
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে প্রস্তাবিত চুক্তিতে নতুন করে সংশোধনী চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে পরিবর্তন চান তিনি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর একটি কাঠামো চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ট্রাম্প আরও কিছু শর্ত যোগ করতে আগ্রহী হওয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঝুলে আছে। খবর বিবিসির।
অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তেহরানের অধিকার পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে কোনো চুক্তিতে সম্মতি দেবে না ইরান।
গত শুক্রবার (২৯ মে) হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প ও তার শীর্ষ উপদেষ্টারা চুক্তির খসড়া নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না এলেও হোয়াইট হাউস জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ও ‘রেড লাইন’ নিশ্চিত না হলে ট্রাম্প কোনো চুক্তি অনুমোদন করবেন না।
ট্রাম্পের ভাষায়, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের আশাবাদী বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, স্পষ্ট কোনো উপসংহারে পৌঁছানোর আগে যা বলা হচ্ছে, তার বেশিরভাগই অনুমাননির্ভর।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনার ফল ট্রাম্পের প্রত্যাশা পূরণ না করলে সামরিক অভিযান আবারও শুরু হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান বারবার চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছানোর দাবি করলেও এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় ইরান তার জব্দকৃত সম্পদ মুক্তির বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে।