News update
  • State Minister Amit urges global firms to join BD offshore bidding     |     
  • Heart Disease Linked to 777 Daily Deaths in Bangladesh     |     
  • US Tech Firms Eye Over $1b Investment in Bangladesh     |     
  • Dhaka ranks 6th globally in air pollution on Tuesday     |     
  • Netanyahu Secretly Visits UAE Amid Rising Regional Tensions     |     

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে জামায়াত আমিরের বিস্ফোরক মন্তব্য

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রাজনীতি 2026-05-16, 1:00am

img_20260516_005628-bd7e4bb5eac88a00c1ec8cf670d0c8831778871606.jpg




বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যেসব চুক্তি হয়েছে, সেই বিষয়ে তৎকালীন সরকার জনগণ কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।

শুক্রবার (১৫ মে) রংপুর শিল্পকলা একাডেমি হল রুমে এক সুধী সমাবেশে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব অভিযোগ করেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির আরও বলেন, সংসদ হবে রাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু। রাষ্ট্রের ভালো-মন্দ নিয়ে এখানে আলোচনা হবে। এ দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কিভাবে সংহত করা যায়। কিভাবে যুব সমাজের হাতে কাজ তুলে দেওয়া যায়। বেকারত্ব দূর করা যায় ভালো কাজে যুক্ত করা যায়। শিল্প-কলকারখানায় কিভাবে বিপ্লব আনা যায় এগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, আগে সংসদে গান-নাচ হয়েছে, মানুষের চরিত্র হনন হয়েছে। মানুষকে গালিগালাজ করেছেন। আমরা সেই সংস্কৃতি এই সংসদে আর দেখতে চাই না। আমি প্রথম অধিবেশনের স্পিকারকে এ কথা বলেছি। আপনি এ ধরনের কাজ কাউকে করতে দিবেন না; কিন্তু দেখছি এই সংসদেও সেই ঘটনার কিছুটা চর্চা হচ্ছে। তবে আশার দিক হচ্ছে তা আগের মতো নয়। আমরা আশাবাদী এই নোংরা সংস্কৃতি বন্ধ হবে।

তিনি আরও বলেন, সংসদ চলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। তাই জনগণের কথা বলতে হবে। জনগণের কথা বলতে এ সংসদ অধিবেশন চলে। দেশের উন্নয়নের কাজের কথা বলতে হবে। সংসদে জনগণের কাছে আমাদের দায় আছে। আমরা এর ভিত্তিতে সংসদে কাজ করতে চাই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সরকারকে বলেছি- ভালো কাজ করবেন আমরা সমর্থন দেব, সহযোগিতা করব। খারাপ কাজ করবেন সমালোচনা করব, রুখে দাঁড়াব, ছেড়ে দেব না কাউকে। আমাদের লড়াই এর ভিত্তিতে চলবে।

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। আমরা সংসদে নোটিশ দিয়েছি আলোচনার জন্য। আমাদের কথা বলতে দেবে না, তারা ভয় পায়। যদি কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয় এই ভয়ে। আমরা বললাম এটি আন্তর্জাতিক সংকট। একটি যুদ্ধের জন্য এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আমরা জনগণের কথা বলতে এই সংসদে এসেছি। আমরা দেশবাসীকে এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তির জন্য অবদান রাখতে চাই। তাই এ নিয়ে কথা বলতে চাই। তখন সরকার বাধ্য হলো আলোচনার জন্য। আপনারা দেখেছেন না অর্থবহ আলোচনা হলো। তারপর আমরা প্রস্তাব দিলাম এই সংকট পরিস্থিতির মোকাবেলায় একটি কমিটি করতে। আমাদের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী একটি কমিটি গঠন করলেন। কমিটি গঠন হলো। দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল সংকট চিত্র পাল্টে গেল। কেন পাল্টে গেল। কেউ কেউ বললেন এটি কৃত্রিম সংকট ছিল, জামায়াত তা উসকে দিয়েছিল। এত গাড়িঘোড়া যদি জামায়াতের হয় তা হলে আলহামদুলিল্লাহ। সারা বাংলাদেশ আমাদের।

তিনি বলেন, আমরা সংসদে বিরোধী দলের জন্য রাজনীতি করতে চাই না। বিরোধী দল ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করে খাবে তা হবে না। আমরা যদি ক্ষমতায় যাই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম সংসদে যাওয়া সময় যে সম্পদের হিসাব দিয়েছিলাম ক্ষমতা থেকে বের হয়ে আসার দিন তা কমবে, বেশি হবে না।

বর্তমান সরকারি দল ক্ষমতায় গিয়ে অনেক জায়গায় উলটা-পালটা করেছে। তারা গণভোটকে অগ্রাহ্য করেছে। গণভোটে তারা বাংলাদেশের গভর্নরকে পরিবর্তন করেছে। সবচেয়ে দুর্বল ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে জনগণের আমানতের একটি সম্মানজনক জায়গায় বসিয়েছে। তারা সারা দেশে ৪২টি জেলায় দলীয় লোকজনকে প্রশাসক নিয়োগ করেছে। দেশ যখন ডেমোক্রেটিক পদ্ধতিতে আগাচ্ছে তখন কেন এমন সময় প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে। যারা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন তাদেরই সেই সব জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাদের আন্দোলন চলবে। শুধু তাই নয় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে জ্ঞানের চর্চা হবে সেখানে আমাদের সন্তানরা জ্ঞান চর্চায় মানুষ হবে সেখানে এখন দলীয় লোকজনকে ভিসি, প্রোভিসি, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ নানা পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। মনে রাখবেন কারো পরিকল্পনায় সব ফাইনাল না। আল্লাহতায়ালার পরিকল্পনায় সব ফাইনাল। যদি তাই হতো বিগত সরকার সাড়ে ১৫ বছর সবকিছু সুন্দর করে সাজিয়েছিল; কিন্তু দুই দিনের মাথায় সবকিছু তছনছ হয়ে গিয়েছিল। রংপুরের মানুষ ভাগ্যবান আপনাদের সন্তান জুলাই আন্দোলনের শ্রেষ্ঠ প্রেরণা ছিল।

পদ্মা ব্যারাজের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও তিস্তার স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে কোনো উন্নয়ন মেনে নেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন ডা. শফিকুর রহমান।

রংপুরে এক সমাবেশে যোগদানকালে সাংবাদিকদের ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরের নদীগুলো এ অঞ্চলের মানুষের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিস্তাপারের মানুষের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

তিনি আরও বলেন, ৭০ ভাগ ভোটার হ্যাঁ ভোটের পক্ষে রায় দিয়েছিল, কিন্তু সরকার সেই রায়কে অপমান করেছে। জনগণের সেই রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারো ওপর হামলা বা নির্যাতনের কোনো বৈধতা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তার সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের নায়েবে ও রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য, রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবার রহমান বেলালসহ অন্যরা।

শেষে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানের নাম ঘোষণা করা হয়।

এর আগে সকালে জামায়াতের আমির রংপুর নগরীর মডেল কলেজ মিলনায়তনে রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের আয়োজিত উপজেলা ও থানা আমিরদের নিয়ে বিভাগীয় সম্মেলনে যোগ দেন। আরটিভি