দেশের মূল ভূখণ্ডে আঘাত করে অবশেষে দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। কিন্তু দেশের উপকূল অতিক্রমের আগে ছয় জেলায় ১১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি। সিত্রাংয়ের প্রভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন অনেক এলাকার মানুষ।
মঙ্গলবার (২৫ অক্টোবর) সকালেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বহু মানুষ।
ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে সোমবার দিনভর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে, একই অবস্থা ছিল রাতেও। এতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে মোহাম্মদপুর, মতিঝিল, পল্টন, পূর্ব তেজতুরী বাজার, মহাখালী, ধানমন্ডি, বনানী, বাড্ডা, পুরান ঢাকার বকশিবাজার ও লালবাগসহ অনেক জায়গা, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এখনও পানি জমে আছে। তবে সোমবারের তুলনায় পানি কিছুটা কম।
মঙ্গলবার সকাল থেকে রাজধানীতে বৃষ্টি নেই, দেখা মিলেছে রোদেরও। বেলা বাড়তে থাকলেও আগের বৃষ্টির পানি সরেনি অনেক সড়ক থেকেই। তবে চেষ্টা চলছে ভেঙে যাওয়া গাছগুলো সরানোর। তবে এমন অবস্থাতেই হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হচ্ছেন অনেকে। এতে ভিজে একাকার হয়ে যাচ্ছেন ঘরের বাইরে আসা এসব এলাকার মানুষ। কেউ আবার রিকশার সিটের ওপরে বসে, কেউবা ভ্যানে করে কোনোভাবে পানি পার হচ্ছেন।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং ড্রেনের পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক করতে দিন-রাত কাজ করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মীরা। এ বিষয়ে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মকবুল হোসাইন সংবাদমাধ্যমকে জানান, ডিএনসিসির জলাবদ্ধতা নিরসনে এবং ড্রেনের পানি নিষ্কাশনে সোমবার থেকেই একাধিক টিম কাজ করে যাচ্ছে।
সৈকত হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার অফিস বনানীতে। নেভি হেডকোয়ার্টার থেকে বনানীর দিকে আসার সময় রাস্তায় পানি দেখলাম। প্রতিদিন যে সময় নিয়ে অফিসে আসি আজ তার থেকে অনেক বেশি সময় লেগেছে। রাস্তায় পানি জমে থাকার কারণে গাড়িগুলো আস্তে আস্তে চলছে।
কামাল হোসেন নামে একজন বলেন, মোহাম্মদপুর বসিলা এলাকায় রাস্তায় পানি জমে আছে। তবে গতকালের থেকে পানি কম এখন।
বেলাল মিয়া নামে এক ব্যক্তি বলেন, আমার ছেলেকে নিয়ে পূর্ব বাড্ডার পাঁচতলা বাজার থেকে মধ্যবাড্ডায় নভেশন স্কুলে আসার পথে দেখলাম রাস্তায় পানি জমে আছে। তার কারণে আগে এই রাস্তায় ভাড়া নিত ২০ টাকা, কিন্তু আজ পানির কারণে দিতে হয়েছে ৫০ টাকা। পানির কারণে সময়ও বেশি লেগেছে টাকাও দিতে হয়েছে দ্বিগুণ।
হাবিব নামে এক রিকশাচালক বলেন, পানিতে রাস্তা ডুবে যাওয়ায় অনেক ভয়ে ভয়ে রিকশা চালাতে হচ্ছে। কারণ, কোথাও যদি রাস্তা ভাঙা থাকে তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আস্তে রিকশা চালালেও ভাড়াও একটু বেশিই নেই হচ্ছে।
এদিকে রাজধানীর শান্তিনগর, বসুন্ধরা সিটির সামনে ও ভেতরে, শাহবাগসহ বিভিন্ন জায়গায় বেশ কিছু বড় গাছ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গাছ উপড়ে যোগাযোগ বন্ধ হলেও মঙ্গলবার ভোররাত নাগাদ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে দেশের সড়ক যোগাযোগও অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। দুটি মহাসড়কেই সীমিত আকারে যান চলাচল শুরু হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের উপকূলীয় এলাকার লাখ লাখ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হলেও মঙ্গলবার সকালের পর ধীরে ধীরে ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। তথ্য সূত্র আরটিভি নিউজ।