
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখলে খুব শিগগিরই ইসরায়েলকে একাই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হতে পারে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৮ জুন) দেওয়া এই সতর্কবার্তা এমন এক সময় এলো, যখন ইসরায়েল ও ইরান উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, উভয় পক্ষেরই হামলা চালানো বন্ধ করা উচিত এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘চূড়ান্ত আলোচনা’ এগিয়ে যাবে, যদি না ‘অজ্ঞতা বা বোকামিতে’ তা বাধাগ্রস্ত করে। খবর আল জাজিরার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি নেতানিয়াহুকে সরাসরি সতর্ক করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, আমি বলেছি, ‘বিবি, সাবধান থাকো। না হলে খুব শিগগিরই তুমি একা হয়ে যাবে।’
স্থানীয় সময় রোববার (৭ জুন) বৈরুতের ওপর ইসরায়েলের প্রাণঘাতী হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ইরান দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে কোনো শান্তিচুক্তি আংশিকভাবে লেবাননে সংঘাত বন্ধ হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান উত্তর ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এরপর ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ফোন করে পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সেই আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েল ইরানের ভেতরে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান হাইফার একটি অনুরূপ স্থাপনা এবং দুটি ইসরায়েলি বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
যদিও অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে এবং কোনো পক্ষেই প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তেহরানের সন্ত্রাসী শাসনের বিরুদ্ধে আঘাত হানার পর তারা আমাদের ওপর হামলা বন্ধ করেছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি আবার হামলা চালায়, তাহলে ইসরায়েল ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে জবাব দেবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছেন।
তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি দায়ী। তারা যুদ্ধবিরতি আলোচনার অংশ। তাই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনকারী যেকোনো ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ালে তার দায়ও যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান এখনও আলোচনার টেবিলে রয়েছে। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর আশা রয়েছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। টায়ার শহরে এক হামলায় পাঁচজন, নাবাতিয়েহ জেলা এলাকায় সাতজন এবং মারওয়ানিয়া এলাকায় আরও দুজন নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এছাড়া হুথি আন্দোলন ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং লোহিত সাগরে ইসরায়েলি নৌচলাচলের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার দাবি করেছে।