
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে রাজধানীর মিরপুরের বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চারটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়ের সাড়ে ১০ হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
আজ সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মিরপুর ও পল্লবী থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
মিরপুর মডেল থানার মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর সকাল ৮টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে অন্তত চারটি পোশাক কারখানাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় তিন থেকে চার হাজার শ্রমিক জড়ো হন। তাদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শ্রমিকেরা মাসিক ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। তাদের বেতনসংক্রান্ত বিষয়ে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা জানিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরে মিরপুর-১০ এলাকার ট্রাফিক পুলিশ বক্স ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এ সময় ইটপাটকেলের আঘাতে দায়িত্ব পালনরত নারী পুলিশ সদস্য সামিয়া আহত হন।
এ মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৬ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
পল্লবী থানার মামলার নথি থেকে জানা গেছে, গত ১ নভেম্বর পল্লবী থানার মিরপুর-১২ এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে একদল লোক পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় মিরপুর-১২ এলাকায় প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তি জড়ো হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে তারা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পুলিশের একটি সরকারি পিকআপ ভ্যানে আগুন লাগিয়ে দেন। ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের বিস্ফোরিত অংশ ও পেট্রল ভর্তি দুটি প্লাস্টিকের বোতল জব্দ করা হয়। তাদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে পুলিশের অভিযোগ।