
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন ফরম্যাট হিসেবে আসছে ‘টেস্ট টোয়েন্টি’। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে তৈরি এই ফরম্যাটে এক দিনেই অনুষ্ঠিত হবে ৮০ ওভারের ম্যাচ। তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, একই দলের হয়ে খেলবেন ছেলে ও মেয়ে ক্রিকেটাররা। দুই পক্ষের সম্মিলিত রানেই নির্ধারিত হবে ম্যাচের জয়-পরাজয়।
আগামী ১৪ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার কলম্বোর ঐতিহাসিক সিনহালিজ স্পোর্টস ক্লাব (এসএসসি) মাঠে শুরু হবে টেস্ট টোয়েন্টির উদ্বোধনী আসর। ২৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ থেকে ২১ বছর বয়সী ১৬০ জন তরুণ ক্রিকেটার অংশ নেবেন এই প্রতিযোগিতায়।
উদ্বোধনী আসরে অংশ নেবে চারটি মহাদেশীয় দল। প্রতিটি দলে থাকবেন ৪০ জন ক্রিকেটার ২০ জন ছেলে ও ২০ জন মেয়ে।
এই ফরম্যাটে ছেলেদের একাদশ খেলবে প্রতিপক্ষ দলের ছেলেদের বিপক্ষে। একইভাবে মেয়েদের একাদশ লড়বে প্রতিপক্ষ দলের মেয়েদের সঙ্গে। দুই পক্ষের করা রান যোগ করেই নির্ধারিত হবে দলের মোট সংগ্রহ এবং ম্যাচের ফল।
যেমন, কোনো দলের মেয়েরা ২০ ওভারে ১২০ রান এবং ছেলেরা ২০ ওভারে ১৮০ রান করলে সম্মিলিত সংগ্রহ হবে ৩০০ রান। প্রতিপক্ষ দুই পক্ষ মিলিয়ে ২৯০ রান করলে প্রথম দল জয়ী হবে ১০ রানে।
ফলে ম্যাচ জিততে ছেলে ও মেয়ে উভয় দলের পারফরম্যান্সই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
টেস্ট টোয়েন্টির ম্যাচ হবে এক দিনে মোট ৮০ ওভারের। এর প্রথম ৪০ ওভার খেলা হবে দিনের আলোয় লাল বলে ও সাদা পোশাকে। পরের ৪০ ওভার অনুষ্ঠিত হবে ফ্লাডলাইটের আলোয় সাদা বলে ও রঙিন পোশাকে।
দুই পর্বের মধ্যে রানের হিসাব নতুন করে শুরু হবে না। প্রথম পর্বে করা রান দ্বিতীয় পর্বেও দলের মোট সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত থাকবে।
ছেলে ও মেয়েদের ইনিংস হবে ২০ ওভারের। বোলিংয়ের ক্ষেত্রেও থাকবে পৃথক নিয়ম ছেলেরা শুধু ছেলেদের বিপক্ষে এবং মেয়েরা শুধু মেয়েদের বিপক্ষে বল করবেন।
প্রতিটি একাদশে সর্বোচ্চ পাঁচজন বোলার ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজনে একজন বোলার সর্বোচ্চ ছয় ওভার করতে পারবেন। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইনিংসের দশম ওভার শেষ হওয়ার আগেই, আয়োজকদের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী।
টসের মাধ্যমে ঠিক হবে কোন দল আগে ব্যাটিং করবে। পাশাপাশি নির্ধারিত হবে, কোন দলের ছেলেদের একাদশ নাকি মেয়েদের একাদশ আগে খেলবে।
ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেটকে একই মঞ্চে এনে উভয়ের পারফরম্যান্সকে সমান গুরুত্ব দেওয়াই টেস্ট টোয়েন্টির মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ফরম্যাটটির প্রতিষ্ঠাতা গৌরব বাহিরওয়ানি।
উদ্বোধনী আসরের জন্য মাঠের ট্রায়াল ও অনলাইন বাছাইয়ের মাধ্যমে ১৬০ জন ক্রিকেটার নির্বাচন করেছে গ্লোবাল সিলেকশন কমিটি। কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ভারতের কোচ রাজকুমার শর্মা।
টুর্নামেন্টের উপদেষ্টা বোর্ডে রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক তারকা এবি ডি ভিলিয়ার্স, অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার ম্যাথু হেইডেন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি স্যার ক্লাইভ লয়েড। পরিচালন কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকবেন মাইক ফোর্ডহ্যাম।
আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্ক।
ছেলে ও মেয়েদের সম্মিলিত পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ফল নির্ধারণের এই উদ্যোগ ক্রিকেটে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে অভিনব এই ফরম্যাট দর্শকদের মধ্যে কতটা জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এর বিস্তার ঘটে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে উদ্বোধনী আসর পর্যন্ত।