
প্রেম যেকোনো বয়সের বাধানিষেধ মানে না, জীবনের ষাট বসন্তে এসে যেন আরও একবার সেটাই প্রমাণ করলেন বলিউডের 'মিস্টার পারফেকশনিস্ট' আমির খান। রিনা দত্ত ও কিরণ রাওয়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর বলিউডের এই অভিনেতার মনের ঠিকানা এখন বদলে গেছে। গত দেড় বছর ধরে এক বিদেশিনীর প্রেমে মগ্ন ষাটের এই ‘যুবক’। আমির খানের সেই মনের মানুষটিই এখন বি-টাউনের সবচেয়ে বড় ‘টক অফ দ্য টাউন’। তিনি আর কেউ নন গৌরী স্প্র্যাট। আমিরের ভালোবাসার মানুষ হিসেবে লাইমলাইটে আসার পর থেকেই সবার মনে একটাই প্রশ্ন, কে এই গৌরী?
গৌরী স্প্র্যাটের রয়েছে এক ঐতিহাসিক পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড। তাঁর দাদু ফিলিপ স্প্র্যাট একসময় ইংল্যান্ড থেকে ভারতে এসেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে সরাসরি যোগ দেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আর নিজের দেশে ফিরে যাননি, ভারতেই স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেই সূত্রেই গৌরীর পরিবারের এ দেশে গড়ে ওঠা। পড়াশোনা শেষ করে গৌরী করপোরেট ও ফ্যাশন ডিজাইনিং জগতে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। ২০০৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ‘মার্মালেড’ নামে একটি সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
এরপর ২০০৭ সালে তিনি জুহুর বিখ্যাত ‘বি ব্লান্ট@স্প্র্যাট প্রাইভেট লিমিটেড’ এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে কেশচর্চার বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি হতো। এখানেই শেষ নয়, ২০০৮ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৩‘সি টেক্স প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থার ডিরেক্টর এবং ডিজাইন হেড হিসেবে কাজ করেছেন গৌরী। পাশাপাশি ২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ‘প্রুহা ক্লোথিং প্রাইভেট লিমিটেড’ এর ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১২ থেকে ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেঙ্গালুরুর ‘দ্য লেদার বুটিক’ এর কনসাল্টিং হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
পেশাদার পরিচয়ের বাইরে পশু অধিকার আন্দোলন কর্মী হিসেবে বেশ পরিচিতি রয়েছে গৌরীর। প্রাণীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অগাধ, যার প্রমাণ মেলে তাঁর নিজের বাড়িতেও। সেখানে রয়েছে একটি চার পায়ের পোষ্য সঙ্গী। ব্যক্তিগত জীবনে গৌরী নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করেন এবং ক্রিস্টাল হিলিংয়ের ওপরও তাঁর গভীর বিশ্বাস রয়েছে। অবসরে তিনি গল্পের বই পড়তে ভালোবাসেন, আর সুযোগ পেলেই ব্যাগ গুছিয়ে পাড়ি জমান দূর দেশে। ব্যক্তিজীবনে গৌরী একজন ডিভোর্সি এবং এক সন্তানের জননী। বর্তমানে তিনি ‘সিঙ্গেল মাদার’ হিসেবেই তাঁর ছেলের সমস্ত দায়িত্ব এক হাতে সামলাচ্ছেন।
আমির ও গৌরীর পরিচয় অবশ্য দীর্ঘদিনের হলেও মাঝে বেশ কয়েক বছর তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল না। রিনা ও কিরণের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আমিরের জীবনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণ করতেই যেন আবার গৌরীর আগমন ঘটে। গত দেড় বছর ধরে দুজনের মধ্যে মন দেওয়া-নেওয়া চলে এবং জীবনের বাকি পথটা একে অপরের হাত ধরে হাঁটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নিয়ে ফেলেন তাঁরা। এতদিন এই সম্পর্কটি আড়ালে থাকলেও, সম্প্রতি আমিরের ৬০তম জন্মদিনে সব লুকোছাপা শেষ হয়। জন্মদিনের সেই বিশেষ অনুষ্ঠানেই আমির খান উপস্থিত সবার সঙ্গে গৌরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন এবং এর মাধ্যমেই সিলমোহর পড়ে তাঁদের ভালোবাসার নতুন উপাখ্যানে।