News update
  • Ocean’s ability to absorb carbon falling as CC intensifies     |     
  • Bangladesh, Japan Sign Four MoUs and Two Grant Agreements     |     
  • 46 Killed in Collision Between Two High-Speed Trains in Spain     |     
  • Tarique Urges Japanese Investment in Energy, Rail, Technology     |     
  • Tarique Seeks Japan’s Support to Diversify Bangladesh’s Exports     |     

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে ড্রোন হামলা, জাতিসংঘের মিশন স্থগিত

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-06-26, 1:47pm

iraan-1-b21e218b40a244533c074634721da6b01782460024.jpg




যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত সপ্তাহে শান্তি চুক্তির প্রাথমিক সমঝোতা হওয়া সত্ত্বেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এই প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আটকে থাকা শত শত জাহাজ ও ১১ হাজারেরও বেশি নাবিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চলমান জাতিসংঘের অভিযান জরুরি ভিত্তিতে স্থগিত করা হয়েছে। খবর সিএনএনের। 

মার্কিন সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, কার্গো জাহাজটিতে একটি ইরানি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স নিশ্চিত করেছে, অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে জাহাজটির ডানদিকের ‘ব্রিজ’ বা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহত বা পরিবেশগত বিপর্যয়ের খবর পাওয়া যায়নি।

ইরান এই হামলার দায় সরাসরি স্বীকার না করলেও, ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই দেশটির শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সতর্কবার্তা দিয়েছিল, জাহাজগুলোকে কেবল ইরানের নির্ধারিত রুট দিয়েই চলাচল করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘প্রণালিটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও মুক্ত’ করার দাবিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তেহরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ সিওয়েজ ম্যানেজমেন্ট অর্গানাইজেশন’ এক্স (টুইটার) প্ল্যাটফর্মে জানিয়েছে, অনুমোদিত রুট ছাড়া অন্য পথ দিয়ে যাতায়াত করলে তার পরিণতি জাহাজ মালিক এবং কমান্ডারের ওপরই বর্তাবে। জাহাজের কোনো নিরাপত্তা গ্যারান্টি দেওয়া হবে না।

এই হামলার পরপরই জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) তাদের উদ্ধার অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয়। আইএমওএর মহাসচিব আর্সেনিও ডমিঙ্গোয়েজ এক বিবৃতিতে বলেন, আমি সবসময়ই জোর দিয়েছি যে নাবিকদের নিরাপত্তাই আমাদের কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাবে। তাই নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এই স্থানান্তর পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।

ডমিঙ্গোয়েজ আরও স্পষ্ট করেন, আক্রান্ত জাহাজটি আইএমওএর উদ্ধার কাঠামোর অধীনে চলাচল করছিল না। তবে এই ঘটনা প্রমাণ করে যে নাবিকদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে উদ্ধারকাজ চালানো কতটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ, গত বুধবার ওমানের উপকূলীয় রুট ব্যবহার করে এই প্রণালি দিয়ে সর্বোচ্চ ৭০টি জাহাজ পারাপার হয়েছিল, যা যুদ্ধ শুরুর পর এক দিনে সর্বোচ্চ।

১৪ দফার এই চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি কোনো ধরনের টোল বা মাশুল ছাড়াই সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার কথা ছিল। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নিয়েছে। তবে চুক্তিতে ওমানের পাশাপাশি ইরানকেও জাহাজ চলাচলের তদারকিতে আনুষ্ঠানিক যৌথ ভূমিকা দেওয়া হয়েছে।

আগামী ৩০ জুন থেকে পারমাণবিক শক্তি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপের কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়ায় অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার চলমান সংঘাত।

যদিও চুক্তিতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধাবসানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তবুও ইরান বারবারই দাবি করছে, ইসরায়েল-লেবানন ইস্যুটি এই আলোচনার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অন্যদিকে মার্কো রুবিও চেষ্টা করছেন ইসরায়েল-লেবানন সংকটকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে। লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন দিন দিন তাদের চরম অসন্তোষ প্রকাশ করছে।