News update
  • RMG exports to UK almost $1bn in first two fiscal months     |     
  • Trump Rejects Iran Proposal to Reopen Strait of Hormuz     |     
  • Govt to Buy Rooftop Solar Power at Tk 10.50 Per Unit     |     
  • Over 30 tourism clusters being developed in country: PM      |     
  • Bangladesh, US sign strategic civil nuclear cooperation agreement     |     

যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-06-11, 11:51am

ertert43543-f7e46c56996b13626b2e29e2e56658bc1781157077.jpg




মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে নতুন করে দফায় দফায় হামলা চালানোর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে তেহরান।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো 'আত্মরক্ষামূলক হামলা' সম্পন্ন করেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ভোর রাতে এই হামলা চালানো হয়।

ইরানের ওপর 'কঠোর' আঘাত করা হবে এবং যুদ্ধ শেষ করার চুক্তিতে পৌঁছাতে তেহরান "খুব বেশি সময় নিচ্ছে"- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কথা বলার পর সর্বশেষ মার্কিন হামলাটি চালানো হয়।

এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে; এর আগের দিনও ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় এই দুটি ঘাঁটিই লক্ষ্যবস্তু ছিল।

সম্প্রতি পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এপ্রিলে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

সর্বশেষ মার্কিন হামলার পর, হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের শহরগুলোতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী আগের দফার হামলায় বিমান প্রতিরক্ষা, রাডার এবং অন্যান্য স্থাপনাতেও আঘাত হেনেছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই সর্বশেষ উত্তেজনার মুহূর্তে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া দুটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে খবরটি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে "সব ধরনের জাহাজের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ" ঘোষণা করার খবর প্রচারের পর এই ঘটনাটি ঘটে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যয়ের অর্থ জোগাতে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা

তারেক রহমানের সরকারের প্রথম বাজেটে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হত স্থানীয় সরকার নির্বাচন

তবে সেন্টকম দাবি করেছে, "বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালিতে যাতায়াত অব্যাহত রেখেছে"।

এদিকে, নৌ চলাচলের পথ বন্ধ এবং জাহাজে হামলার খবরের পরপরই জ্বালানি তেলের দাম আবার বেড়ে যায়।

বিশ্বব্যাপী তেলের দামের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত 'ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের' দাম এশিয়ায় সকালের বাজারের সময়ে প্রায় দুই শতাংশ বেড়ে যায়। এর ফলে প্রতি ব্যারেলের দাম ৯৫ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলাটি শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, "আমরা গতকাল তাদের ওপর কঠোর হামলা চালিয়েছি এবং আজকেও তাদের ওপর কঠোর হামলা করতে যাচ্ছি"।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরানি নেতারা "একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আলোচনায় খুব বেশি সময় নিচ্ছেন"।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে, তারা "পরস্পরবিরোধী বার্তা পাঠানোর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে"।

ট্রাম্পের ওই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান "যে কোনো চাপ বা হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে"।

পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বলেন, "ইরানের প্রধান প্রধান স্থাপনাগুলোতে" বোমা ফেলা হবে।

হেগসেথ বলেন, ইরানকে একটি চুক্তি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তারা সেটি গ্রহণ করেনি।

একইসঙ্গে, ট্রাম্প বলেছিলেন, কোনো শান্তি চুক্তি সম্পন্ন না হলে ইরানে আবারো হামলা চালানো হবে।

গত এপ্রিলে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহের জন্য একটি যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল।

যদিও এরপর থেকে উভয় পক্ষই মাঝে মাঝে পাল্টা-পাল্টি হামলা চালিয়েছে। তবে তা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়নি।

এরইমধ্যে, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সাম্প্রতিক চেষ্টাগুলো থমকে গেছে এবং হামলার সংখ্যা বেড়ে গেছে।

গত মঙ্গলবার, হরমুজ প্রণালিতে গুলি করে একটি মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়।

এর জবাবে আইআরজিসি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্স এ দেওয়া এক বিবৃতিতে, জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যকে "আরো গভীর সংকটের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে"।

একইসঙ্গে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর অর্থ হলো "যুদ্ধবিরতি এখন কেবল নামেমাত্র যুদ্ধবিরতি বা ছোটখাটো সংঘর্ষের কারণে নাজুক পরিস্থিতিতে পরিণত হয়েছে।"

"নামেমাত্র এই যুদ্ধবিরতি কখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে পরিণত হবে সেই ঝুঁকিকে আমাদের ছোটো করে দেখা উচিত নয়। সব পক্ষকে অবশ্যই একটি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে কাজ করতে হবে। আর কোনো হামলা নয়। আর কোনো অজুহাত নয়," বিবৃতিতে বলেন জাতিসংঘ মহাসচিব।