News update
  • Next President Likely From BNP Standing Committee     |     
  • Resignation of President Mohammed Shahabuddin for ill health     |     
  • Why President Shahabuddin resigned from office     |     
  • President Mohammed Shahabuddin Resigns     |     
  • Experts Call for Better Flood Forecasting, Urban Planning     |     

কঙ্গোর জঙ্গলে কমলা ঠোঁটওয়ালা বিরল বানর

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জীববৈচিত্র 2026-07-26, 7:24am

img_20260726_072207-3da6135954bd78dbeca8efc91a068fa11785029080.jpg




আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) ঘন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্যে কমলা-গোলাপি ঠোঁট ও কালো মুখের এক নতুন প্রজাতির বানরের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান, শব্দ বিশ্লেষণ, আলোকচিত্র এবং জিনগত গবেষণার পর প্রাণীটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই বানরের বৈজ্ঞানিক নাম রাখা হয়েছে কলোবাস কঙ্গোয়েনসিস (Colobus congoensis)। স্থানীয় মানুষের কাছে এটি ‘লিকওয়েলি’ নামে পরিচিত। কালো লোমে ঢাকা দেহের সঙ্গে উজ্জ্বল কমলা-গোলাপি ঠোঁটই প্রাণীটির সবচেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

বিজ্ঞানীদের মতে, গত ৭৫ বছরে আফ্রিকায় এটিই মাত্র পঞ্চম নতুন প্রজাতির বানর, যা বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত হলো।

প্রাণীটির দেখা মিলেছে ডিআর কঙ্গোর মধ্য-পূর্বাঞ্চলের লোমামি জাতীয় উদ্যানের ঘন অরণ্যে। সংরক্ষণকর্মীরা প্রথম ২০০৮ সালে বানরটিকে দেখতে পেলেও তখন কেবল একটি অস্পষ্ট ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। প্রায় ১০ বছর পর আবারও প্রাণীটির দেখা মেলে। এরপর কঙ্গো, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির গবেষকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল এর ওপর বিস্তারিত গবেষণা শুরু করে।

গবেষণার অন্যতম সদস্য ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক জুনিয়র আমবোকো বলেন, এত কম মানুষের পরিচিত একটি প্রাণীর মুখোমুখি হওয়া ছিল রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।

তার ভাষায়, প্রাণীটি অত্যন্ত লাজুক স্বভাবের। বেশিরভাগ সময় গাছের অনেক উঁচুতে অবস্থান করায় সহজে চোখে পড়ে না। গবেষণার সময় আশপাশের ৫২টি গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা হলেও মাত্র আটটি গ্রামের মানুষ এই বানর দেখেছেন বলে জানিয়েছেন।

গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী পিএলওএস ওয়ান (PLoS One)-এ।

গবেষকরা জানান, স্থানীয় মানুষ বহুদিন ধরেই ‘লিকওয়েলি’ সম্পর্কে জানতেন। তবে এবারই বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে যে এটি অন্য সব পরিচিত কলোবাস বানর থেকে জিনগতভাবে আলাদা একটি স্বতন্ত্র প্রজাতি।

গবেষক দলের সদস্য ও প্রাণিবিজ্ঞানী অধ্যাপক কেট ডেটওয়াইলার বলেন, কলোবাস গোত্রের বানর আফ্রিকার বনাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা ফল ও পাতা খাওয়ার মাধ্যমে বীজ ছড়িয়ে দেয়, যা বন পুনর্জন্মে সহায়তা করে।

তার ধারণা, প্রাণীটির উজ্জ্বল কমলা-গোলাপি ঠোঁট সঙ্গী আকর্ষণ কিংবা নিজেদের মধ্যে একে অপরকে শনাক্ত করার সংকেত হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

গবেষকরা আরও জানান, এই বানরের গর্জনের মতো গভীর ও প্রতিধ্বনিময় ডাক রয়েছে। অনেক সময় তাদের ডাক শোনা গেলেও ঘন বন ও উঁচু বৃক্ষচূড়ায় অবস্থান করায় তাদের দেখা পাওয়া যায় না।

বর্তমানে এই প্রজাতির সংখ্যা খুবই সীমিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে মাংসের জন্য শিকারের কারণে প্রাণীটি হুমকির মুখে রয়েছে। তবে নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় এখন এর জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে আশা করছেন গবেষকরা।

গবেষকদের মতে, এই বিরল প্রজাতির প্রকৃত সংখ্যা, বিস্তৃতি ও জীবনযাপন সম্পর্কে এখনও অনেক কিছু জানার বাকি। সে জন্য ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত জরিপ ও গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সূত্র: ইয়াহু