News update
  • Climate Alarm ‘Blaring’ as Disasters Intensify: UN     |     
  • ‘Top Criminal’ David Emon Held While Fleeing to India     |     
  • Bangladesh Has Only 189 Tigers, Warns State Minister     |     
  • Study Finds Microplastics In Soybean Oil Sold In Dhaka     |     
  • Study Finds Microplastics in 95% of Sugar Samples in Bangladesh      |     

সুন্দরবনের বাঘ ও আবাসস্থল রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জীববৈচিত্র 2026-07-29, 7:27pm

pribeshmntrii-5faeca41d73823336cf1fe9673ebca9e1785331641.jpg




সুন্দরবনের বাঘ ও এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পাহারাদার। এটি একটি ‘কিস্টোন স্পিসিস’ হিসেবে বনের খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাঘ সংরক্ষণ শুধু একটি প্রাণী রক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সুন্দরবনের অন্যান্য প্রাণী, বনজ সম্পদ, খাদ্য, প্রজননক্ষেত্র ও সামগ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থার সুরক্ষা জড়িত।

মন্ত্রী আরও বলেন, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত নিরসনে সরকার সম্প্রতি ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধভাবে দখল করা বনভূমি পুনরুদ্ধার, বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিকতা, বন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপে সুন্দরবনে ২০১৫ সালে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টি বাঘ পাওয়া গেছে। বাঘ সংরক্ষণে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ এবং স্থানীয় বননির্ভর জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, বাঘ ও বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা ট্রফি পাচারের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগগুলোকে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে আরও সক্রিয় করা হবে। বাঘ-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্য প্রদানকারীদের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বাঘ আমাদের সাহসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সুন্দরবনের বাঘ রক্ষায় সংরক্ষিত অঞ্চল আরো বাড়ানো হয়েছে। বাঘের সুপেয় পানির সুযোগ বাড়াতে সুন্দরবনে ৮০ টি পুকুর খনন করা হয়েছে এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জীব-বৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। লোকালয় থেকে বন আলাদা করতে নাইলনের নেট দিয়ে বেড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে বাঘ এখন আর লোকালয়ে প্রবেশ করছে না।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সুন্দরবনের খাদ্য শৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে বাঘের গুরুত্ব অপরিসীম। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তুলতে টেকসই পর্যটন গড়ে তোলা জরুরি। সেজন্য সুন্দরবনে পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার।

প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।

আলোচনায় অংশ নেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন। মন্ত্রণালয়, বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ইলেট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইনের মিডিয়ার সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।