News update
  • Umrah pilgrim from Cumilla killed in Riyadh airport attack     |     
  • Senior Secy to represent Dhaka at 1st BIMSTEC HMs’ meet in Delhi     |     
  • Rooppur Nuclear Power Plant achieves nuclear criticality     |     
  • PM Orders Proper Use of Public Money for National Interest     |     
  • PM Seeks Marubeni Investment in AI Data Centre, KAFCO     |     

হঠাৎ পুতিনকে নিয়ে আতঙ্কে ইউরোপ!

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক কৌশলগত 2026-09-19, 6:27pm

img_20260919_182426-004ca93cc56791aea7568fd9e2bb57ef1789820842.jpg




গত চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে হঠাৎ জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে রাশিয়ায়। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এবার আরও বড় পরিসরে যুদ্ধ শুরুর জন্য নড়েচড়ে বসেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। নতুন করে সেনা নিয়োগের পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত বিভিন্ন দেশে ‘হাইব্রিড’ হামলা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য টেলিগ্রাফ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর ‘গোপন সেনা সমাবেশ’ বা স্টেলথ মোবিলাইজেশনের প্রস্তুতি চলছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও এর আগে দাবি করেছিলেন, সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর রাশিয়া আরও তিন লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা করছে।

রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কোনো নতুন গণনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা না করলেও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন বলছে, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক সেনা নিয়োগের পরিবর্তে ধাপে ধাপে নিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে মস্কো।

শুধু তাই নয়; নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়া ইউক্রেনের পাশাপাশি এবার ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ‘হাইব্রিড যুদ্ধ’ আরও বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন ইউরোপীয় নেতারা। হাইব্রিড যুদ্ধের মধ্যে সাইবার হামলা, ড্রোন হামলা, নাশকতা, তথ্যযুদ্ধ ও অন্যান্য গোপন তৎপরতা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমান্যুয়েল ম্যাক্রোঁ গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউরোপ ও ফ্রান্সের বিরুদ্ধে রাশিয়ার হাইব্রিড হুমকি বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে সম্ভাব্য নাশকতা থেকে রক্ষার পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ম্যাক্রোঁর ভাষ্যমতে, ইউক্রেনের প্রতি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমর্থন কমাতে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া।

রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা নিয়ে সতর্ক করেছেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কও। সম্প্রতি তিনি বলেছেন, গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী ইউক্রেনকে সমর্থনকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ‘হাইব্রিড হামলা’ চালানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে রাশিয়ার। এর মধ্যে পোল্যান্ডকেও লক্ষ্যবস্তু বানানো হতে পারে। টাস্কের আরও আশঙ্কা, হামলার পর রাশিয়া সেগুলোকে ‘দুর্ঘটনা’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টাও করতে পারে।

রাশিয়ার সাম্প্রতিক তৎপরতায় আতঙ্কে আছে যুক্তরাজ্যও। ইউক্রেনকে দূরপাল্লার হামলায় সহায়তা করা হলে ইউক্রেনে থাকা ব্রিটিশ সামরিক স্থাপনাগুলোকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে মস্কো।

ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি মস্কোর ব্রিটিশ দূতাবাসের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে তলব করে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর অবশ্য এই পদক্ষেপকে রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে।

এর আগে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ১০ কোটি পাউন্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাজ্য।

এদিকে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আগে থেকেই রাশিয়ার নতুন সেনা নিয়োগের প্রস্তুতির কথা বলে আসছে। গত আগস্টে জেলেনস্কি বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর অতিরিক্ত তিন লাখ সেনা নিয়োগ করতে পারে রাশিয়া।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা ও বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা পরে দাবি করে, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে মোট ছয় লাখ সেনা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে মস্কোর।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা অবশ্য মনে করছেন, তিন লাখ নতুন সেনাকে দ্রুত যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর মতো সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়ার হাতে আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের মতে, প্রকাশ্য ও বড় আকারের গণনিয়োগের বদলে ‘গোপন সেনা নিয়োগ’ বা স্টেলথ মোবিলাইজেশনের মাধ্যমে জনবল বাড়ানোর চেষ্টা হতে পারে। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সেনা নিয়োগ বাড়ানো এবং বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে চাপ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এরই মধ্যে ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কমানোর সম্ভাবনা নিয়েও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর ইউরোপ থেকে ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে—এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে; যদিও যুক্তরাষ্ট্র এ খবর অস্বীকার করেছে।

এ অবস্থায় মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইউরোপে মার্কিন সেনা মোতায়েনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার।

ইউরোপীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন ভবিষ্যতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর বিরুদ্ধে আরও প্রকাশ্য পদক্ষেপের দিকে যেতে পারে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় অর্থবহ শান্তি আলোচনার বদলে সামরিক চাপ বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারেন পুতিন।