News update
  • Cultivation of Black Baby watermelons on a rooftop in Kalapara     |     
  • Low pressure area on Bay; Maritime ports to hoist cautionary signal 3     |     
  • Nandini killing: Man sentenced to death in Lalmonirhat     |     
  • Four of a Rangpur family killed for objecting to Yaba taking: Police     |     
  • Bangladesh Rise to Highest-Ever Sixth in Test Rankings     |     

রংপুরে ৪ হত্যাকাণ্ডের অভিযুক্ত সিদ্ধার্থকে পুলিশের হাতে তুলে দেন বাবা নিজেই

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2026-08-23, 10:51pm

rwrwerwerw-98e82afbf0c87098f85e05cb39f5e88a1787503913.jpg




রংপুরে ৪ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তার বাবা নিজেই। নিহত পরিবারের বাড়ির দেয়ালঘেঁষা বাড়িতেই বসবাস করতেন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ।

রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে ঘটনা শুনে পুলিশের কাছে নিজের ছেলেকে তুলে দেন সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তিও দাবি করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সিদ্ধার্থ গণপতি চক্রবর্তীকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করতেন। তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ডাকতেন ‘কাকি’ বলে। এতটা কাছের প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, রংপুর জিলা স্কুলের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অবসরে যান। তিনি নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। প্রায় দুই-তিন বছর আগে নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস শুরু করেন গণপতি চক্রবর্তী। শনিবার রাতে ওই বাড়ি থেকে গণপতিসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অপর ব্যক্তি হলেন মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস। তার বাবা কানু দাস। মুগ্ধ সম্পর্কে সিদ্ধার্থের মামাতো ভাইয়ের ছেলে বলে জানা গেছে। সিদ্ধার্থ নগরীর দেওয়ানবাড়ি এলাকায় পিকে জুয়েলার্সে কাজ করেন। আর মুগ্ধ সিটি বাজারের একটি মাছের দোকানে কর্মরত। রোববার বিকেলে মাছুয়া পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, গণপতি চক্রবর্তী সেই বাড়ির সামনে অনেক মানুষ ভীড় করছেন। বাড়ির মূল ফটকের পাশেই আরেকটি বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বিনয় দাস।

এ সময় বাড়ির ভেতরে গিয়ে তার সঙ্গে কথা হয়। বিনয় দাস বলেন, ‘পুলিশ এসে তার ছেলে সিদ্ধার্থের খোঁজ করেন। তিনি জানান সিদ্ধার্থ তার চাচার বাড়িতে ঘুমাতে গেছে। পরে ঘটনা শুনে তিনি নিজে তার ছেলেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন।’

এ সময় তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই এলাকায় মাদকের কারণে ঘরে ঘরে সন্তানরা নষ্ট হয়ে যাবে। আমি আমার একটা ছেলে ও প্রতিবেশীদের হারালাম। আমি চাই না আর কোনোদিন এরকম ঘটনা ঘটুক। এই ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত; তাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’

সিদ্ধার্থের মা পাপড়ী দাস বলেন, ‘আমার ছেলে খুব ভালো। ওকে মুগ্ধ নষ্ট করলো।’

এদিকে রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিবরণ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় সেখানে যাওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী, কন্যা ও পুত্র সন্তানকেও হত্যা করে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস।

এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন পুলিশ কমিশনার।