News update
  • PM Urges Faster Global Action as Sea Level Threatens 10m     |     
  • PM to address UNGA in Bangla today     |     
  • UNGA President Warns Against Fading Attention to Rohingya     |     
  • PM Proposes Five Urgent Steps to Resolve Rohingya Crisis     |     
  • Govt Appoints Indonesian Firm to Operate Cox’s Bazar SPM     |     

চট্টগ্রামকে হারিয়ে দ্বিতীয় শিরোপার স্বাদ পেল রাজশাহী

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্রিকেট 2026-01-24, 7:27am

raajshaahii-64cf182e9cf61fbeab09b5885747e27a1769218079.jpg




রাজধানীর মিরপুরে রাতের আকাশ বর্ণিল আতশবাজিতে ছেয়ে গেছে, সেই আলোর নিচে চলছে পদ্মাপাড়ের মানুষের বাঁধভাঙা উল্লাস। গ্যালারি থেকে গগনবিদারী উল্লাসধ্বনিতে ভেসে আসছে একটিই নাম—‘রাজশাহী’, ‘রাজশাহী’। এই উল্লাস শ্রেষ্ঠত্বের সিংহাসন পুনরুদ্ধারের, বিপিএলের মেগা ফাইনালে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার।

প্রথমবার বিপিএলে কোচিং করাতে এসে হান্নান সরকার বলেছিলেন, ‘বিশ্বাস রাখুন, আমরা ভালো কিছু উপহার দেব।’ তার সেই প্রতিশ্রুতি আজ বাস্তবে রূপ নিল। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম র‌্যালসের বিপক্ষে প্রতিশোধের গল্প লিখে শিরোপা জিতল রাজশাহী।

টুর্নামেন্ট জুড়ে যেন ব্যাটকে শান দিয়ে রাখছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। এরপর ফাইনালের মঞ্চে সেটাকে ব্যবহার করলেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জ্বলে ওঠলেন ব্যাটহাতে। চট্টগ্রামের বোলারদের শাসন করে স্পর্শ করলেন তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগার। তানজিদের সেঞ্চুরিতে লড়াকু পুঁজি দাঁড় করিয়েছিল রাজশাহী।

রাজশাহীর পেস কিংবা স্পিন—কোনো বলই মোকাবিলা করতে পারেনি চট্টগ্রামের ব্যাটাররা। একদিকে পুড়েছে বিনুরা ফার্নান্দোর পেস আগুনে। অন্যদিকে, নীল হয়েছে হাসান মুরাদের স্পিন বিষে। এতে ১৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গুটিয়ে গেছে ১১১ রানেই।

মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান তোলে রাজশাহী। জবাব দিতে নেমে ১৭.৫ ওভারে ১১১ রান তুলতেই গুটিয়ে গেছে চট্টগ্রাম।

রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় চট্টগ্রাম। পাওয়ার-প্লের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ফেরেন ৯ রানে। তিন নম্বরে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন মাহমুদুল হাসান জয়। ৭ বলে ১১ রান করে ফেরেন হাসান নাওয়াজ।

একপ্রান্ত আগলে রাখা ওপেনার মিজা তাহির বেগকে সঙ্গ দিতে এসে বেশি সময় উইকেটে টিকতে পারেননি জাহিদুজ্জামান সাগর। ১৩ বলে ১১ রান করে ফেরেন তিনি।

কোয়ালিফায়ারের নায়ক অধিনায়ক শেখ মেহেদীও এদিন ফেরেন হতাশ করে। মোটে ৫ বলে ৪ রান করে বিদায় নেন হাসান মুরাদের বলে তানজিম হাসান সাকিবকে ক্যাচ দিয়ে। এরপর ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন তাহির বেগও। তিনিও শিকার হন হাসান মুরাদের। ৩৬ বলে ৩৯ রান করে ফেরেন তিনি।

৯২ রানে ৬ উইকেট হারানো চট্টগ্রামের তখন একমাত্র আশার বাঁতি হয়ে ছিলেন আসিফ আলি। উইকেটে নেমে ঝড়ের আভাসও দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফার্নান্দো সেই ঝড় থামিয়ে রাজশাহীর জয়ের পালে হাওয়া লাগান।

শেষ ব্যাটার হিসেবে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধকে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান আবদুল গাফ্ফার সাকলাইন। এরপরই আনন্দে মেতে ওঠে রাজশাহী।

রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট শিকার করেছেন বিনুরা। তিনটি উইকেট পেয়েছেন হাসান মুরাদ। দুটি উইকেট গেছে জিমি নিশামের ঝুলিতে। আর একটি উইকেট পেয়েছেন সাকলাইন।

এর আগে ওপেনিংয়ে দারুণ শুরু এনে দেন সাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ তামিম। ১০.২ ওভারে আসে ৮৩ রান। ৩০ বলে ৩০ রান করে মুকিদুল ইসলামের শিকার হন ফারহান। ওয়ানডাউনে কেইন উইলিয়ামসনকে নিয়ে ৪৭ রান যোগ করেন তামিম। ১৫ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় ২৪ রানে শরিফুল ইসলামকে উইকেট দেন উইলিয়ামসন।

অবিচল থাকেন তামিম। ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে পুরোটা সময় শাসান চট্টগ্রামের বোলারদের। ৬২ বলে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কার মারে ১০০ রানে থামেন তামিম। তাকে বিদায় করেন মুকিদুল। শেষ দিকে জেমস নিশামের ৬ বলে অপরাজিত ৭ এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৭ বলে ১১ রানে লড়াইয়ের পুঁজি দাঁড় করায় রাজশাহী।

চট্টগ্রামের পক্ষে মুকিদুল ৪ ওভারে ২০ রানে ২ উইকেট নেন। ৪ ওভারে ৩৩ রানে ২ উইকেট শরিফুলের নামের পাশে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স : ২০ ওভারে ১৭৪/৪ (শাহিবজাদা ৩০, উইলিয়ামসন ২৪, তামিম ১০০, শান্ত ১১, নিশাম ৭*; শরিফুল ৪-০-৩৩-২, মুকিদুল ৪-০-২০-২, তানভীর ৩-০-১৭-০, মেহেদী ৪-০-৪৮-০, তাহির ১-০-১৩-০, জামাল ৪-০-৪৩-০)

চট্টগ্রাম রয়্যালস : ১৭.৫ ওভারে ১১১/১০ (বেগ ৩৯, নাঈম ৯, জয় ০, নাওয়াজ ১১, জাহিদুজ্জামান ১১, মেহেদি ৪, আসিফ ২১, জামাল ৮, শরিফুল ০, তানভীর ১* মুকিদুল ১; বিনুরা ৩-০-৯-৪, নিশাম ৪-০-২৪-২, সাকিব ৩-০-৩৭-০, সাকলাইন ৩.৫-০-২৪-১, মুরাদ ৪-০-১৫-৩)

ফলাফল : রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৬৩ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : তানজিদ হাসান তামিম।

সিরিজ সেরা : শরিফুল ইসলাম।