে বন্যা ‘বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা’, জাতিসংঘে ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) মিডিয়া 2026-09-25, 2:37pm

nepaaler_prdhaanmntrii-1-3c211486e5d072b0eabb2e4492efcad61790325469.jpg




জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বলেছেন, গত মাসে নেপালে ভয়াবহ বন্যা ছিল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা ঝুঁকির জন্য একটি ‘সতর্কবার্তা’। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে সহায়তা করার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন চলাকালে দেওয়া ভাষণে শাহ বলেন, উষ্ণ হয়ে ওঠা জলবায়ু ‘ভঙ্গুর হিমালয় পরিবেশব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলছে’। এর ফলে পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলছে, হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।

গত মাসের শেষ দিকে নেপাল তার ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহসংক্রান্ত একটি ধসের ফলে সৃষ্ট সুনামির মতো প্রবল ঢল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

এ ঘটনায় ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ৬ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিপর্যয়ে নেপালের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে একটি ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়ন একত্রিত হয়ে হিমবাহ সরে যাওয়া ও পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলার মতো প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।

বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। আমরা এই সংকট তৈরি করিনি, অথচ এর মূল্য আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’

জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে যে বিপুল ব্যয় করতে হবে, তার একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহন করার আহ্বান জানান তিনি।

বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে আরও তীব্র হয়ে ওঠা একটি সংকটের বিরুদ্ধে নেপাল একা নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে পারবে না।’

তিনি ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ গঠনের প্রস্তাব দেন। এতে নেপালের পাশাপাশি ভারত ও চীনকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। উদ্যোগটির আওতায় স্যাটেলাইট তথ্য ও বিশেষজ্ঞ মতামত বিনিময়, হিমবাহের হ্রদগুলোর ওপর নজরদারি এবং যৌথভাবে আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৩৬ বছর বয়সী সাবেক র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ ছয় মাস আগে ক্ষমতায় আসেন। দুর্নীতিবিরোধী তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেন।

তবে সাম্প্রতিক এই বিপর্যয়ের পর শাহের সরকারের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে জলবায়ু কূটনীতি। ফলে তার সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কর্মসূচির তুলনায় বিষয়টি এখন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

নেপাল জাতিসংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে। এই তহবিল থেকে একটি দেশের জন্য সর্বোচ্চ যে পরিমাণ অর্থ চাওয়া যায়, এটিই তার সীমা। তবে নেপালের প্রয়োজনের তুলনায় এই অর্থ অত্যন্ত সামান্য। সরকারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এবারের দুর্যোগে মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার।

২০২২ সালে পাকিস্তানের ভয়াবহ বন্যার পর এই তহবিল গঠন করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তহবিলটি প্রথমবারের মতো অর্থ ছাড়ও করতে পারেনি। ফলে নেপালের ক্ষেত্রে তহবিলটি বাস্তবে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে আরও ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এএফপিকে জানিয়েছেন, বুধবারের এক বৈঠকে জি-৭ দেশগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।