News update
  • BD Consulate in Toronto tops global ranking for Diplomatic Service     |     
  • Execution of 2 Bangladeshis in KSA “very disappointing”: State Minister Kobir     |     
  • PM Urges Dhaka Officials to Keep City Clean for Children     |     
  • Cultural institutions face leadership vaccum, governance questions     |     
  • Ishraque Hossain Announces Resignation as State Minister     |     

ফাইনালে উঠতে বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্রিকেট 2026-10-20, 9:24am

tawhid_hridoy-ab0c663036fc04eb345dfcd13697e6571792466646.jpg




২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলছে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ। তিন দলের এই প্রতিযোগিতায় লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। তবে টুর্নামেন্টের শুরুতেই জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের ম্যাচের দিকে তাই বিশেষ নজর ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সেই ম্যাচে আফগানিস্তানের বড় জয় বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার সমীকরণ আরও জটিল করে তুলেছে। এখন নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারানোর পাশাপাশি নেট রানরেটের হিসাবও মেলাতে হবে বাংলাদেশকে।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারে বাংলাদেশ। প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৭২ রানে। ৩৩ ওভার ৪ বলেই অলআউট হয় দলটি। বড় ব্যবধানে এই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশের নেট রানরেট নেমে যায় মাইনাস ১.৯৮০-এ। ফলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে শেষ ম্যাচে শুধু জয় পেলেই হবে না, জয়ের ব্যবধানও বড় রাখতে হবে।

এদিকে সোমবার (১৯ অক্টোবর) আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৯৪ রান সংগ্রহ করে তারা। আফগানিস্তানের হয়ে সেদিকউল্লাহ অটল ১১০ বলে ১০২ রান করেন। ইব্রাহিম জাদরান খেলেন ৯৬ বলে ৯০ রানের কার্যকর ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত ৩৮ ওভার ৪ বলে মাত্র ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস। ফলে ১৫৮ রানের বিশাল জয় পায় আফগানিস্তান। কিন্তু এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে জিতলে বাংলাদেষের জন্যে সমিকরণটা সহজই হতো। 

জিম্বাবুয়ের এই পরাজয়ের ফলে বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকলেও সেই পথ সহজ নয়। বাংলাদেশ যদি নিজেদের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতে পারে, তাহলে তিন দলের পয়েন্ট সমান হবে। সে ক্ষেত্রে নেট রানরেটের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে কোন দুই দল ফাইনালে খেলবে। প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারের কারণে এই হিসাবেই সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে বাংলাদেশ। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পাশাপাশি রানরেটের ঘাটতি পূরণ করাও হবে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।

সমীকরণ হিসেবে, বাংলাদেশ যদি আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাটিং করে, তাহলে ফাইনালে ওঠার দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য রাখতে হবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ প্রথমে ব্যাট করে ২৫০ রান করলে আফগানিস্তানকে ২০৯ বা তার কম রানে আটকে রাখতে হবে। তবে এই ব্যবধানকে চূড়ান্ত নিশ্চয়তা হিসেবে না দেখে লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রকৃত ম্যাচের স্কোর, ইনিংসের দৈর্ঘ্য এবং অন্য দলগুলোর নেট রানরেটের ওপর চূড়ান্ত হিসাব নির্ভর করবে। তাই বাংলাদেশের জন্য যত বেশি ব্যবধানে জয় পাওয়া সম্ভব, ততই ভালো।

অন্যদিকে বাংলাদেশ যদি পরে ব্যাটিং করে, তাহলে কত রানের লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে কত ওভারের মধ্যে জয় নিশ্চিত করতে হবে। সমীকরণ অনুযায়ী, আফগানিস্তান ২০০ রানের লক্ষ্য দিলে বাংলাদেশকে ৪০ ওভার ২ বলের মধ্যে জিততে হবে। ২২০ রানের লক্ষ্য হলে জিততে হবে ৪০ ওভার ৫ বলের মধ্যে। লক্ষ্য ২৪০ রান হলে ৪১ ওভার ১ বলের মধ্যে, ২৫০ রান হলে ৪১ ওভার ৩ বলের মধ্যে এবং ২৬০ রান হলে ৪১ ওভার ৪ বলের মধ্যে ম্যাচ শেষ করতে হবে। আফগানিস্তান ২৭০ রান করলে ৪১ ওভার ৫ বলের মধ্যে, ২৮০ রান করলে ৪২ ওভারের মধ্যে এবং ৩০০ রান করলে ৪২ ওভার ২ বলের মধ্যে লক্ষ্য তাড়া করতে হবে। এই হিসাবের উদ্দেশ্য হলো, বাংলাদেশকে এমন ব্যবধানে জিততে হবে, যাতে নেট রানরেটে উন্নতি করে প্রতিদ্বন্দ্বী জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে ব্যাটিং বিভাগে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা দলের ব্যাটিং দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা আরও কমে যাবে। তাই শুরুতে উইকেট ধরে রাখা, মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি বজায় রাখা এবং শেষ দিকে কার্যকর ব্যাটিং করা জরুরি। একই সঙ্গে উইকেট বাঁচাতে গিয়ে রান তোলার গতি যেন অতিরিক্ত কমে না যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। কারণ রান তাড়া করতে নামলে শুধু লক্ষ্য পূরণ করাই যথেষ্ট হবে না, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ম্যাচ শেষ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

বোলিং বিভাগকেও নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব। আগে ব্যাটিং করলে আফগানিস্তানকে দ্রুত অলআউট করা কিংবা কম রানে আটকে রাখা বাংলাদেশের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করতে পারে। প্রতিপক্ষকে বড় সংগ্রহ করতে দিলে ৪১ রানের ব্যবধানে জয়ের লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। অন্যদিকে পরে ব্যাটিং করলে আফগানিস্তানের স্কোর যত কম রাখা যাবে, দ্রুত লক্ষ্য তাড়া করে নেট রানরেট বাড়ানোর সুযোগ তত বেশি থাকবে। ফলে বোলারদের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং, নিয়মিত উইকেট এবং প্রতিপক্ষের রান তোলার গতি কমিয়ে রাখার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলেই বাংলাদেশের ফাইনাল নিশ্চিত হবে কি না, তার উত্তর নির্ভর করছে চূড়ান্ত পয়েন্ট তালিকা ও নেট রানরেটের ওপর। তিন দলের পয়েন্ট সমান হলে নেট রানরেটই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বাংলাদেশকে শুধু জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামলে চলবে না, কত রানে জিততে হবে কিংবা কত ওভারের মধ্যে লক্ষ্য তাড়া করতে হবে, সেই হিসাবও মাথায় রাখতে হবে। তবে ছবিতে দেওয়া ৪১ রানের ব্যবধান ও লক্ষ্যভিত্তিক ওভারের সমীকরণ চূড়ান্তভাবে প্রকাশের আগে আনুষ্ঠানিক স্কোরিং হিসাবের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের গ্রুপের শেষ  ম্যাচটি হয়ে উঠেছে অঘোষিত সেমিফাইনাল।  প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতা কাটিয়ে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং- তিন বিভাগেই সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হবে দলকে। জয়ের পাশাপাশি রানরেটের ঘাটতি পূরণ করতে হলে প্রয়োজন হবে পরিকল্পিত ক্রিকেট ও চাপ সামলানোর দক্ষতা। বাংলাদেশের সামনে তাই সমীকরণ পরিষ্কার - আফগানিস্তানকে হারাতে হবে, আর সেই জয় হতে হবে এমন ব্যবধানে, যা ফাইনালে ওঠার পথ খুলে দিতে পারে।