News update
  • State Minister Amit urges global firms to join BD offshore bidding     |     
  • Heart Disease Linked to 777 Daily Deaths in Bangladesh     |     
  • US Tech Firms Eye Over $1b Investment in Bangladesh     |     
  • Dhaka ranks 6th globally in air pollution on Tuesday     |     
  • Netanyahu Secretly Visits UAE Amid Rising Regional Tensions     |     

শরিফুলের জোড়া আঘাতে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা বাংলাদেশের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্রিকেট 2026-08-22, 10:56am

780157384_2309593783110613_6697803535374362753_n-4ac5d95a37d40d9eaadb0a74211e1ceb1787374591.jpg




একটু আগে যে উইকেটে বাংলাদেশের ব্যাটাররা হাঁসফাঁস করে ফিরেছেন, সেখানেই দারুণ ব্যাটিং করে যাচ্ছিলেন ট্রাভিস হেড। এক সঙ্গীকে হারালেও মার্নাস লাবুশেনকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন হেড। বোলিংয়ে এসেই অসি শিবিরে হানা দিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। এই দুই ব্যাটারকেই ফিরিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) ম্যাকাইয়ের গ্রেট বেরিয়ার রিফ অ্যারেনায় দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৫ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া। ৯ বলে ২ রানে অপরাজিত আছেন স্টিভেন স্মিথ আর ৩ বলে শূন্য রানে ক্যামেরন গ্রিন।

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করছিলেন হেড। ২৭ বলে ২২ রান করে ফেলেছিলেন তিনি। আক্রমণে এসে দ্বিতীয় বলেই হেডকে বোল্ড করে ফেরালেন শরিফুল। 

এরপর ওভারের পঞ্চম বলে আরেক ব্যাটার লাবুশেনকেও দেখালেন ড্রেসিংরুমের পথ। তিনিও শরিফুলের বলে বোর্ড হয়েছেন। বল গিয়ে আঘাত করেছে স্টাম্পের মাথায়। ৯ বলে ৪ রান এসেছে লাবুশেনের ব্যাট থেকে।

বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিলেন তাসকিন

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ছয় ওভারেই তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশের পাঁচ উইকেট। টাইগারদের সাফল্য অতটা নয়। তবে বোলিংয়ে তৃতীয় ওভারের মধ্যে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশও। উইকেট এনে দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ।

ডারউইন টেস্টে ব্যর্থতার কারনে স্কোয়াড এবং একাদশে পরিবর্তন এনেছিল অস্ট্রেলিয়া। জ্যাক ওয়েদারাল্ডের পরিবর্তে ফেরানো হয়েছিল ম্যাথু রেনশকে। তিনিও অসিদের খুশি করতে পারেননি। ফিরেছেন তাসকিন আহমেদের বলে। ১০ বলে ৮ রান করেছেন তিনি।

ব্যাটিং ধসে ৬৪ রানেই অলআউট বাংলাদেশ

দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশকে দুঃস্বপ্ন দেখালেন মিচেল স্টার্ক। সেশন বদলানোর পর বদলালো সেই নামও। দ্বিতীয় সেশনে সেই দায়িত্ব নিলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। অসি পেসারদের গতি, বাউন্স আর সুইংয়ে অসহায় বাংলাদেশ। সফরকারীদের প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে চারজনই ফিরলেন রানের খাতা খোলার আগেই। বাকি যারা রান পেরেন তারাও ইনিংস বড় করতে পারলেন না। কোনোমতে পঞ্চাশ পার করে থামল বাংলাদেশ।

মাত্র অর্ধশত রান তুলে দিনের দ্বিতীয় সেশনেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। সর্বসাকুল্যে ৩৪ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ৬৪ রান করেছে বাংলাদেশ।

টস হেরে ব্যাটিং করতে নেমে যেন রীতিমতো চোখে সরষে ফুল দেখেছে বাংলাদেশ। দায়িত্ব নিতে পারেনি টপঅর্ডার কিংবা মিডলঅর্ডারের কোনো ব্যাটার। আগের ম্যাচে যেই স্টার্ক উইকেট না পেয়ে হতাশায় পুড়েছেন, আজ প্রথম সাত ওভারেই তিনি ধরেছেন পাঁচ শিকার। তুলে নিয়েছেন ফাইফার। বাকি কাজটা সেরেছেন প্যাট কামিন্স আর হ্যাজলউডরা।

ইনিংসের প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। স্টার্কের বলে ওপেনার সাদমান ইসলাম ক্যাচ দেন ক্যামেরন গ্রিনের হাতে। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের উইকেটে স্থায়ীত্ব হয়েছে ২ বল। তিনিও রানের খাতা খুলতে পারেননি। স্টার্কের বলে ক্যাচ দিয়েছেন বেউ ওয়েবস্টারকে।

একই পথের পথিক অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। উইকেটে তিনিও এক বলের বেশি সময় থাকতে পারেননি। ৫ বল খেলে রানের খাতা খুলতে পারেননি লিটন দাসও। এই দুই ব্যাটারই স্টার্কের বলে এলবিডব্লিউয়ের শিকার হয়েছেন। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে রানের দেখা পেয়েছেন কেবল মুমিনুল হক। ১৬ বলে ৫ রান করে ধরা পড়েছেন গ্রিনের হাতে।

এমন ব্যাটিং ধসের বিপরীতে কিছুটা আশা দেখিয়েছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম আর মেহেদী হাসান মিরাজ। ধংস্তুপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছিলেন তারা। কিন্তু সেই চেষ্টাও সফল হয়নি। ষষ্ঠ উইকেটে ৫৩ বলে ৯ রানের জুটি ভেঙেছে প্যাট কামিন্সের বলে মুশফিক বোল্ড হয়ে ফিরলে। ৪২ বল থেকে ৫ রান এসেছে মুশির ব্যাট থেকে।

এতেই শঙ্কা জেগেছিল মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই গুটিয়ে যাওয়ার। তেমনটা হতে দেননি মিরাজ আর হাসান মাহমুদ। ৫৫ বলে ১৫ রানের জুটি গড়ে প্রথম সেশন পার করেন তারা। তবে দ্বিতীয় সেশনে ফিরতেই আবারও শুরু হয় ব্যাটিং ধস। দ্বিতীয় সেশনের দ্বিতীয় ওভারেই মিরাজকে ফেরান কামিন্স। ওযেবস্টারকে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ১১ রান।

এরপর আর বেশি সময় টিকতে পারেননি হাসানও। পরের ওভারেই জস হ্যাজলউডের বলে ক্যাচ দেন তিনি। ৩৬ বলে ১০ রান করে ফিরেছেন হাসান। দ্রুতই ড্রেসিংরুমের পথে ধরেছেন তাসকিনও। ৭ বলে ১ রান করে কামিন্সের শিকার হয়েছেন তিনি।

তাসকিন যখন ফেরেন তখন ৯ উইকেটে বাংলাদেশের রান ৩৯ রান। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান ৪৩। সেই লজ্জার রেকর্ড ভাঙারও শঙ্কা জেগেছিল। তবে তাইজুল ইসলাম আর শরিফুল ইসলামের জুটিতে সেই লজ্জার রেকর্ড ছাড়ায় বাংলাদেশ। পার করে অর্ধশত রানের গণ্ডি।

বাংলাদেশের লজ্জার রেকর্ড ছাড়াতে কিছুটা আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন শরিফুল। ইনিংসে সবচেয়ে বেশি তিনটি চার মারেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্টার্কের বলে উইকেটের পেছনে অ্যালেক্স ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৯ বলে ১৪ রান করেন শরিফুল।