News update
  • November 7 Declared a Public Holiday Every Year     |     
  • LPG Shortage, Overcharging Hit Consumers Across Dhaka     |     
  • Energy, investment, Rohingya issue to top Bangladesh-Indonesia talks      |     
  • Japan Remains Bangladesh’s Trusted Development Partner: Envoy     |     
  • Dhaka ranks world’s second most polluted city this morning      |     

হান্তাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকির সঙ্গে আবহাওয়া যেভাবে সম্পর্কিত

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রোগবালাই 2026-05-13, 10:46pm

tryerewewtertert-b4f292a0f828017bb6384bf3d0897d501778690779.jpg




ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে হান্তাভাইরাস ছড়ায় এবং আক্রান্ত ইঁদুরের মূত্র, বিষ্ঠা বা লালার সংস্পর্শে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, সাধারণ মানুষের জন্য হান্তাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এখনো খুবই কম। তবে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে ইঁদুরের সংখ্যা বাড়লে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, ইঁদুরের বিষ্ঠা থেকে বাতাসে ছড়িয়ে পড়া দূষিত কণা শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলেও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। বাসা তৈরির জন্য আক্রান্ত ইঁদুরের সংস্পর্শে যাওয়া উপকরণ থেকে ছড়াতে পারে হান্তাভাইরাস। এছাড়া, ইঁদুরের কামড় বা আঁচড় থেকেও সংক্রমণ হতে পারে; তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেটি হবে বিরল ঘটনা।

যারা দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল এমন কেবিন, শেড, গ্যারেজ বা অন্যান্য ভবন পরিষ্কার করেছেন এবং সেখানে ইঁদুরের উপস্থিতি ছিল। এমই চিত্র দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রে হান্তাভাইরাস সংক্রমণের মানুষদের মধ্যে। 

আবহাওয়া ইঁদুরের আবাসস্থল, খাদ্য ও চলাচলে প্রভাব ফেলে, যা সংক্রমণের সম্ভাব্য ঝুঁকিকেও প্রভাবিত করতে পারে।

সিডিসির ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯২-৯৩ সালে এল নিনোর প্রভাবে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতসহ বিভিন্ন পরিবেশগত কারণ পশ্চিমাঞ্চল ও ফোর কর্নার্স অঞ্চলে (যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র স্থান, যেখানে চারটি অঙ্গরাজ্য—অ্যারিজোনা, কলোরাডো, নিউ মেক্সিকো ও ইউটা একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয়েছে) ইঁদুরের আবাসস্থল ও সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। সেই সঙ্গে পরোক্ষভাবে বাড়ে ‘সিন নোমব্রে’ ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি।

অ্যাকুওয়েদারের আবহাওয়াবিদরা ধারণা করছেন, আটলান্টিক ঘূর্ণিঝড় মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই একটি ‘সুপার এল নিনো’ তৈরি হতে পারে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো নামে এই জলবায়ুগত ধরণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে বৃষ্টিপাত ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে গ্রীষ্ম ও শরৎকালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সমভূমি থেকে পূর্ব উপকূল পর্যন্ত আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাবে।

তারা সতর্ক করছেন, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতে গাছপালা বাড়ে। এতে ইঁদুরের খাদ্যের উৎস বাড়াতে পারে। তবে ঘর-বাড়ি পরিষ্কার রাখলে রোগের সংক্রমণ ঝুঁকি কমতে পারে।

এমভি হন্ডিয়াস জাহাজে হান্তাভাইরাস সংক্রমণের পর বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ৪ মে পর্যন্ত সংক্রমণের সাতটি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় দুটি সংক্রমণের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন বিশেষজ্ঞরা এবং মৃত তিনজনের আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, ওই জাহাজ থেকে সরিয়ে নেওয়া আরও কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে এক মার্কিন ও একজন ফরাসি নারী হান্তাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।

ওই প্রাদুর্ভাবটি হলো হান্তাভাইরাসের একটি ধরন ‘অ্যান্ডিস ভাইরাস’।

সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সহকারী সচিব ডা. ব্রায়ান ক্রিস্টিন বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সাধারণ মানুষের জন্য হান্তাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এখনো অত্যন্ত কম।

সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে নজরদারি শুরুর পর থেকে ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরীক্ষাগারে নিশ্চিত ৮৯০টি সংক্রমণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

সিডিসি পরামর্শ দিয়েছে, ইঁদুরের বিষ্ঠা ও মূত্রের ওপর ব্লিচ মিশ্রণ বা ইপিএ অনুমোদিত জীবাণুনাশক স্প্রে করে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এর কিছুক্ষণ পরে পরিষ্কার করতে হবে।

আমাদের জন্য ঝুঁকি একেবারেই কম জানিয়েছেন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আবহাওয়া বা জলবায়ু পরিবর্তনের ধরনের কোনো সংক্রমণ ঝুঁকি বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক এখনো পাওয়া যায়নি।