News update
  • Consumers face fresh burden as 12kg LPG cylinder price rises to Tk 2,060     |     
  • Cabinet Approves 29 Public Holidays for Bangladesh in 2027     |     
  • Extreme heat linked to over 5,500 excess preterm births in BD     |     
  • Talks on Ganges to be based on BD’s legitimate demands: Shama     |     
  • Safe food drive: Tk 35.5 lakh fined, 28 cases filed in October     |     

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল কেমন করে? ইতিহাস কার পক্ষে

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক Nation 2026-11-02, 11:36pm

yuktraass_ttr_mdybrtii_nirbaacn_thaamb-76b06411a403d8d93c39f1f743b35a6d1793641259.jpg




প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চার বছরের মেয়াদের মধ্যভাগে এসে আগামীকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'মিডটার্ম' বা মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন দেশটির নাগরিকরা। ভোটাররা মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সবকটি অর্থাৎ ৪৩৫টি আসন এবং ১০০টি সিনেট আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। আগামী দুই বছর কোন দল কংগ্রেস নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নির্ধারণ করবে এই ভোটগ্রহণ।


ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের নাম ব্যালট পেপারে না থাকলেও এই ভোটকে ব্যাপকভাবে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের ওপর এক ধরনের রায় হিসেবে দেখা হয়; এবং হোয়াইট হাউসে থাকা প্রেসিডেন্টের দলকেই প্রায় সবসময় এর খেসারত দিতে হয়।


১৯৪৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৮টিতেই ভোটাররা হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকা দলের কাছ থেকে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস) আসন কেড়ে নিয়েছেন। এতে গড়ে আসন হারানোর সংখ্যা ছিল ২৬টি। কেবল ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটনের ডেমোক্র্যাট এবং ২০০২ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশের রিপাবলিকানরা এই ধারার ব্যতিক্রম ঘটিয়েছিলেন।


রাজনৈতিক বিজ্ঞানীরা এটিকে "প্রেসিডেন্টের দণ্ড" (প্রেসিডেন্সিয়াল পেনাল্টি) বা "মধ্যবর্তী নির্বাচনের দণ্ড" (মিডটার্ম পেনাল্টি) বলে অভিহিত করে থাকেন। প্রেসিডেন্টের দল কেবল ক্ষমতায় থাকার কারণেই আসন হারাতে থাকে, কারণ ভোটাররা হোয়াইট হাউসের ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণে (চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স) রাখতে এই মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ব্যবহার করেন।


প্রতিনিধি পরিষদ : ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১৮টিতেই পরাজয়


হ্যারি এস ট্রুম্যান থেকে শুরু করে জো বাইডেন পর্যন্ত ১৯৪৬ সালের পর থেকে প্রতিটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল কতগুলো হাউস আসনে জিতেছে বা হেরেছে তার একটি বিশ্লেষণ এখানে দেওয়া হলো।


১৯৪৬ সালের পর থেকে ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্টরাই মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। গড়ে ডেমোক্র্যাটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ২৯টি হাউস আসন হারিয়েছে, যার বিপরীতে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের আমলে তা গড়ে ছিল ২৩টি।


সবচেয়ে বড় পরাজয়টি এসেছিল ২০১০ সালে—বারাক ওবামা প্রথম আফ্রিকান-আমেরিকান হিসেবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার দুই বছর পর, যখন ডেমোক্র্যাটরা ৬৪টি হাউস আসন হারিয়েছিল এবং রিপাবলিকানরা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নিয়েছিল। ট্রুম্যানের অধীনে ডেমোক্র্যাটরা ১৯৪৬ সালে ৫৬টি আসন এবং ক্লিনটনের অধীনে ১৯৯৪ সালে ৫৪টি আসন হারায়, যার প্রতিটিতেই তারা হাউসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল।


রিপাবলিকানদের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছিল ডুইট ডি আইজেনহাওয়ারের আমলে—যখন ১৯৫৮ সালে দলটি ৫০টি আসন হারায়, এবং জেরাল্ড ফোর্ডের আমলে ১৯৭৪ সালে দলটি ৪৮টি আসন হারায়। ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ৪২টি আসন হারাতে হয়েছিল এবং প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ খোয়াতে হয়েছিল।


এমন বড় ধরনের পরাজয় প্রায়শই প্রেসিডেন্টের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কেড়ে নেয়। ১৯৪৬ সালের পর ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ৭টিতেই (১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৯৪, ২০০৬, ২০১০, ২০১৮ এবং ২০২২) হাউসের হাতবদল বা নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটেছিল।


সিনেট: ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ১৩টিতেই পরাজয়


১৯৪৬ সালের পর অনুষ্ঠিত ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৩টিতেই প্রেসিডেন্টের দল সিনেট আসন হারিয়েছে, তবে কেবল ৬টিতে তারা উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল: ১৯৪৬, ১৯৫৪, ১৯৮৬, ১৯৯৪, ২০০৬ এবং ২০১৪।


প্রতিনিধি পরিষদে প্রতি দুই বছর পরপর প্রতিটি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়; অন্যদিকে, সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে প্রতি চক্রে কেবল প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসনে ভোটের লড়াই হয়। কারণ সিনেটররা ছয় বছরের মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন এবং তাদের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। এর অর্থ হলো, দেশের পরিস্থিতির পাশাপাশি কোন কোন অঙ্গরাজ্যে ভোট হচ্ছে—তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।


এই সময়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে আইজেনহাওয়ারের দল সিনেটে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছিল; ১৯৫৮ সালে তারা ১৩টি আসন হারিয়ে বসে। ১৯৪৬ সালে ট্রুম্যানের ডেমোক্র্যাটরা ১২টি আসন হারায় এবং ২০১৪ সালে ওবামার ডেমোক্র্যাটরা ৯টি আসন হারিয়ে রিপাবলিকানদের হাতে পরিষদের নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছিল।

মাঝে মাঝে দেশের এই দুই পরিষদ ভিন্ন ভিন্ন মেরুতে অবস্থান নিয়েছে। ১৯৮২ সালে রোনাল্ড রিগানের রিপাবলিকানরা ২৬টি হাউস আসন হারালেও সিনেটে একটি আসন বাড়িয়েছিল। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের রিপাবলিকানরা হাউস হারালেও সিনেটে একটি আসন যুক্ত করতে পেরেছিল, এবং ২০২২ সালে বাইডেনের ডেমোক্র্যাটরা হাউস হারালেও সিনেটে একটি আসন লাভ করেছিল।

এই বিপরীতমুখী বা বিভাজিত ফলাফলগুলো দেখায় যে, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভ পুরো কংগ্রেস জুড়ে সমানভাবে পড়ে না। একটি দল অনুকূল সিনেট মানচিত্রের কারণে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে, এমনকি যখন তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হাউস শাসিত জেলাগুলোতে পরাজিত হতে থাকে।

হাউস বা সিনেট হারানোর প্রকৃত অর্থ কী?

আসন হারানো এবং নিয়ন্ত্রণ হারানো কিন্তু এক জিনিস নয়। ১৯৬৬ সালে লিন্ডন জনসনের ডেমোক্র্যাটরা ৪৭টি হাউস আসন হারিয়েও তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পেরেছিল। বিশ বছর পর, রিগানের রিপাবলিকানরা হাউসে মাত্র চারটি আসন হারালেও আটটি আসন হাতছাড়া হওয়ার পর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল।

পরিষদগুলোর নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করে দেয় যে কারা নীতি বা এজেন্ডা ঠিক করবে এবং আইন পাস করবে। প্রেসিডেন্টের অনুমোদন বা ভেটোর কাছে পৌঁছানোর আগে একটি বিলকে উভয় পরিষদে পাস হতে হয়, তাই যেকোনো একটিতে বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রেসিডেন্টের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে পারে।

হাউসে সংখ্যাগরিষ্ঠতার অর্থ হলো একটি দল তদন্ত শুরু করার এবং প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ (অভিশংসন) করার ক্ষমতা পায়; অন্যদিকে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে প্রেসিডেন্টের মনোনীত প্রার্থীদের—যার মধ্যে আজীবন মেয়াদের ফেডারেল বিচারকরাও অন্তর্ভুক্ত—প্রত্যাখ্যান বা নাকচ করা যায়।

চলতি বছর প্রতিনিধি পরিষদে জয় পেতে ডেমোক্র্যাটদের অতিরিক্ত তিনটি আসন এবং সিনেট জয়ের জন্য চারটি আসন প্রয়োজন। সিনেটে ৫০-৫০ আসন ব্যবধান থাকলে রিপাবলিকানরাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কারণ টাই-ব্রেকিং ভোট দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের হাতে।