News update
  • Speaker sees no possibility of Hasina's return even in 10-yrs     |     
  • Bangladesh Ambassador to Japan returns home ahead of PM’s visit     |     
  • Sajek Road Blockade: 2,933 Tourists Evacuated Amid Gunfire     |     
  • Climate Crisis May Displace 7.5% of Bangladeshis by 2050     |     
  • NEIR Rollout Targets Tk 2,000cr Revenue Loss From Illegal Phones     |     

শান্তি আলোচনার সম্মতির পরই কিয়েভে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-10-22, 9:28am

afp_20261021_d3wz24p_v1_highres_ukrainerussiaconflictwar-22bf27835b04646cdd80ef02a97e98341792639692.jpg




ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির রাজধানী কিয়েভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় বুধবার (২১ অক্টােবর) রাতে চালানো এ হামলায় বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। খবর বিবিসির। 

এমন সময়ে এ হামলা হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের উদ্যোগে যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ। এর আগের দিন নরওয়ের রাজধানী অসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এখন সমাধানের সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। তবে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে বারবার আশাবাদ প্রকাশ করলেও এখন পর্যন্ত সংঘাত বন্ধে সফল হননি তিনি।

পুতিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ জানান, বৈঠকে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সেগুলোকে খুব বেশি ‘কার্যকর’ বলে মনে করেননি তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ নভেম্বরের কাছাকাছি সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে পরবর্তী দফার আলোচনা হতে পারে। সংঘাত শেষ হওয়ার পর রাশিয়া ও ইউক্রেনের জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলাই আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বর্তমান যুদ্ধরেখা বরাবর সংঘাত স্থগিত করার প্রস্তাবে সম্মতির ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে প্রাণহানি বন্ধ করা প্রয়োজন। এরপর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।

উইটকফ সর্বশেষ বৈঠককে ‘গঠনমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আলোচনায় অংশ নেওয়া কুশনারও বলেছেন, সামনে কঠিন কাজ থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার কাঠামো তৈরির বাস্তব সুযোগ রয়েছে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড মস্কোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রুশ বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে অগ্রগতির দাবি করলেও ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা পরিস্থিতিকে কার্যত অচলাবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এদিকে, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি কিয়েভ অভিযোগ করেছিল, রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা দিতে ওয়াশিংটন গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে না। এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে বলে দাবি করে ইউক্রেন। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। পরে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান আবার কার্যকর হয়েছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী মার্কিন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের গতি সীমিত করার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে। তাদের দাবি, এতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ড্রোন অভিযান পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য এ ধরনের সীমাবদ্ধতা আরোপের নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে রাশিয়া ৭৪ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডকে মুক্তি দেয়। ইউক্রেনের পক্ষে যুদ্ধ করার অভিযোগে তাকে প্রায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্প জানান, হাবার্ড দেশে ফিরছেন এবং এ মুক্তির জন্য কোনো বন্দিবিনিময়ের প্রয়োজন হয়নি।

এদিকে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা। ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররাও এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে।