News update
  • PM urges vigilance against creating confusion in potics     |     
  • Japanese sweet potato brings new hope to Brahmanbaria farmers     |     
  • Dhaka’s air turns moderate after rain Sunday morning      |     
  • Rajshaji rally wants reparation from India for river diversion     |     
  • Scientists find climate change is reducing oxygen in rivers     |     

হটস্পট ৩০ উপজেলায় কমেছে হামের সংক্রমণ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রোগবালাই 2026-05-17, 2:51pm

5yt5634563454-a8279e30a907497a4e20dcf98d00daba1779007880.jpg




সরকারের দ্রুত হামের টিকাদান কার্যক্রমের ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় হাম সংক্রমণ ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। অধিকাংশ উপজেলায় প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা দুই অঙ্কের নিচে নেমে এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত ৫ এপ্রিল শুরু হওয়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের আওতায় ৫ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা দেওয়ার পর সংক্রমণপ্রবণ এলাকাগুলোতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

হামের টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি সম্পর্কে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৫ এপ্রিল হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। এ ছাড়া সারাদেশেই এখন হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. চিরঞ্জিত দাস বলেন, ভ্যাকসিন কার্যকারিতায় সাধারণত ২ থেকে ৩ সপ্তাহ সময় লাগে। 

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত ৩০ উপজেলায় ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম চালুর পর বর্তমানে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। বিশেষ করে ১৭ এপ্রিলের পর থেকে ওইসব এলাকায় রোগীর সংখ্যা দৃশ্যমানভাবে কমতে শুরু করেছে। এই ফলাফল টিকাদানের কার্যকারিতার স্পষ্ট প্রমাণ। একই প্রবণতা ৫টি সিটি করপোরেশন এলাকায়ও দেখা যাচ্ছে। 

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, দেশে বর্তমানে হামে শিশু মৃত্যুর হার সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে টিকাদান কর্মসূচির পূর্ণ সুফল পেতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে, কারণ ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হতে সাধারণত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, প্রাথমিকভাবে যেসব এলাকায় ক্যাম্পেইন চালানো হয়েছে, সেখানে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারিতে দুই এবং ফেব্রুয়ারিতে পাঁচজন রোগী জেলা হাসপাতালে ভর্তি হলেও মার্চে হঠাৎ করেই হাম রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। এপ্রিলে পরিস্থিতি অনেকটা মহামারীর রূপ নেয়। প্রতিদিন প্রায় শত রোগীও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রতিদিন আট থেকে ১০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম শাহাব উদ্দীন জানান, জেলায় হাম রোগের প্রকোপ অনেকটা কমে এসেছে।

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, সম্প্রতি ভর্তি সংখ্যা দেখে বলা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রকোপ কমে আসছে।

নাটোর থেকে থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, জেলার সদর উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার ফলে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। বর্তমানে হাম উপসর্গ নিয়ে কোনো মৃত্যু বা জটিলতার খবর নেই।

নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, নাটোর সদর উপজেলায় হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কার্যক্রমে লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বেড়েছে এবং হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি জনসচেতনতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পাবনার সিভিল সার্জন মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, এখনও শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে, তবে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমেছে। মার্চে প্রতিদিন ১৯ থেকে ২১ জন হাম রোগী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হতো। বর্তমানে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে।সূত্র: বাসস