
ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা–এ গত ১০ এপ্রিল গাগারিন সায়েন্স ফেস্টিভ্যাল ২০২৬–এর উদ্বোধন করা হয়েছে। মানব ইতিহাসে প্রথম মহাকাশযাত্রার ৬৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। ১৯৬১ সালের ১২ এপ্রিল ইউরি গ্যাগারিন মহাকাশে পাড়ি দিয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মিস আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয় উপস্থিত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে গ্যাগারিনের ঐতিহাসিক মহাকাশযাত্রার বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ যাত্রা মহাকাশ যুগের সূচনা করে এবং মানব অর্জনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাগারিনের উত্তরাধিকার আজও তরুণ প্রজন্মকে কৌতূহল, সাহস ও বৈজ্ঞানিক উদ্দীপনায় অনুপ্রাণিত করে। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়া ও বাংলাদেশ–এর মধ্যে বিদ্যমান শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ক্ষেত্রে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প এবং রাশিয়া ও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়া ৬ হাজারের বেশি বাংলাদেশির অবদানের কথা উল্লেখ করেন।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি নতুন দিগন্ত অন্বেষণে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন–সহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তরুণদের রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্যোতির্বিজ্ঞান ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যয়নের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
এক সপ্তাহব্যাপী এ উৎসবটি বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় যৌথভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য তরুণদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক কৌতূহল, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটানো।
উদ্বোধনী দিনে ‘ইউরি গাগারিন—মহাকাশে প্রথম মানব’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিজ্ঞানীদের ভাস্কর্য প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া VII আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব ‘Tsiolkovsky’ থেকে নির্বাচিত চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রামাণ্যচিত্র Gagarin. Embracing the World এবং অ্যানিমেটেড সিরিজ The Flying Story।
এদিন Albert Einstein–এর ওপর আরিফ আসগরের উপস্থাপনায় একটি বিজ্ঞানবিষয়ক সেমিনার এবং স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মশিউর আমিন ইউরি গ্যাগারিনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাঁকে ‘বিশ্ব নায়ক’ এবং মানব সাহস ও অনুসন্ধানের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। পরে টেলিস্কোপের মাধ্যমে আকাশ পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শেষ হয়।
আয়োজকেরা জানান, ইউরি গাগারিনের আলোকচিত্র ও বিজ্ঞানীদের ভাস্কর্য প্রদর্শনী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।